গ্রীক ঐতিহাসিকদের যুগ থেকেই বস্তুবাদ,স্রষ্টায় অবিশ্বাস চলে আসলেও উনবিংশ শতাব্দীতে তা তার পূর্নরুপ ধারন করে।মার্ক্স,এঙ্গেলস, নীৎসে,ডুর্খেইম,ফ্রয়েড আর ডারউইনরা বস্তুবাদ আর নাস্তিকতাকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদান করেছে।মার্ক্স এবং ডুর্খেইম ইতিহাস এবং সমাজবিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেছেন।ডারউইন দিয়েছে তথাকথিত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি,ফ্রয়েড মনোবিজ্ঞান কে নাস্তিকতার ধ্যান ধারনা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেছেন।তবে বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান এ সকল বিজ্ঞানের আশ্রয়েব্যাখ্যাকৃত তথাকথিত অপবিজ্ঞানগুলোকে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে।
ফ্রয়েড আত্মার উপস্থিতি পুরোপুরি প্রত্যাখান করেছেন এবং মানুষের আত্মিক বিশ্বকে যৌন এবং ভোগবাদী চিন্তাধারা দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন।তিনি তার বই The Future of an Illusion (১৯২৭ সালে প্রকাশিত) এ বলেছেন-
“মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস একধরনের মানসিক অসুস্থতা,যাকে নিউরোসিস বলে।মানুষ যত উন্নত হবে এসকল ধর্মীয় বিশ্বাস পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যাবে”।
সে সময় বিজ্ঞানের অনগ্রগতির জন্য ফ্রয়েড যথাযথ research এবং investigation করতে পারেন নি ।আজকের যুগে যদি ফ্রয়েড থাকতেন এবং বিজ্ঞানের অগ্রগতির সুফল ভোগ করে গবেষনা করতে পারতেন,তিনি নিজেই তার কথা ