শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৫

যে কারণে পান খাবেন না

পান খাওয়া মানে পান পাতা চিবানো নয়। চুন, সুপারী, খয়ের, জর্দা ইত্যাদি দিয়ে পান পাতা চিবানোর নাম হল পান খাওয়া। আমার এ প্রবন্ধে পান খাওয়া বলতে প্রচলিত এ তরীকাকে বুঝানো হবে। প্রচলিত এ পদ্ধতিতে পান খাওয়ার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে আমাদের এ উপমহাদেশে। এ ছাড়া বিশ্বের অন্য কোথাও এ ধরনের পান খাওয়ার ব্যাপকতা দেখা যায় না বলেই মনে হয়। অনেকের ধারণা মোঘল আমলে পান খাওয়ার প্রচলন ব্যাপকতা লাভ করে।
যারা পান খেয়ে থাকেন তাদের আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি।
প্রথমতঃ যারা অত্যাধিক পান খেতে অভ্যস্ত পান ছাড়া একটি ঘন্টা কাটানো তাদের জন্য খুব মুশকিল হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে শতকরা নিরানব্বই জনের বেশী পান, সুপারী, ও চুনের সাথে তামাক-জর্দা, খয়ের ইত্যাদি খেয়ে থাকেন।
দ্বিতীয়তঃ যারা সাড়াদিন পান খেতে অভ্যস্ত নন তবে খাওয়ার পর একটু পান না খেলে চলে না। এদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ পানের সাথে তামাক-জর্দা ও খয়ের গ্রহণ করে থাকেন।
তৃতীয়তঃ যারা পেশাদার পানখোর নন, তবে কোন বিশেষ দাওয়াত বা অনুষ্ঠানে পান ট্রাই করে থাকেন।
আর যারা একে বাড়ে পান দু চোখে দেখতে পারেন না তাদের আলোচনা না-ই করালাম।
 তবে পান খাওয়া ঠিক কিনা? স্বাস্থ্য বিশারদদের দৃষ্টিতে পান খাওয়া কতটা মন্দ? ধর্মীয় দৃষ্টিতে পান খাওয়ার বিধান কি? এ সব প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করা হবে এ লেখায়।
আমাদের দেশের সাধারণ শিক্ষিতদের তুলনায় ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত তথা আলেম সমাজ ও মাদরাসা ছাত্রদের মধ্যে পান খাওয়ার প্রবণতা বেশী দেখা যায়। আপনি যদি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় যান, দেখবেন, সেখানে পান খাওয়া ছাত্র-ছাত্রী তেমন একটা চোখে পড়বে না। কিন্তু মাদরাসা ছাত্র ও আলেম সমাজের শতকরা চল্লিশ জন পান খেয়ে থাকেন।
তারা বিড়ি-সিগারেট, গাজা-মদ না খেয়ে যে সুনাম অর্জন করেছেন পান খেয়ে যেন তার কাফফারা আদায় করতে চান।
আমাদের দেশের আলেমগন পান খাওয়াকে জায়েয মনে করেন। কিন্তু আরব দেশের আলেমগন পান খাওয়াকে হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছেন। এ কারণে সৌদী আরবে পান খাওয়া সরকারী ভাবেই নিষিদ্ধ।
যা মানুষের স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর তা খাওয়া ইসলামী শরীয়াহ অনুমোদন করেনা। বরং নিষেধ করে। যদিও পান পাতা স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর বলে এখনো প্রমাণিত হয়নি তবে চুন, সুপারী, খয়ের, জর্দা স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে চিকিৎসা ও স্বাস্থ বিজ্ঞানীদের কারো দ্বিমত নেই।
 যখন কোন রোগী ডাক্তারের কাছে যায় তখন ডাক্তার তাকে পান ত্যাগ করার পরামর্শ দেন। কোন ডাক্তার কাউকে পান খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে আজ পর্যন্ত শোনা যায়নি। চুন, সে তো কোন খাদ্য তালিকায় পড়ে না। জর্দা; সে তো তামাক। সুপারী চিবানো স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। ক্যানসার সৃষ্টিতে সহায়তা করে। সমপ্রতি এক খবরে প্রকাশ মার্কিন গবেষকরা দীর্ঘদিন গবেষণার পর প্রমাণ করেছেন সর্বদা সুপারী চিবানোর ফলে মুখে ক্যানসার হতে পারে। যারা সুপারী খেয়ে থাকেন তাদের মুখে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী।
(দৈনিক ইনকিলাব ৮ ই আগষ্ট ২০০৪)
অবশ্য পানের রস দিয়ে ব্লাড ক্যানসারের প্রতিষেধক উদ্ভাবনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। কিছুটা সফল ও হয়েছেন।
তাই আপনি যে কারণে পান খাওয়া ছেড়ে দেবেন তা একটু আলোচনা করা যাক।
(১) আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন :
তিনি তোমাদের জন্য পবিত্র ও ভাল বস্তু হালাল করেন আর ক্ষতিকর ও নোংড়া বিষয় হারাম করেন।
( সূরা আল-আরাফ, আয়াত -১৫৭)
সকল চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেছেন পান খাওয়া স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। ডাক্তার তার রোগীকে পান খেতে বারণ করেন।
পান খাওয়ার মধ্যে কোন উপকারিতা থাকলেও থাকতে পারে তবে ক্ষতির দিকটা প্রবল।
আল্লাহ তায়ালা মদ ও জুয়া হারাম করতে যেয়ে বলেন:
তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিন উভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর তার মধ্যে মানুষের জন্য উপকারিতাও আছে। তবে এগুলোর পাপ উপকারের চেয়ে বড়।
 সূরা আল-বাকারা, আয়াত- ২১৯
আল্লাহ তাআলার এ বাণী দ্বারা বুঝে আসে মদের মধ্যে উপকারিতা থাকা সত্বেও তা হারাম করেছেন। কারণ তার মধ্যে ক্ষতির বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।
পানের মধ্যে উপকারিতা থাকলেও তার ক্ষতির দিকটা বড় কর দেখা হবে। ইসলামি ফিকাহর মূলনীতি তা-ই বলে।
(২) প্রত্যেক খাদ্যের মধ্যে দুটো গুণের কমপক্ষে একটি থাকে। গুণ দুটো হল (ক) পুষ্টি জোগান (খ) ক্ষুধা নিবারণ।
কিন্তু পান পুষ্টিও যোগায় না ক্ষুধাও নেভায় না।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জাহান্নামীদের খাদ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন :
এটা তাদের পুষ্টি যোগাবে না এবং ক্ষুধা নিবারণ করবে না।
 সূরা আল- গাশিয়াহ, আয়াত ৭
তাই গুণগত দিক দিয়ে পানকে জাহান্নামীদের খাদ্যের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এ আয়াতের আলোকে এমন খাদ্য গ্রহণ করা ঠিক নয় যা ক্ষুধা নিবারণ করে না বা পুষ্টি যোগান দেয় না।
(৩) পান দাঁত-কে কলুষিত করে। আর ইসলামের নবী সাইয়েদুনা মুহাম্মাদ সা. দাঁতকে সর্বদা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি তার উম্মতকে মিছওয়াক করার আদেশ দিয়েছেন খূব গুরুত্ব সহকারে। আর বলেছেনঃ এ মিছওয়াক তথা দাত ব্রাশ করার উদ্দেশ্য হল মুখের পরিচ্ছন্নতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি।
যিনি পান খেয়ে থাকেন তিনি শত চেষ্টা করেও দাঁতকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারেন না। তাই পান খাওয়ার মাধ্যমে ইসলামী শরীয়তে মিছওয়াকের যে উদ্দেশ্য রয়েছে তা মারাত্নকভাবে ব্যহত হয়।
(৪) চুন ছাড়া পান খাওয়ার কথা কল্পনা করা যায় না। আর চুন কোন খাদ্যের মধ্যে পড়ে না। চুন পিত্তথলিতে পাথর তৈরীতে সহায়তা করে।
(৫) পানে সুপারী খাওয়া হয়। সুপারী নেশা উদ্রেক করে। যিনি সুপারী খেতে অভ্যস্ত নন তিনি সুপারী খাওয়ার সাথে সাথে কিছুটা বেহুঁশ হয়ে পড়েন। তাই সুপারী কোন স্বাভাবিক খাদ্য নয়।
(৬) পান-খাদক ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দিয়ে থাকেন। আপনি যদি পান খেতে অভ্যস্ত না হয়ে থাকেন আর আপনার বাসায় এমন একজন মেহমান আসে যিনি পান খেয়ে থাকেন, তাহলে তার আচরণে আপনি বিরক্ত হবেন। দেখবেন আপনার পরিস্কার ঘরের এখানে সেখানে পানের চিপটি। বিছানার চাঁদরগুলোতে দাগ পড়ে গেছে। বেসীনগুলো এমন লালচে হয়ে পড়েছে যা দেখলে আপনার অসহ্য লাগবে। পানখোর এভাবে পরিবেশ-কে নোংড়া করে। যেখান পান খাওয়া লোকদের আশা যাওয়া বেশী সে সকল অফিস আদালত থেকে একটু ঘুরে আসুন, দেখবেন পান পরিবেশকে কিভাবে নোংড়া করে।
এমনিভাবে আপনি যদি এক পানখাদকের কাছে সালাত আদায় করতে দাঁড়ান তাহলে সত্যিই আপনার কষ্ট হবে তার মুখের দুর্গন্ধে। বিশেষ করে ফজরের নামাজে।
অনেকে বলেন পান খেলে মুখে দুর্গন্ধ হয় না বরং পান মুখের দুর্গন্ধ দূর করে। আমি বলি কথাটি ঠিক, তবে তা দুটি অবস্থায়; যতক্ষণ পান খেতে থাকে ততক্ষণ দুর্গন্ধ হয় না। আর যদি পার্শের ব্যক্তি অনুরূপ পানখোর হয়ে থাকেন তাহলে তিনি দুর্গন্ধ অনুভব করেন না। এ ছাড়া সর্বাবস্থায় পানখাদকের মুখ থেকে পান- সুপারী, তামাক-মিশ্রিত দুর্গন্ধ বের হতে থাকে।
আর প্রতিবেশী বা সহযাত্রীর কষ্ট হয় এমন কোন কাজ করা জায়েয নয়।
(৭) অনেক পান খেতে অভ্যস্ত ব্যক্তিকে দেখেছি যে তারা পান খাওয়া সত্বেও দাঁত পরিস্কার রাখার ব্যাপারে অত্যাধিক যত্নবান থাকেন। বার বার মেছওয়াক ও ব্রাশ করেন। বিভিন্ন ধরণের টুথপেষ্ট ও টুথপাউডার ব্যবহার করেন। তবুও তারা দাঁতকে পানের দাগ থেকে মুক্ত রাখতে পারেননি। তাদের দাঁত কালো রং ধারণ করে বিশ্রি হয়ে গেছে। এখন আপনি ভেবে দেখতে পারেন যে, দাঁত ও মুখ এমন এক স্থান যা বার বার পরিস্কার করা হয় ও স্বভাবত এ স্থানটা ময়লা আটকে রাখে না তা সত্বেও দাঁত ও মুখ পান দ্বারা কিভাবে কলুষিত হয়ে থাকে। তাহলে পানের সংস্পর্ষে দেহের ঐ সকল ভিতরের অংশের অবস্থা কেমন হয়ে যায় যা পরিস্কার করা যায় না কখনো?
(৮) একটু বিবেক দিয়ে কল্পনা করুন যে, রাসূলে কারীম সা. এর কাছে এক ব্যক্তি পান চিবাতে চিবাতে আসল। তিনি তার মুখের দিকে তাকালেন। দেখলেন তার মুখ ও জিহবা পানের রংয়ে লাল ও দাঁতগুলো কালো হয়ে গেছে। তখন তিনি তাকে কি বললেন? তিনি কি বলবেনঃ খুব ভাল জিনিষ খাচ্ছো, তুমি আমাদেরও পান খেতে দাও? না বলবেন, পান খেলে মুখ ও দাঁতের স্বাভাবিক সৌন্দর্য- যা আল্লাহ দান করেছেন- নষ্ট হয়?
এ প্রশ্নটা নিজের বিবেকের কাছে করুন। অতঃপর সিদ্ধান্ত নিন; পান খাবেন, না ত্যাগ করবেন।
(৯) পান খেলে সম্পদের অপচয় হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ
তোমরা খাবে ও পান করবে কিন্তু অপচয় করবে না।
সূরা আল-আরাফ, আয়াত- ৩১
এ আয়াত দ্বারা বুঝে আসে মানুষ সাধারণত খাওয়া ও পান করার মধ্যে সম্পদের অপচয় করে থাকে।
আর যা কিছু মুখে দিয়ে গলধকরণ করা যায় তা উপকারী হোক বা না হোক, তা খাওয়া বা পান করার অনুমতি দেয়া হয়নি। যদি খাদ্যটা উপকারী না হয় তবে তার পিছনে সম্পদ ব্যয় করার নাম অপচয়। তাই পান খাওয়া একটি অপচয়।
(১০) পান খাওয়া একটা অনর্থক কাজ। সকল অনর্থক কাজ পরিহার করা ইসলামের দাবী। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আল-কুরআনে মুমিনদের গুণাবলি আলোচনা করতে যেয়ে বলেছেনঃ
যারা অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকে।
সূরা আল- মুমিনুন, আয়াত- ৩
রাসূলে কারীম সা. বলেছেন, যে সকল কথা ও কাজ মানূষের কোন উপকারে আসে না তা পরিহার করা হল তার ইসলামের সৌন্দর্য।
(মুসলিম)
তাই পান খাওয়ার মত অনর্থক কাজ সকলের পরিহার করা উচিত।
আমার এ লেখার সাথে একজন প্রখ্যাত চিকিৎসকের পান সম্পর্কিত একটি লেখা হুবুহু নিম্নে তুলে ধরলাম -
পান সুপারির ক্ষতির ক্ষতিয়ান
পানের উৎপত্তি মালয়েশিয়াতে। পরবর্তী সময়ে ভারত হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পানের বিস্তার লাভ করে। ধুমপানের পাশাপাশি পান সেবন আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। গ্রামাঞ্চলে পান দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন প্রায় ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
পানে আছে কিছু টারফেনলস। এ কারণে ঠোট ও জিহবায় দাগ পড়ে। দাঁতেও স্থায়ী দাগ পড়ে। অনেকেই ভেবে থাকেন, জর্দা বা তামাক পাতা ছাড়া শুধু সুপারি দ্বারা পান সেবন করলে তেমন কোন ক্ষতি হয় না। এটা ঠিক না। আসলে কেউ এভাবে পান খায়ও না?
চুনঃ পানের সঙ্গে চুন হল ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা ক্যালসিয়াম হাইড্রো-অক্সাইড। চুনের প্যারাঅ্যালোন ফেনল মুখে আলসার বা ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। সুপারি চুনের সঙ্গে বিক্রিয়া ঘটিয়ে এরিকোলিন নামক নারকোটিক এলকালয়েড উৎপন্ন করে। এটি এরিকোলিন প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এ কারণে চোখের মণি সংকুচিত হয় এবং মুখে লালার নি:সরণ বেড়ে যায়। শুধু তাই নয় চোখে পানিও আসতে পারে। তবে এক-খিলি পান-সুপারি খেলে এ পরিবর্তন নাও দেখা যেতে পারে।
সুপারিঃ কাঁচা সুপারি চিবালে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। উচ্চ মাত্রার সাইকোঅ্যাকটিভ এলকালয়েড থাকার কারণে এমন হয়। কাঁচা সুপারি চিবালে শরীরে গরম অনুভূত হয়, এমনকি শরীর ঘেমে যেতে পারে। সুপারির উত্তেজক পদার্থ নিকোটিনের সঙ্গে তুলনা করা যায়। সুপারি খেলে তাৎক্ষণিকভাবে যে সমস্যা হতে পারে তা হল-
(ক) অ্যাজমা বেড়ে যেতে পারে।
(খ) হাইপারটেনশন বা রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে
(গ) ট্যাকিকার্ডিয়া বা নাড়ির স্পন্দনের হার বেড়ে গিয়ে অস্থিরতা অনুভূত হতে পারে। দীঘদিন ধরে সুপারি খেলে মুখে সাবমিউকাস ফাইব্রোসিস হতে পারে। এটি ক্যানসারের পূর্বাবস্থা, যা ক্যান্সারেও রূপান্তরিত হতে পারে।
সাদা পাতা বা জর্দাঃ ক্যান্সার গবেষণার আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএআরসি-এর মতে, যারা পানের সঙ্গে তামাক জাতীয় দ্রব্যাদি গ্রহণ করেন, তাদের সাধারণের চেয়ে ৫ গুণ বেশি মুখে ক্যান্সার হওয়ার আশংকা থাকে। জর্দার অ্যালকালয়েড ও নিকোটিন অধিক মাত্রায় বিষাক্ত, তাই এত যতই সুগন্ধি মেশানোই হোকনা কেন তা জীবনের সৌরভ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনে।
খয়েরঃ খয়ের লাল রঙের বলে পান খেলে খুব কম সময়ের মধ্যে মুখ লাল হয়ে যায়। খয়ের এসট্রিনজেন্ট হিসেবে কাজ করে মুখের অভ্যন্তরের মিউকাস মেমব্রেন বা আবরণীকে সংকুচিত করে।

ডা. মোঃ ফারূক হোসেন
দৈনিক যুগান্তর, ১৩ ই মে ২০০৮

ইসলাম পর্দার আড়ালে রেখে নারীদেরকে কেন অবমূল্যায়ন করেছে?

ইসলামে নারীর মর্যাদা’- ধর্মহীন প্রচার মাধ্যমগুলোর উপর্যপুরি আক্রমণের লক্ষ্যস্থল- ‘হিজাব’ বা ইসলামী পোশাক। ইসলামী বিধি বিধানে নারী নিগ্রহের সবচাইতে বড় প্রমাণ হিসেবে যা কথায় কথায় দেখানো হয়। ধর্মীয়ভাবে নারীর জন্য রক্ষণশীল পোশাক বা পর্দা ফরয করার নেপথ্য কারণগুলো আলোচনার পূর্বে ইসলাম আগমনের পূর্বে বিশ্বসমাজে সামগ্রীকভাবে নারীর অবস্থা ও অবস্থান কি ছিল তা নিয়ে কিঞ্চিৎ পর্যালোচনা প্রয়োজন।
 ক. ইসলাম-পূর্ব কালে নারীর-মর্যাদা বলতে কোনো ধারণার অস্তিত্ব ছিলনা। তারা ব্যবহৃত হতো ভোগ্য সামগ্রী হিসেবে
 নিম্নে বর্ণিত বিষয়গুলো সর্বজনমান্য বিশ্ব-ইতিহাস থেকে তুলে আনা হয়েছে। সমুদয় মিলে যে চিত্র আমাদের চোখের সামনে উঠে আসবে তাতে আমরা সুস্পষ্ট দেখতে পাবো ইসলাম-পূর্ব সভ্যতাগুলোতে নারীর ‘মর্যাদা’ বলতে কিছুই ছিলনা। হীন নীচ এমনকি নুন্যতম ‘মানুষ’হিসেবেও তারা গণ্য ছিল না।
 ১. ব্যাবিলনীয় সভ্যতাঃ ব্যাবিলনীয় আইনে নারীর কোনো ধরণের কোনো অধিকার স্বীকৃত ছিলনা। মূল্য-মর্যাদা কি ছিল একটি উদাহরণে তা স্পষ্ট করে দেবে। কোনো পুরুষ যদি ঘটনাক্রমে কোনো নারীকে হত্যা করে তাহলে তাকে শাস্তি দেবার পরিবর্তে তার স্ত্রীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হতো।
 ২. গ্রীক সভ্যতাঃ গ্রীক সভ্যতাকে পূর্বকালের সকল সভ্যতার শ্রেষ্ঠতম ও উজ্জ্বলতম গণ্য করা হয়। তথাকথিত এই উজ্জ্বলতম সভ্যতায় নারী ছিল সব রকম অধিকার থেকে বঞ্চিত। উপরন্তু অস্তিত্বগত ভাবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট। একারণে তাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখা হতো। গ্রীক পৌরাণিক শাস্ত্রের এক কাল্পনিক নারী যার নাম “প্যানডোরা”। বিশ্ব মানবতার সকল দুর্ভাগ্যের মূল কারণ সেই নারী। তাই গ্রীকরা নারীকে ‘প্রায় মানুষ’ অর্থাৎ মানুষের মতো বটে, কিন্তু সম্পূর্ণ নয় বলে মনে করত। পুরুষের সাথে তার কোনো তুলনাই হয় না এমন। অপরদিকে নারীর সতীত্ব ছিল মহামূল্যবান কিছু এবং দেবীর মতো সম্মানও করা হতো। কিছুকাল পরেই এই গ্রীকরা আত্মঅহংকারের উত্তুঙ্গে উঠে ধরা পড়ে বিকৃত যৌনাচারের হাতে, বেশ্যালয়ে গমনাগমন সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছি।
 ৩. রোমান সভ্যতাঃ যখন তার বিকাশের শিখর চূড়ায় তখন একজন পুরুষ যে-কোনো সময় তার স্ত্রীকে হত্যা করার অধিকার রাখতো। নগ্ন নারী যে-কোনো আসরের সৌন্দর্য এবং বেশ্যালয় যাতায়াত পুরুষের সংস্কৃতি।
 ৪. মিসরীয় সভ্যতাঃ মিসরীয় সভ্যতায় নারী ‘ডাইনী’ এবং শয়তানের নিদর্শন হিসেবে গণ্য হতো।
 ৫. ইসলাম পূর্ব আরবঃ ইসলাম পূর্ব আরবে নারীর অবস্থান ছিল ঘরের অন্যান্য ব্যবহারীক আসবাবপত্রের মতো। অনেক পিতা অসম্মানের হেতু হিসেবে তার শিশুকণ্যাকে জীবন্ত কবর দিত।

 খ. ইসলাম নারীকে ওপরে উঠিয়েছে। দিয়েছে তাদেরকে সমতা এবং প্রত্যাশা করে- তারা তাদের মর্যাদা রক্ষা করবে।
 ইসলাম নারীর মর্যাদাকে ওপরে উঠিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে। ইসলাম নারীর মর্যাদাকে সংরক্ষণ করতে চায়।
 পুরুষের পর্দাঃ মানুষ সাধারণত পর্দা নিয়ে আলোচনা করে নারীদের ক্ষেত্রে। অথচ জ্যোতীর্ময় কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা নারীর পর্দার আগে পুরুষের পর্দার কথা বলেছেন। সূরা নূরে বলা হয়েছে।
• বলো! বিশ্বাসী পুরুষদেরকে- তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের শালীনতা রক্ষা করে। এটা তাদেরকে আরো পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন (মানসিকতার) করে তুলবে, আর আল্লাহ কিন্তু সেই সব কিছুই জানেন যা তোমরা করো। (২৪:৩০)
যে মুহুর্তে কোনো পুরুষ একজন নারীর দিকে তাকাবে- লজ্জাকর অশ্লীল চিন্তা তার মনে এসে যেতে পারে। কাজেই তার দৃষ্টি অবনত রাখাই তার জন্য কল্যাণকর।

 নারীর জন্য পর্দাঃ সূরা নূরের পরবর্তী আয়াতে বলা হচ্ছেঃ
• এবং বলো, বিশ্বাসী নারীদেরকে- তারা তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান সমূহের সযত্ন সংরক্ষণ করে এবং তাদের দৈহীক সৌন্দর্য ও অলংকারের প্রদর্শনী না করে। তবে অনিবার্য্য ভাবে যা উন্মুক্ত থাকে। তারা যেন তাদের বক্ষের ওপরে চাদর ঝুলিয়ে দেয় এবং প্রদর্শন না করে তাদের সৌন্দর্য, তাদের স্বামী তাদের পিতা তাদের স্বামীর পিতা (শশুর) এবং সন্তানদের ছাড়া। (২৪:৩১)

গ. হিজাবের ছয়টি শর্ত
 কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী হিজাব পালনের ছয়টি শর্ত।
 ১. মাত্রা বা পরিমাণঃ প্রথম শর্ত হলো দেহের সীমানা যা যতটুকু-অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে। নারী ও পুরুষের জন্য এটা ভিন্ন ভিন্ন। পুরুষের জন্য ঢেকে রাখার বাধ্যতামূলক পরিসীমা তার দেহের নুন্যতম নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। নারীর জন্য এই পরিসীমা আরো বিস্তৃত- কব্জী পর্যন্ত হাত এবং মুখমন্ডল ছাড়া বাদবাকি শরীরের সকল অংশ ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক। তারা যদি চায় তাহলে তা-ও আবৃত করে নিতে পারে। ইসলামের বিশেষজ্ঞ আলেমগণের অনেকেই হাত ও মুখমন্ডলকেও বাধ্যতামূলক ঢেকে রাখার অংশ মনে করেন। বাদবাকি পাঁচটি শর্ত নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে একই রকম প্রযোজ্য।
 ২. পরিধেয় পোষাক ডিলেডালা হতে হবে। যেন দেহের মূল কাঠামো প্রকাশ না পায়।
 ৩. পরিধেয় কাপড় এতটা পাতলা ও স্বচ্ছ হতে পারবেনা যাতে ভেতরটা দেখা যায়।
 ৪. পোশাক এতটা আকর্শণীয় ও জাকজমকপূর্ণ হতে পারবে না যাতে বিপরীত লিঙ্গ আকর্ষিত হয়।
 ৫. পোশাক এমন হতে পারবে না যা বিপরীত লিঙ্গের পোশাকের মতো বা সমরুপ।
 ৬. পোশাক এমন হতে পারবে না দেখতে অবিশ্বাসীদের মতো। তাদের এমন কোনো পোশাক পরা উচিৎ নয় যা বিশেষভাবে পরিচিত এবং চিহ্নিত অন্য ধর্মাবলম্বীদের (যারা মূলত অবিশ্বাসী)।

ঘ. অন্যান্য জিনিসের মধ্যে আচার-আচারণও হিজাবের অন্তর্ভুক্ত
 ছয় ধরনের পরিচ্ছদের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ পর্দা ব্যক্তির নৈতিক চরিত্র, আচার-আচারণ, অভিব্যক্তি এবং লক্ষ উদ্দেশ্যকেও একিভূত করে। একজন ব্যক্তি সে যদিও শুধু কাপড়-চোপড়ে হিজাব পালন করে তাহলে সে ‘হিজাব’ পালক করলো ন্যূনতম পর্যায়ের। পোশাকের পর্দা পালনের সাথে সাথে চোখের পর্দা, মনের পর্দা ,চিন্তা-ভাবনার পর্দা এবং লক্ষ্য উদ্দেশ্যের পর্দাও থাকতে হবে। পর্দার সীমার মধ্যে আরো যা পড়ে, তা হলো- ব্যক্তির চলা, কথা বলা এবং তার সার্বিক আচরণ ইত্যাদি।

 ঙ. হিজাব বা পর্দা অহেতুক উৎপীড়ন প্রতিরোধ করে
 নারীকে কেন পর্দার বিধান দেয়া হয়েছে কুরআন তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। সূরা অহ্‌যাবে বলা হয়েছেঃ
• হে নবী! বলুন আপনার স্ত্রী ও কন্যাদেরকে এবং বিশ্বাসী নারীদেরকে যে, তারা যেন তাদের বহিরাবরণ পরে থাকে (যখন বাইরে যাবে)। এটা তাদের পরিচিতির অত্যন্ত উপযোগী। (তারা যেন পরিচিত হয়ে বিশ্বাসী-নারী হিসাবে) তাহলে আর অহেতুক উৎপিড়ীত হবে না। আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল দয়াবান। (৩৩:৫৯)
জ্যোতীময় কুরআন বলছেঃ নারীকে পর্দার বিধান দেয়া হয়েছে এই জন্য যে, তারা যেন রুচিশীলা পরিচ্ছন্ন নারী হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। এবং এটা তাদেরকে লজ্জাকর উৎপীড়নের হাত থেকে রক্ষা করবে।

 চ. দু’টি জমজ বোনের উদাহরণ
 ধরা যাক জমজ দু’টি বোন। উভয়ই অপূর্ব সুন্দরী। ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। তাদের একজন পরেছে ইসলামী হিজাব। অর্থাৎ সম্পূর্ণ দেহ আবৃত। শুধু কব্জী পর্যন্ত হাত ও মুখমন্ডল খোলা। অন্যজন পরেছে পশ্চিমা পোশাক। শরীরের অধিকাংশ খোলা এবং প্রায় অর্ধ-উলঙ্গ। সামনেই এক মোড়ে আড্ডা দিচ্ছে এক দঙ্গল যুবক। মেয়েদেরকে দেখে হৈ-হল্লা করা, শীশ দেয়া আর বাগে পেলে উত্ত্যক্ত করাই তাদের কাজ। এখন এই দুই বোনকে যেতে দেখে তারা কাকে উদ্দেশ্য করে হল্লা করবে ? শীশ দেবে ? যে মেয়েটি নিজেকে ঢেকে রেখেছে তাকে দেখে? না যে মেয়েটি প্রায় উদোম হয়ে আছে তাকে দেখে? খুব স্বাভাবিক ভাবেই তাদের চোখ যাবে যে কিনা দেখাতে চায় তার দিকে। কার্যত এ ধরনের পোশাক বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ‘ভাষাহীন নিরব আমন্ত্রণ’। যে কারণে বিপরীত লিঙ্গ উত্তেজিত হতে বাধ্য হয়। জ্যোর্তীময় কুরআন যথার্থই বলেছে- ‘হিজাব নারীদের উৎপীড়ন থেকে রক্ষা করে’।

ছ. ধর্ষকের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি মৃত্যুদন্ড
 ইসলামের বিধান অনুযায়ী একজন পুরুষ যদি কোনো নারী ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে তার শাস্তি প্রকাশ্য মৃত্যুদন্ড। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন এই কঠিন বাক্য শুনে। কেউ কেউ তো বলেই বসেন, ইসলাম অত্যন্ত নিষ্ঠুর, বর্বরদের ধর্ম। শত শত অমুসলিম পুরুষের কাছে আন্তরিকভাবে জানতে চেয়েছি- ধরুন, আল্লাহ না করুন কেউ একজন আপনার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে অথবা আপনার বোন বা কন্যা। আপনাকে বিচারকের আসনে বসানো হয়েছে এবং ধর্ষণকারীকে আপনার সামনে হাজির করা হয়েছে। কি শাস্তি দেবেন তাকে? প্রত্যেকেই উত্তর একটিই-“মৃত্যুদন্ড”। কেউ বলেছেন, ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে আমার চোখের সামনে ব্রাস ফায়ার করে ঝাঝরা করে দিতে বলব। কেউ বলেছেন ওকে তিল তিল করে মৃত্যুর স্বাদ দিয়ে মারতে বলব। এই উত্তর দাতাদের কাছেই আমার প্রশ্ন,আপনার মা-বোন স্ত্রী কন্যাকে কেউ ধর্ষণ করলে তাকে ওভাবে মেরে ফেলতে চান। কিন্তু এই একই অপরাধ যদি অন্য কারো স্ত্রী-কন্যার ওপর ঘটে তখন এই আপনিই বলেন মৃত্যুদন্ড অত্যন্ত কঠোর ও নিষ্ঠুর হয়ে যায়। কেন ভাই, একই অপরাধের জন্য ক্ষেত্রভেদে দুই রকম দন্ড?

জ.নারীকে মর্যাদা দেবার পশ্চিমা সমাজের দাবি সর্বৈভ মিথ্যাচার
 নারী স্বাধীনতার পশ্চিমা শ্লোগান একটি প্রকাশ্য প্রতারণা। তার দেহের সৌন্দর্যকে খুলে খুলে ব্যবসা করার একটি লোভনীয় ফাঁদ। তার আত্মার অবমাননা এবং তার সম্মান ও মর্যাদাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আর প্রকাশ্য বাস্তবতা হলো তাদেরকে তাদের সম্মানিত অবস্থান থেকে নামিয়ে উপপত্নী, রক্ষিতা এবং সৌখিন সমাজের লালসা পূরনের জন্য উড়ন্ত প্রজাপতি বানিয়ে ছেড়েছে। ফলে তারা এখন বিলাসী পুরুষের নাগালের মধ্যে থাকা ভোগের পুতুল আর যৌন কারবারীদের ব্যবসায়ের সস্তা পণ্য। যা আড়াল করা হয়েছে শিল্প ও সংস্কৃতির মনোলোভা রঙিন পর্দা দিয়ে।

 ঝ. নারী ধর্ষণের হার আমেরিকায় সর্বোচ্চ
 উন্নত বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অবস্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্য। নৈমিত্যিক সংঘটিত নারী ধর্ষণের হার সারা বিশ্বে তার রেকর্ড কেউ স্পর্শও করতে পারবে না। ১৯৯০ সালের এফবিআই-এর দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী গোটা আমেরিকা জুড়ে প্রতিদিন গড়ে ১৭৫৬ টি নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী পর্যায়ে আরো একটি রিপোর্টে প্রকাশিত হয় যাতে প্রতিদিন সংঘটিত ধর্ষণ অপরাধে সংখ্যা ১৯০০ উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে সন উল্লেখ করা নেই তবে অনুমান করা হয় তা ১৯৯২ বা ১৯৯৩ সালের কথা। হয়তো আমেরিকানরা পরবর্তী দু’তিন বছরে আরো ‘সাহসী’ হয়ে উঠেছে।
 আবার একটা কাল্পনিক দৃর্শপট পর্যবেক্ষণ করা যাক- আমেরিকান নারী সমাজ ইসলামী হিজাব পালন করছে। যখনি কোনো পুরুষ কোনো নারীর দিকে তাকাচ্ছে, কোনো অশ্লীল চিন্তা মনে এসে যেতে পারে ভাবার সাথে সাথে সে তার দৃষ্টিকে নীচে নামিয়ে নিচ্ছে। পথে ঘাটে যেখানেই কোনো নারী দৃশ্য হচ্ছে, কব্জী পর্যন্ত তার দুটি হাত আর নেহায়েত সাদামাটা সাজগোজহীন মুখমন্ডলের কিয়দাংশ ব্যাস,বাদবাকি সব ডোলাডালা হিজাবে ডাকা। তদুপুরি রাষ্ট্রীয় বিধান এমন যে, যদি কোনো পুরুষ ধর্ষণের অপরাধ করে তার জন্য নির্দিষ্ট-জনসমক্ষে প্রকাশ্য মৃত্যুদন্ড।
 এবার আপনাকে প্রশ্ন করছি, গোটা পরিবেশটা যদি সত্যি সত্যিই এমন হয় তাহলে আমেরিকার এই নারী ধর্ষণের ভঙ্ককর হার বাড়তে থাকবে না একই অবস্থানে থাকবে? নাকি কমে যাবে এবং কমতে কমতে একদিন এই জঘন্য অপরাধ নিঃশেষ হয়ে যাবে।

 ঞ. ইসলামী শরীয়তের পুর্ণাঙ্গ বিধান কার্যকর হলে ধর্ষনের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে খুব স্বাভাবিক ভাবেই।
 কেননা শরীয়তের বিধান, মানুষেরই জন্য তাদের সৃষ্টিকর্তা বিধাতার নির্বাচিত বিধিবিধান যদি কার্যকর হয় তাহলে তার ফলাফল কল্যাণী অমিয় ধারা হযে বেরিয়ে আসতে শুরু করবে। ইসলামী শরীয়ত যদি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় পৃথিবীর যে কোনো ভূখন্ডে- তা আমেরিকাই হোক অথবা ইউরোপ বা পৃথিবীর অন্যান্য যে কোনো দেশে। তার প্রথম প্রতিক্রিয়া হবে এই যে, সে দেশের গোটা সমাজ একসাথে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেবে।
 কাজেই ‘হিজাব’ নারীকে অপদস্ত করেনি বরং উপরে তুলে সম্মানের আসন দিয়েছে। আর সংরক্ষণ করেছে তার শালীনতা ও পবিত্রতা।

কে রোগাক্রান্ত?আস্তিক নাকি নাস্তিক?

গ্রীক ঐতিহাসিকদের যুগ থেকেই বস্তুবাদ,স্রষ্টায় অবিশ্বাস চলে আসলেও উনবিংশ শতাব্দীতে তা তার পূর্নরুপ ধারন করে।মার্ক্স,এঙ্গেলস, নীৎসে,ডুর্খেইম,ফ্রয়েড আর ডারউইনরা বস্তুবাদ আর নাস্তিকতাকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদান করেছে।মার্ক্স এবং ডুর্খেইম ইতিহাস এবং সমাজবিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেছেন।ডারউইন দিয়েছে তথাকথিত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি,ফ্রয়েড মনোবিজ্ঞান কে নাস্তিকতার ধ্যান ধারনা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেছেন।তবে বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান এ সকল বিজ্ঞানের আশ্রয়েব্যাখ্যাকৃত তথাকথিত অপবিজ্ঞানগুলোকে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে।

ফ্রয়েড আত্মার উপস্থিতি পুরোপুরি প্রত্যাখান করেছেন এবং মানুষের আত্মিক বিশ্বকে যৌন এবং ভোগবাদী চিন্তাধারা দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন।তিনি তার বই The Future of an Illusion (১৯২৭ সালে প্রকাশিত) এ বলেছেন-

“মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস একধরনের মানসিক অসুস্থতা,যাকে নিউরোসিস বলে।মানুষ যত উন্নত হবে এসকল ধর্মীয় বিশ্বাস পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যাবে”।

সে সময় বিজ্ঞানের অনগ্রগতির জন্য ফ্রয়েড যথাযথ research এবং investigation করতে পারেন নি ।আজকের যুগে যদি ফ্রয়েড থাকতেন এবং বিজ্ঞানের অগ্রগতির সুফল ভোগ করে গবেষনা করতে পারতেন,তিনি নিজেই তার কথা ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হতেন।আজকের বিংশ শতাব্দীর মনোবিজ্ঞান ফ্রয়েড এর এ সকল কথাকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।patric glynn তার বই এ বলেছেন-

“ধর্ম সম্বন্ধে ফ্রয়েড এর মতামত পুরোপুরি ভুল ধারনার বহিঃপ্রকাশ ছিল।গত ২৫ বছর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলো প্রমান করেছে ধর্মীয় বিশ্বাস নিউরোসিস তো দুরের কথা বরং এটা মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রশান্তির সাথে জড়িত।গবেষনার পর গবেষনা করার পর দেখা গেছে ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।অপরদিকে ডিভোর্স,আত্মহত্যা,হতাশা,মাদকাসক্ততা,এমন কি যৌন অসন্তুষ্টির সাথে ধর্মীয় বিশ্বাসের বৈরী সম্পর্ক বিরাজ করে”।১

Patric glynn তার বই এভাবে শেষ করেন

“মনে হচ্ছে এ বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এসে আধুনিক মনোবিজ্ঞান ধর্মের সাথে সেতুবন্ধন করতে যাচ্ছে”।২

আসলেই স্রষ্টাবিশ্বাসীদের সাথে মানসিক অসুস্থতার কোন সম্পর্ক নেই।বরং স্রষ্টা বিশ্বাস মানুষকে আত্মপ্রত্যয়ী করে তোলে।তার মানসিক বিশ্ব মন্ডলে নিয়ে আসে অনাবিল প্রশান্তি।সে কথাটাই আল্লাহ কোরানে বলেছেন-

"যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।সুরা রাদ-২৮

কিন্তু আজকাল নাস্তিকদের কিছু কাজকর্ম লক্ষ্য করলে অন্যরকম কিছু আপনার চোখে পড়বে।তারা মূলত এক ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত। Asperger's Syndrome এ আক্রান্ত এ সকল নাস্তিকরা আজ সমাজকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছে তা ভেবে দেখা দরকার।এ ধরনের disorder কে "autistic psychopathy" বলে।যারা এ ধরনের disorder এ ভোগে তারা নিজেদেরকে বুদ্ধিমান এবং সামাজিকভাবে জাগ্রত হওয়ার প্রবনতা দেখায়।তাদের সাথে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর।
এ সকল জিনিস বুঝার জন্য আপনাকে খুব বেশি পন্ডিত হতে হবে না।আজকের ব্লগ এবং নাস্তিকদের বিভিন্ন সাইটের দিকে লক্ষ্য করুন তাদের এ সকল আচরন আপনার নিকট পরিষ্কার হয়ে যাবে।

Wired Magazine এ একবার এসেছিল যে নাস্তিকদের তর্কের প্রতি ঝোঁক দেখা যায়।তাদের মধ্যে উচ্চস্থানীয় ব্যক্তিবর্গদের (যেমন ডকিন্স,ডারউইন,হিচেন) নিয়ে কোন সমালোচনা লক্ষ্য করা যায় না,এবং এটাকে তারা খারাপ মনে করে। এ ম্যাগাজিন আরো উল্লেখ করেছে Asperger's Syndrome এর সাথে নাস্তিকতার একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

তাই নাস্তিকরা হয়ত বুঝতে পারছে না যে তার রোগী কিন্তু আমাদেরকে বুঝতে হবে এবং তাদের সেবা ও সাহায্যে এগিয়ে যেতে হবে।তাদের দূরে ঠেলে দিলে হবে না,বরং তাদের আপন করে নিয়ে ইসলামের সৌন্দর্য বুঝাতে হবে ।মনে রাখতে হবে রোগীর সেবা করা সুন্নাত।আমার নবী রাহামাতাল্লিল আলামীন আমাদেরকে এই শিক্ষায় দিয়েছেন।কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ যখন আমাকে আপনাকে প্রশ্ন করবেন রোগীদেরকে সেবা শুশ্রুষা করেছি কিনা তখন আমি আপনি কি জবাব দেবো,তা একবার ভেবে দেখেছেন কি?কবির ভাষায়-

‘হাশরের দিন বলিবেন খোদা- হে আদম সন্তান
 তুমি মোরে সেবা কর নাই যবে ছিনু রোগে অজ্ঞান
মানুষ বলিবে- তুমি প্রভু করতার,
আমরা কেমনে লইব তোমার পরিচর্যার ভার?
বলিবেন খোদা- দেখনি মানুষ কেঁদেছে রোগের ঘোরে
তারি শুশ্রূষা করিলে তুমি যে সেখায় পাইতে মোরে...।


বিঃদ্রঃ১,নাস্তিকদের সম্পর্কে আরো জানতে আমার পূর্বের দুইটা নোট পড়ুন
 ২,আমরা সভ্য জাতি তাই না?তাই মার্জিত,যৌক্তিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কমেন্ট করুন।

footnotes-
১।Patrick Glynn, God: The Evidence, The Reconciliation of Faith and Reason in a Postsecular World , Prima Publishing, California, 1997, pp.60-61
২।Patrick Glynn, God: The Evidence, The Reconciliation of Faith and Reason in a Postsecular World , Prima Publishing, California, 1997, p.69

নাস্তিকতার কারন সন্ধানে

স্রষ্টা এ পৃথিবীতে মানুষকে অতি গুরুত্বপূর্ণ, যৌক্তিক স্বাধীনতা দিয়ে পাঠিয়েছেন। স্রষ্টাকে গ্রহন এবং বর্জনের স্বাধীনতা।

"আল্লাহ বলেন, আমি তাকে(মানুষকে) পথ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন সে হয় কৃতজ্ঞ হয়, না হয় অকৃতজ্ঞ হয়।সুরা দাহর-৩

“বলুনঃ সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক”-সুরা কাহাফ-২৯

অনেক মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে গ্রহন করে, আর অনেকে বর্জন করে। যারা গ্রহন করে তাদের মধ্যেও অনেকে আছে যারা ভূলভাবে গ্রহন করে। আর যারা বর্জন করে তাদের ইংরেজিতে Atheist বলে আর বাংলায় বলে নাস্তিক।ইদানিং আবার দেখলাম তারা নিজেদের “মুক্তমনা”(!?) দাবি করা শুরু করছে।

কালের বিভিন্ন সময়ে অনেক মানুষ স্রষ্টাকে অস্বীকার করেছে। Betrand Russel শুরু করে অনেক Philosopher ঈশ্বরে অবিশ্বাস করেছে বললেও Plato, Socrates এর মত অনেক Great Philosopher ই ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিল।মুক্তমনা (?!) নাস্তিকরা dawkins নিয়ে চিল্লাচিল্লি করে গলার রগ চিড়ে ফেললেও নিউটন,ম্যক্স প্ল্যাংকের মত অনেক বিজ্ঞানীই স্রষ্টাবিশ্বাসী ছিলেন। আজকাল আমাদের দেশের মুক্তমনা (?!), তথাকথিত বুদ্ধিজীবি (?!) সম্প্রদায় প্রবীর ঘোষ, আরজ আলী মাতাব্বুর কিংবা আহমদ শরীফের দু চারটা Quotation দিয়েই ঈশ্বরকে ভুল প্রমানে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।অথচ অনেক দার্শনিক এবং বিজ্ঞানীও আছেন যারা তাদের এসব চিন্তা চেতনাকে আবালীপনা হিসেবে চিহ্নিত করে গেছেন।আচ্ছা মানুষ নাস্তিক কেন হয়? আমি আমার ছোট দাওয়াতী জীবনে অনেক নাস্তিকের সাথে সরাসরি কিংবা ইন্টারনেটে আলাপ করেছি। এ সকল নাস্তিকদের কথাবার্তা শুনে আমি নাস্তিক হওয়ার কিছু কারন খুঁজে পেয়েছি। আমি পাঠকদের সাথে কারনগুলো Share করছি। আশা করি এর পর থেকে কোন নাস্তিকদের সাথে পাঠকদের deal করতে সুবিধা হবে.........



প্রথম কারনঃ একজন খুব সুন্দর করে বলেছেন-

“চোর যে কারনে পুলিশকে খুঁজে পায় না একই কারনে নাস্তিকরা স্রষ্টাকে খুঁজে পায় না”।

আমার মনে আছে আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন স্যারেরা অনেক সময় অফিসে বেত আনতে পাঠাত। আমরা দেখেও না দেখার ভান করে চরে এসে স্যারকে বলতাম “স্যার বেত নাই।" বেত পেলে তার Consequence তো আমরা খুব ভালভাবে উপলব্ধি করতে পারতাম। নাস্তিকরাও আল্লাহকে খুঁজে পায় না এই ভয়ে যে, তাদের পাপ কাজের হিসাব তাদেরকে দিতে হবে।

দ্বিতীয় কারনঃ Fransis Becon-

“এটা সত্য যে জীবনদর্শন সম্পর্কে ক্ষুদ্র জ্ঞান মানুষের মনকে নাস্তিকদের দিকে ঝুঁকে দেয়,কিন্তু দর্শনের গভীর জ্ঞান মানুষের মনকে ধর্মের দিকে নিয়ে আসে।“(১)

দর্শনশাস্ত্রের জ্ঞানের স্বল্পতার কারনে মূলত তারা এ জীবনের দর্শনকে উপলব্ধি করতে পারে না। উপলব্ধি করতে পারে না তাদের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।বিবর্তনবাদ অনুযায়ী মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বংশ পরম্ভরা রক্ষা করা।হাউ ফানি!এমন স্পল্প জীবন দর্শন নিয়ে তারা নিজেকে এবং মানবতাকে কি দিতে পারবে তা প্রশ্নবিদ্ধ**, স্বল্প জীবনদর্শন সম্পন্ন মানুষ যেমন জীবন সাগরে হাতড়াতে থাকে কিন্তু কোন কুলকিনারা পায় না, তেমনি স্বল্প জীবনদর্শন সস্পন্ন নাস্তিকেরাও তাদের এ জীবনের কোন কিনারা পায় না।
 জীবনকে স্বল্প পরিসরে চিন্তা এবং স্বল্প জ্ঞানের উপর ভর করেই চিন্তার কারনে নাস্তিকেরা স্রষ্টায় অবিশ্বা্সীতে পরিনত হয়।

তৃতীয় কারনঃ Werner Heisenberg বলেছেন-

“প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের(জীববিজ্ঞান,রসায়ন,পদার্থ ইত্যাদি) পেয়ালা থেকে প্রথম চুমুক নাস্তিকতা নিয়ে আসলেও, এর তলদেশে স্রষ্টা অপেক্ষমান”।

বিজ্ঞানের জ্ঞানের স্বল্পতা নাস্তিকদের নাস্তিকতার পথে নিয়ে আসে। তারা বিজ্ঞানের পৃষ্ঠে হাবুডুবু খায় কিন্তু এর অন্তঃস্থলের ভান্ডারকে উপলব্ধি করতে কিংবা জানতে চেষ্টা করে না। তারা অনেকে অপবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে গ্রহন করে ধোঁকায় পতিত হয়।
Theory of Evolution কে নিয়ে তাদের বাড়াবাড়ির সীমা নেই। অথচ অনেক বিজ্ঞানী একে পুরোপুরি Reject করেছেন। এটা কোন প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়। আর বিজ্ঞানী Coley বলেছেন, “Science is the statement of truth found out.” অর্থাৎ সত্যই একমাত্র বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।বিবর্তনবাদের মত hypothesis তো বিজ্ঞানের চৌসীমানায় ও আসে না।

তাই এটি অপবিজ্ঞান ছাড়া আর কিছুই নয়।

চতুর্থ কারনঃ আল্লাহ কোরানে বলেছেন-

“ তারা অন্যায় ও অহংকার করে নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল’,সুরা নামল-১৪

আল্লাহ ঠিকই বলেছেন তাদের অন্তর যদিও ইসলামকে মেনে নেয় কিন্তু তারা অন্যায় ও অহংকার বশত আল্লাহকে অস্বীকার করে। তারা যখন দেখে ইসলাম গ্রহন করলে তাদের alcohol ছাড়তে হবে, Free sex কে বলতে হবে No, Homo sexuality কে বলতে হবে No, অনেক Atheist রা হয়ত এখন বলবেন নাস্তিকতা মানেই কি alcoholism, Free sex, Homo sexuality. আমার অনুরোধ নাস্তিকদের বই, প্রবন্ধ পড়লেই এ সকল জিনিসকে স্বাধীনতা আর প্রাকৃতিকরনের নামে হালালীকরন, খুব ভালভাবেই উপলব্ধি করতে পারবেন। স্রষ্টাকে বিশ্বাস করে নেয়ার মানেই হচ্ছে মনের প্রবৃত্তিকে দমন করতে হবে। আর এই জিনিসটিই স্রষ্টা বিশ্বাসের পথে নাস্তিকদের কাছে এক বিরাট বাধা।

Exceptional(কিন্তু বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন)ঃ
 বর্তমানে কিছু নাস্তিকের আর্বিভাব ঘটেছে, যাদের মধ্যে এসব কিছুর উপস্থিতি তো থাকেই সাথে সাথে আরেকটি জিনিস তাদের উপর dominating থাকে তা হল “ভাব”,এটা এখন একটি ফ্যাশনে পরিনত হয়েছে। ফেসবুকে religious views এ atheist শব্দটি আজকাল প্রগতিশীলতার নির্ণায়ক। কথায় কথায় ধর্মকে গালি দেয়া, ধর্মপ্রচারকারীদের গালি দেয়া আজ Smartness এর পরিচায়ক। গলা উঁচু করে ধর্মের শৃঙ্খলা ভাঙ্গার কথা বলা মানে বুদ্ধিজীবি (?!), মুক্তমনা (?!) তকমার দিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।

ইদানিং আর কিছু লোক আছে যারা দেখে যে, পশ্চিমারা জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে গেছে এবং তারা আস্তে Materialist Philosophy কে পুরোপুরি আত্তীকরনে সফল হয়েছে। তখন এরা ভাবা শুরু করে আহা ! আমিও যদি স্রষ্টা অবিশ্বাসের মাধ্যমে Materialistic Philosophy কে পুরোপুরি মেনে নিতে পারি তাহলে আমিও হয়ত তাদের মত উন্নত জীবন যাপন করতে পারব। এক্ষেত্রে দুটি বিষয় লক্ষনীয়-

(১) পশ্চিমারা জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত হয়েছে এটা সত্য কিন্ত এটাও সত্য এ বিজ্ঞান তাদের বেগ দিলেও আবেগ নিয়ে ফেলেছে, motion দিলেও তাদের থেকে emotion নিয়ে ফেলেছে। তাইতো আমরা দেখি তাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নৈতিক অবক্ষয়। সেখানে মানবতা আর নৈতিকতা চোখ লুকিয়ে কাঁদে।

(২) পশ্চিমারা কি Materialistic Philosophy গ্রহনের কারনে উন্নত নাকি অন্য কারনে? এ কথাও আমাদেরকে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। মনে রাখতে হবে-
# রবীন্দ্রনাথ স্কুল পালানোর জন্য রবীন্দ্রনাথ হননি।
# ডেভিড বেকহ্যাম তার চুলের কারনে বিশ্বসেরা খেলোয়াড় হননি,
 # সালমান খান তার ছেড়া প্যান্টের জন্য ভাল অভিনেতা হননি।
আমরা কাউকে Icon মানলে যে কারনে সে Icon হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে সে কারনটাকে দেখি আশেপাশের কারনকে নয়।

তাই আমাদের জীবন দর্শনের হয়ত অনেক কিছুই স্রষ্টাবিহীন অস্পষ্ট থেকে যাবে। জীবন দর্শন পুরোপুরি বুঝার জন্য স্রষ্টার কোন বিকল্প নেই। Spinoza ঠিকই বলেছেন।
“স্রষ্টব্যতীত কোন কিছুর কল্পনাই করা যায় না”(২)

সর্বশেষ একটি moto দিয়ে আমার লেখাটি শেষ করতে চাই-


No creation Know creation
No life Know life
No God Know God
No peace Know peace


Allah knows da best…………

**নাস্তিকদের মানবতার উদাহরন হিসেবে আমার পূর্বের নোটটি পড়ুন।
#অনুগ্রহপুর্বক কোন slang use না করে যুক্তি ও ধৈর্য সহকারে কমেন্ট করুন।

Footnotes
১,(Bacon, F. The Essays of Lord Bacon, Longman & Green, 1875, 64.)
২,(Elwes, R. H. M. The Chief Works of Benedict de Spinoza, Vol. II,Dover Publications, 1951, 60.)

মধ্যযুগীয় মুসলিম মনীষীদের নাম বিকৃতি

মধ্যযুগীয় মুসলিম চিন্তাবিদরা বিশ্বের মানুষের জন্য আলোকবর্তিকাস্বরূপ। তারা আলোকিত করেছেন আমাদের চিন্তাচেতনাকে, সভ্যতা-সংস্কৃতিকে, জীবন-জগৎকে। দুঃখজনক হলেও সত্য, পাশ্চাত্যের অনেক গবেষক এসব মুসলিম মনীষীর নামকে উপস্থাপন করেছেন বিকৃতভাবে। ফলে প্রাচ্যের লোকগুলো তাদের চিরচেনা এসব মনীষীকে পাশ্চাত্যের দেয়া নামে চিনতেও পারেন না। প্রথমেই ধরা যাক মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খারিজমীর কথা। তিনি ছিলেন মুসলমান বিজ্ঞানীদের শ্রেষ্ঠতম একজন। তার সিদ্ধান্তগুলো মধ্যযুগীয় গণিত শাস্ত্রকে আছন্ন করে রেখেছিল। তিনি ছিলেন একাধারে ভূগোলবিদ, জ্যোতির্বিদ, গণিতবিদ ও দার্শনিক। তার সিদ্ধান্তগুলো পরে আধুনিক ইউরোপ অকুণ্ঠচিত্তে গ্রহণ করেছে। ইউরোপীয়রা বিশেষত ল্যাটিন লেখকরা তার নামকে বিকৃতি করে লিখছে গরিটাস বা আল গারদম।

রসায়ন বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ানের কথা আমরা অবগত। কেবল চিকিৎসা বিষয়েই জাবির প্রায় ৫০০ গ্রন্থ রচনা করেন। তাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রসায়নবিদদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। আরবি ভাষায় জারিব শব্দের অর্থ যিনি সংস্কার সাধন করেন, শৃংখলা বিধান করেন। অথচ তার নামটি বিকৃত করে পাশ্চাত্য ইতিহাসবিদরা লিখেছেন ‘জিবার’।

ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল কিন্দি কোরআন, হাদিস, ফিকাহ, ইতিহাস, দর্শন, ভাষাতত্ত্ব, রাজনীতি, অংকশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা প্রভৃতি নানা বিষয়ে বিশারদ ছিলেন। তিনি ছিলেন গ্রিক, হিব্রু, ইরানি, সিরিয়াক এমনকি আরবি ভাষাতেও বুৎপত্তিসম্পন্ন। তিনি নানা বিষয়ে ২৬৫ খানা গ্রন্থ রচনা করেন। পাশ্চাত্য ইতিহাসবিদরা তার নাম বিকৃত করে তাকে পরিচিত করেছেন ‘কিন্ডাস’ নামে। তেমনি জ্যোতির্বিদ আবুল মাসারের নাম পরিবর্তন করে তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে মাসের নামে। কাগজের অন্যতম আবিষ্কারক ইউসুফ ইবনে ওমরের নাম ইংরেজি স্টাইলে রাখা হয়েছে ‘উমট’।
আবদুল্লাহ আল বাত্তানী ছিলেন একজন মশহুর জ্যোতির্বিদ এবং গণিতজ্ঞ। তিনি নিজস্ব মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন জ্যোতির্বিদ্যা চর্চার জন্য। তিনি বহু বছর ধরে জ্যোতির্বিদ্যায় প্রচলিত ভুলগুলো সংশোধন করে এই শাখার অনেক সংস্কার ও উন্নতিসাধন করেন। অথচ পাশ্চাত্য ইতিহাসবিদরা তাকে উল্লেখ করেছেন আল ‘বাতেজনিয়াজ’ বা আল বিটেনিয়াজ বলে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানী আল রাজির নাম কে না জানে। তিনি প্রায় দুশ’র মতো গ্রন্থ রচনা করেন, যার শ’খানেক চিকিৎসা শাস্ত্রের ওপর। তবে তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হচ্ছে ‘আল জুদায়ী ওয়াল হাসবাহ’ নামক গ্রন্থটি। ইংরেজি ভাষাতেই ১৪৯৮ থেকে ১৮৬৬ সাল পর্যন্ত এই গ্রন্থখানা মোট চল্লিশবার মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি কিতাব আল মনসুরী নামে দশ খণ্ডে একটি বিরাট চিকিৎসা গ্রন্থও প্রণয়ন করেন। এই মহান চিকিৎসা বিজ্ঞানীর নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘রাজাম’।
জ্যোতির্বিজ্ঞানী আল জারকালীর নাম পাশ্চাত্য গ্রন্থসমূহে উল্লিখিত হয়েছে ‘মারজাকেল’ নামে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক বলা হয় ইবনে সিনাকে। তার প্রকৃত নাম আবু আলী আল হুসাইন। তার উপাধি হচ্ছে আল শেখ আল রইস। অথচ তার নামও বিকৃতির হাত থেকে রেহাই পায়নি। পাশ্চাত্য ইতিহাসবিদরা তার নাম দিয়েছেন জালিনুস। কেবল তাই নয়, মুসলিম ঐতিহাসিক স্থানসমূহ জাবালুত তারেক হয়েছে বিজ লিটার, দারুসসালাম হয়েছে জেরুসালেম, মিসরীয় শহর ইস্কান্দরিয়া হয়েছে আলেকজান্দ্রিয়া বা অ্যালেক্স, বায়তুল্লাহাম হয়েছে বেথেলহাম।

আজকাল আমাদের দেশেও মুসলমানদের নাম নিয়ে শুরু হয়েছে নানা রকম বিদ্রূপ। টিভির একটি বিজ্ঞাপনে ইউনুস নামের একজন লোককে দেখানো হয়, যে কিনা নিজের আঙুলগুলোও ভালো করে গুনতে পারে না। অথচ আমাদের একজন নোবেল বিজয়ীর নাম ইউনূস। সর্বোপরি ইউনুস একজন নবীর নামও বটে। আমাদের একজন প্রথিতযশা কথাসাহিত্যিক তার একটি টিভি নাটকে ‘মফিজ’ নামের এক পাগলকে উপস্থাপনা করলেন। অথচ মফিজ কতইনা পবিত্র একটি নাম। তেমনি তিনি ‘কুদ্দুস’ নামটিকেও তার মতো করে এদেশের অগণিত নাদানের মুখে তুলে দিয়েছেন। অথচ ‘কুদ্দুস’ আল্লাহর নাম।

জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান

জ্ঞান অর্জন না করে নিজেকে জানা যায় না, সৃষ্টিতথ্য বোঝা যায় না, পরমস্রষ্টাকে চেনা যায় না, ক্ষমতাধর হওয়া যায় না এবং নেতৃত্ব দেয়া যায় না। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় মুসলমানরা ছিল সর্বেসর্বা। আল-কোরআনের পাশাপাশি তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান বিষয়ক সব ধরনেরই পড়েছেন, গবেষণা করেছেন। তারা মহান স্রষ্টার সৃষ্ট প্রকৃতির নির্দেশনাবলির ওপর গবেষণার মাধ্যমে সত্য উপলব্ধি করেছেন। আত্মশুদ্ধি ঘটিয়েছেন। যাবতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই পড়েছেন এবং বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার শিক্ষাগ্রহণ করেছেন।
ইবনে আল হাইসাম ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ একজন পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি সর্বপ্রথম জড়বস্তু ও আলোর প্রতিসরণ তত্ত্ব প্রদান করেন। পরে যা নিউটনের হাতে পুনরাবিষ্কৃত হয়। জাবির বিন হাইয়ান রসায়ন শাস্ত্রের ভিত্তি রচনা করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ইবনে সিনা, জাবির হাসান বিন হাইয়ান, আল রাজির নাম উল্লেখযোগ্য। তাদের লিখিত বইয়ের লাতিন অনুবাদ ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য ছিল।
কম্পিউটারের আবিষ্কার কিন্তু অঙ্ক শাস্ত্রনির্ভর। বস্তুত ‘সংখ্যাতাত্ত্বিক পরিমাণ’ আল খাওয়ারেযমীই প্রথম প্রণয়ন করেছিলেন। নিউটনের বহু আগে কবি ওমর খৈয়াম ‘বাইনোমিয়াল থিউরাম’ আবিষ্কার করেন। পৃথিবীর প্রথম সম্পূর্ণ মানচিত্র প্রণয়ন করেন মুসলিম ভূগোলবিদ ইবনে হাক্কল। আল ফারাবি ছিলেন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ ও দার্শনিক। তিনি ৭০টি ভাষায় কথা বলতে পারতেন। আল বিরুনি এবং ইবনে বতুতা প্রমুখ মুসলিম মনীষী ভূবিদ্যার প্রসারে অনেক অবদান রেখে গেছেন। ইবনে খালদুনকে বলা হয় ইতিহাস, দর্শন ও সমাজবিজ্ঞানের জনক। বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহাসিক ছিলেন ইবনে জাবির তাবারি। ‘তারিখ আল রাসুল ওয়া আল মুলুক’, তার এ গ্রন্থটি সারাবিশ্বে রেফারেন্স হিসেবে গঠিত হচ্ছে। আল কিন্দি গণিত, ইতিহাস, ভূগোল, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ৩৬৯টি গ্রন্থ রচনা করেন। অতীতে জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে নয় বরং ব্যবসা-বাণিজ্যে, শিল্প, কল-কারখানাতে মুসলমানদের ছিল গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
আব্বাসীয় খলিফা মামুন বাগদাদে ‘দারুল হিমাহ’ নামে যে বিজ্ঞানকেন্দ্র গড়ে তুলেছিনে তাতে সে যুগে প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। যখন খ্রিস্টীয় সমাজে বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছিল তখন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বহুসংখ্যক গবেষণা ও আবিষ্কার সাধিত হয়। কর্ডোভার রাজকীয় পাঠাগারে ৪ লাখ বই ছিল। ইবনে রুশদ তখন সেখানে গ্রিক, ভারতীয় ও পারস্য দেশীয় বিজ্ঞানে পাঠদান করতেন। যার কারণে সারা ইউরোপ থেকে পি তরা কর্ডোভায় পড়তে যেতেন। যেমন আজকের দিনে মানুষ তাদের শিক্ষার পরিপূর্ণতার জন্য ব্রিটেন, আমেরিকা যায়। ‘ইসলাম ও আরবি সভ্যতার ইতিহাস’ বইতে ওস্তাভলি বোঁ লিখেছেন, ‘ইউরোপে যখন বই ও পাঠাগারের কোনো অস্তিত্ব ছিল না, বহু মুসলিম দেশে তখন প্রচুর বই ও পাঠাগার ছিল। সত্যিকার অর্থে বাগদাদের ‘বায়তুল হিকমা’য় ৪০ লাখ, কায়রোর সুলতানের পাঠাগারে ১০ লাখ, সিরিয়ার ত্রিপোলি পাঠাগারে ৩০ লাখ বই ছিল। অন্যদিকে মুসলমানদের সময় শুধু স্পেনে প্রতিবছর ৭০ থেকে ৮০ হাজার বই প্রকাশ হতো।

ধর্ষন ও নাস্তিকতা

জানে না তো কেউ পৃথিবী উঠছে কেঁপে
 ধরেছে মিথ্যা সত্যের টুঁটি চেপে,

আজকাল সমাজের বিভিন্ন রকম চালচিত্র দেখলে কবি সুকান্তের লেখাটার বাস্তবতা লক্ষনীয়। বাইবেলের ভাষ্য অনুযায়ী যীশু বলেছেন, কিছু মানুষের চোখে কাঠ থাকলেও আরেক জনের চোখের কুটা নিয়ে ব্যস্ত। নিজের দীনতাকে উপলব্ধি না করে আরেকজনের পিছনে লেগে কিছু বাহবা আর কিছু মানুষকে পথভ্রষ্টতার দিকে ঠেলে দেয়া ছাড়া অন্য কোন সফলতা আছে কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ।

আজকালকার গরম ইস্যু,পত্রিকার দৈনন্দিন অনিবার্য খবর “‘ধর্ষন” নিয়ে’ সকলেই যে যার মত মতামতের পসরা সাজাতে ব্যস্ত থাকলেও খুব কম লোকই কারন নিয়ে কথা বলেছে। ‘”আমি আরো বেশি রেপিস্ট চাই”’ শিরোনামে DJ মার্কা কিছু উর্বরমস্তিষ্ক প্রদত্ত উপলব্ধি পাবলিকের গলাধঃকরন দেখে কিছুটা তাজ্জব হলাম। আরও তাজ্জব হলাম যখন দেখলাম তার Religious views হচ্ছে atheist .দেশের বিভিন্ন গরম ইস্যু নিয়ে বাংলার নাস্তিক, মুক্তমনা(?!) বুদ্ধিজীবী (?!)দের বিভিন্ন মিডিয়াতে শাখমৃগসম শারিরীক কসরত দর্শন করলেও এ ইস্যু নিয়ে নাস্তিকেরা কিছুটা নিষ্প্রভ। দু-একজন একে ইসলামকে আক্রমনের ইস্যু হিসেবেও নিয়েছে। যারা হিজাবের কথা বলে ধর্ষন, ইভটিজিং কিছুটা রোধের কথাবলে এসকল নাস্তিকরা শুধু তাদের নিয়েই কথা বলছেন। আর কিছু নাস্তিক যারা এ বিষয়টা নিয়ে কথা বলছেন ,তারা হয়ত নাস্তিকতার দৃষ্টিভঙ্গি জানে না।

নাস্তিকরা নিজেদেরকে সবসময় ““মানবতাবাদী”” হিসেবে দাবী করলেও Rape, Abortion, murder,Genocide কিংবা Status of women এসকল বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানলে হয়ত আপনি ও এ শব্দটির আগে “অ” উচ্চারনে বাধ্য হবেন। সষ্টার অস্তিত্বে অবিশ্বাসের কারনে তাদের Morality সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইতিহাসবিদ Niall Fergusan বলেছেন-

“ধর্মবিহীন একটা মানুষের কোন নৈতিক কাঠামো থাকতে পারে না””

আর এজন্যই হয়ত দার্শনিক ভলটেয়ার বলেছিলেন-

“If God did not exist, it would be necessary to invent him.”

সেজন্যই এক নাস্তিককে প্রশ্ন করা হয়েছিলঃ “ যদি ঈশ্বর ধর্ষন নিষেধ না করে থাকেন তাহলে ধর্ষন কেন নিষিদ্ধ হবে?”
নাস্তিকদের জন্য আসলেই অনেক কঠিন একটা প্রশ্ন সে উত্তর দিয়েছিল কারন- এতে ধর্ষিতা কঠিন ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ধর্ষিতা ব্যথা অনুভব করে, স্বাধীনতা হরন হচ্ছে। তাই ধর্ষন নিষিদ্ধ।

তাকে যখন আবারো প্রশ্ন করা হলো-
আরেক জনের ক্ষতি করা কেন অমানবিক?
আরেক জনকে ব্যথা দেয়া কেন অমানবিক?
আরেক জনের স্বাধীনতা হরন কেন অমানবিক?
‘Survival of the fittest’বা “শক্তিমানের মজা লুটা কন্সেপ্ট”ও বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী আমার বংশপরম্পরায় রক্ষাই যদি একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে এই মানবতা নামক বেলকীবাজীকে আমি কেন গ্রহন করব?

ওই নাস্তিক সম্ভবত আমাদের সমাজের স্বল্পবু্দ্ধিসম্পন্ন হুজুগে নাস্তিক। তাই ধর্ষনসম্পর্কে তার সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি জানা নাই। বিবর্তনবাদ নামক অপবিজ্ঞান এবং বিভিন্ন নাস্তিকদের পরম পূজনীয় নবী-রাসূলরা কি বলেন? আমি নাস্তিকদের অনুসরনীয় নবী-রাসূল বলাতে হয়ত আমার সম্পর্কে অনেক মুসলিমরা কিছুটা মাথা চুলকে ভুল ধারনায় পড়ে গেছেন। না ভাই আমি মিথ্যা বলছি না। Darwin, Dawkins, Sam Haris, Hitchens হচ্ছে নাস্তিকদের পরম পূজনীয় ও অনুসরনীয় নবী-রাসূল । এদেরকে অন্ধভাবে অনুসরন করে নাস্তিকরা ব্যক্তিপূজার এক চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছে। এবং আমিও এদেরকে নবী-রাসূল হিসেবেই মানি । আমি বিশ্বাস করি ওদের কাছেও ওহী আসে। এতক্ষনে নিশ্চয় মুসলিম পাবলিকদের চোখ ছানাবড়া।

আরে ভাই আমি বলছি না। আল্লাহ বলছেন। কি বলছেন শুনবেন? আল্লাহ বলেছেন-

নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে প্রত্যাদেশ করে,সুরা আনআম-১২১

এদের কাছে সত্যিই ওহী আসে। তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে নয় শয়তানের পক্ষ থেকে। আর এরা হল “
”রাসূলুশ্‌শয়তান””

নারীবাদীরা বেশিরভাগ ধর্ষনের ক্ষেএে পুরুষের আধিপত্যকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখান। অনেক ক্ষেত্রে কথাটা সত্য, biologically তাদের শক্তির পার্থক্য থাকলেও নারী ও পুরুষ একই পিতা মাতা থেকে উদ্ভুত। তাই ইসলাম তাদেরকে সমান চোখে দেখে। Theory of evolution নারীদেরকে এক inferior race এবং পুরুষদেরকে superior race হিসেবে দেখিয়ে বিজ্ঞান নামের অপবিজ্ঞান ব্যবহার করে গরম তেলে পানি ঢেলে দিয়েছে। কোন কোন বিবর্তনবাদীতো নারী ও পুরুষকে যথাক্রমে homo parientalis ও homo fronatils এ উপপ্রজাতিতেও ভাগ করে ফেলেছেন। এর উদ্দেশ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি কি?

আসুন বিবর্তনবাদীদের অন্যান্য লেখালেখির দিকে একটু দৃষ্টি নিবন্ধ করি। The descent of Man বইতে

ডারউইন মহিলাদের অনেক characteristics কে নিম্ন race এর characteristics বলে উল্লেধ করেছে্ন।(১)

ডারউইন বিয়েকে কি কারনে গ্রহনযোগ্যতা দিয়েছেন জানেন?

“একটা নারীর বন্ধুত্ব একটা কুকুরের বন্ধুত্বের চেয়ে উত্তম বলে”।

Cart vogt নারীদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন

“তারা নারীদের পুরুষদের তুলনায় পশুদের বেশি নিকটতর বলে উল্লেখ করেছেন”।“(2)

Social psychology এর একজন অন্যতম পতিষ্ঠাতা বির্বতনবাদী Le Bon বলেছেন

“পুরুষের উন্নত মস্তিষ্কের তুলনায় প্রচুর পরিমান মহিলাদের মস্তিষ্কের size,Gorilla এর কাছাকাছি।“(3)
শুধু তাই নয় তিনি আরো বলেছেন-

“নারীরা নিকৃষ্টতর মানব বিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে””।

ইসলাম যেখানে নারী ও পুরুষকে সমান রুপে সৃষ্টি করেছে সেখানে তথাকথিত নাস্তিক বুদ্ধিজীবী(?!) মুক্তমনারা (?!)নারীদেরকে সৃষ্টির কোন স্তরে নামিয়ে দিয়েছে একটু ভাবতে হবে। তারপরও যখন দেখি কিছু নারীরা জিন্স, টিশার্ট আর চুলে বব কাট করে মুক্তমনা (?!), নাস্তিকতা আর সমাজতান্ত্রিকতার বুলি আওরায় তখন সত্যিই অবাক লাগে। তারা কি এসকল বিষয় জানে না?

জানে না মানে অবশ্যই জানে। আর জানে বলেই তো সেটাকে বাস্তবায়িত করার জন্য সবকিছুকে পুরুষের ছাঁচে গড়ার এ ব্যর্থ আস্ফলন। পোশাক আর চলাফেরা পরিবর্তন করে গোলাপের রজনীগন্ধা হওয়ার খায়েস কতটুকু পূরন করতে পারবে জানি না, তবে এতে যে গোলাপ তার স্বাতন্ত্র হারিয়ে আর্কষণীয়তায় ভাটা পড়বে এবিষয়টা নিশ্চিত। কুরআন বলে-

যে লোক পুরুষ হোক কিংবা নারী, কোন সৎকর্ম করে এবং বিশ্বাসী হয়, তবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রাপ্য তিল পরিমাণ ও নষ্ট হবে না।সুরা নিসা-১২৪

হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার।সুরা হুজুরাত-১৩

আল্লাহর কাছে নারী পুরুষ সমান আর মর্যাদার মাপকাঠি হচ্ছে তাকওয়া।

নারী যদি গরিলাসম , পশুসম হয়ে থাকে তাহলে Survival of the fittest নীতিতে তার থেকে কিছু মজা লুটার মধ্যে অনৈতিকতা কি থাকতে পারে?আমরা কি উদোরপূর্তি করার জন্য পশু জবাই করি না?মুখোতুষ্টির জন্য পশু জবাই দিতে পারলে যৌনতুষ্টির জন্য নারীদের কিছুটা ব্যথা কিংবা কষ্ট দেয়ার মধ্যে সমস্যা কি থাকতে পারে?যতদূর মনে পড়ে রবী ঠাকুর বলেছিলেন ধর্ষন মেনে নেয়া ছাড়া অন্য কোন পথ না থাকলে ধর্ষনকে উপভোগ করাই শ্রেয়।তার মানে ধর্ষনকে ও উপভোগ্য করা যায়।শুধু দৃষ্টিভংগীর পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

তার মানে হচ্ছে ধর্ষনে কোন সমস্যা নেই?

না নেই। সে কথাই তো নাস্তিক stooges ,Dawkins,Sam Harris রা ফলাও করে প্রচার করছে।
Sam Harris বলেছেন-

”ধর্ষনের চেয়ে প্রাকৃতিক কিছু নেই। কিন্তু এটা খারাপ এবং সভ্য সমাজের সাথে সামান্জস্যপূর্ন না
এবিষয়টা সবাই মেনে নেবেন কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষদের এতে বিবর্তনীয় সুবিধা ছিল””।(4)
তিনি আরো বলেছেন

“আমাদের এমন কিছু আছে যেগুলো আমাদের নীতিতে বাঁধলেও তা প্রাকৃতিকভাবে বাছাইকৃত। যেমন-ধর্ষনের চেয়ে প্রাকৃতিক কিছুই নাই। মানুষ ধর্ষন করে ,শিম্পাঞ্জী ধর্ষন করে, ওয়াংওটার ধর্ষন করে। ধর্ষন পরিষ্কারভাবে বিবর্তনীয় কৌশলেরই একটি অংশ”।(5)
এতবড় প্রাকৃতিক লাইসেন্স দিয়ে Sam Harris ধর্ষনকে খারাপ বললেও ক্ষুধার্ত মানব কতক্ষন আর বুভুক্ষু থাকবে? না কখনোই মানবতা নামক অদৃশ্য শিকলের ভেলকিবাজি তাদেরকে কখনই থামাতে পারবে না।

প্রিমিয়ার রেডিও Unbelievable Programme এর উপস্থাপন Justin Brierley প্রখ্যাত নাস্তিকগুরু Dawkinsকে Rape নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি Rape কে Morally arbitrary বলেছেন।

জীববিজ্ঞানী ম্যাট রিডলী ও তার “গুনের উৎস” বইতে বলেছেন ধর্ষন অতীতে বিবর্তনের জন্য উপযোজনীয় ছিল।

আমাদের মুক্তমনার লেখক মহাশয়েরাও ফলাও করে ধর্ষনকে একটি বিবর্তনীয় ধারা হিসেবে প্রচার করেছেন। অপার্থিব জামানের এক আর্টিকেলে তিনি লিখেছেন

”অনৈতিকতা বা নীতিহীনতা বিবর্তনের এক অনিবার্য্য পাশ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত ক্ষতি। কিছু পাশ্বপ্রতিক্রিয়া আবার ক্ষতি বা ধ্বংস নাও করতে পারে। বিবর্তনের ক্ষেত্রে ও অনেকটা সেরকম ঘটে। বিবর্তনের একমাত্র উদ্দেশ্য হল উদ্বর্তন ও বংশানু সর্বত্তারন, এই উদ্দেশ্য সাধনের প্রক্রিয়ার কিছু অপ্রত্যাশিত উপজাত উৎপন্ন হতে পারে বিবর্তনের ভাষায় এগুলোতে স্প্যান্ড্রেল বলা হয়। ইমারতের ছাদের ধুনুকাকৃতির খিলান তৈরীর সময় ত্রিকোনকৃতি যে অপ্রয়োজনীয় অংশ অনিবার্য্যভাবে তৈরী হয়ে যায় তাকেই স্থাপত্যবিদ্যায় স্প্যান্ড্রেল বলা হয়। বিবতর্নের এ অনৈতিক প্রবৃত্তির স্প্যান্ড্রেলের একটি উদাহরন হল ধর্ষন ।এই প্রবৃত্তি যে এখনো টিকে আছে তার কারন উপযোজন পরিপন্থী না”

এভাবে ধর্ষনকে প্রাকৃতিক একটা কায়দা বা প্রক্রিয়া প্রমান করে ধর্ষনের যে ফ্রি লাইসেন্স দিয়ে দিলেন তা সত্যিই অবাক করার মত তাও আবার বিবর্তনের মত অপবিজ্ঞানেকে বিজ্ঞানের নামে চালিয়ে দিয়ে। বিবর্তনবাদীরা পার্থিব জামানের কথা অনুযায়ী ধর্ষন ন্যাচারাল এবং সামাজিক সাম্যাবস্থার জন্য এটা অপরিহার্যও বটে। এরকম একটা আত্মঘাতী সমাজ বিনষ্টকারী ideology কে আমরা চোখ বন্ধ করে গলাধঃকরন করে নিচ্ছি একবারও আমার বোন, মা, স্ত্রী কিংবা সমাজের কথা চিন্তা করছি না। এ মতবাদ যদি সময় প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে এ পৃথিবীতে বসে যে নরকের স্বাদ নিয়ে নেব সে বিষয়টা সন্দেহাতীত। বিংশ শতাব্দী নাস্তিতকতার চরম নৈতিক অধঃপতন অবলোকন করেছে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ মতবাদ ১০০ মিলিয়ন এর মত মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
অনেক নাস্তিক হয়ত লেখাটি পড়ছেন আর আমাকে ভড়কে দেওয়ার জন্য মনে মনে একটা প্রশ্নের ফান্দি আঁটছেন।

তাহলে মুসলিমরা কিংবা যারা ধর্ম মানে তারা কেন Rape করে? মাদ্রাসার হুজুর কিংবা খ্রিষ্টান Father তো এ কাহিনী করে ধরা খাচ্ছে। এ প্রশ্নটি অতীব বুদ্ধিদীপ্ত মনে হলেও প্রশ্নটি অতীব সাধারন এবং শিশুসুলভ প্রশ্ন।

আমি এখানে Ideology নিয়ে কথা বলছি, কোন পিতার ideology ভাল থাকার পরেও তার সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে না পারলে এর দায়ভার পিতার উপর না। কিন্তু পিতার Ideology খারাপ এবং সন্তানের Ideology ও কাজকর্ম খারাপ হয়ে গেল তাহলেই সমস্যা।

ইসলামে এরকম কোন নৈতিকতা পোষন করে না যাতে ধর্ষনকে ঠিক মনে করা হয়। কেউ যদি কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় ধর্ষন করেও ফেলে ইসলামের জুডিশিয়ারী সিস্টেম মৃত্যুদন্ড নামক কঠিন শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করে। অপরদিকে নাস্তিকপালরা একনিষ্ঠভাবেই ধর্ষনকে জায়েজ ও প্রাকৃতিকভাবে হচ্ছে বলতে শুরু করেছে। তাহলে তাদের পরিচালিত ব্যবস্থায় ধর্ষিতার আইনের বিচার পাওয়া যে আকাশ-কুসুম চিন্তা ছাড়া কিছুই নয় তা সহজেই অনুমেয়।

একবিংশ শতাব্দী আজ এমন একটা মতবাদ চায় যার আদর্শের বহ্নি সকলরকম অনাচার, অবিচার আর অমানবিকতাকে পুড়ে ছাই করে দিয়ে মানবতার উজ্জ্বল আলোয় পৃ্থিবীকে আলোকিত করবে। ইসলামই একমাত্র সেই বহুপ্রতীক্ষিত মতবাদ যার জন্য এশতাব্দী অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান এবং মুসলিমরাই একমাত্র জাতি যা মানবতার পতাকা নিজ হাতে তুলে নিয়ে ওড়ানোর জন্য প্রস্তুত। সেজন্যই তো আল্লাহ তা আলা কুরআনে মুসলিমদের সৃষ্টি মানবতার জন্যই বলে উল্লেখ করেছেন।

“তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যানের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে”সুরা আলে ইমরান-১১০

Allah Knows da Best------------

**ধর্ষনের সমাধান কি তা জানার জন্য আমার আগের দুইটা নোট পড়তে পারেন
**অনুগ্রহপুর্বক কমেন্টে কেঊ slang laguage use করবেন না।যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় আসুন।

Footnotes
1.Darwin, The Descent of Man and Selection in Relation to Sex, New York: D. Appleton and Company, 1871 (1896 ed.), p. 326
2 Carl Vogt, Lectures on Man: His Place in Creation, and the History of Earth, edited by James Hunt, London: Paternoster Row, Longman, Green, Longman, and Roberts, 1864, xv, p. 192
3. Ibid., pp. 104-105
4. Wired Magazine online: Gary Wolf, The Church of the Non-Believers
5. ABC Radio National,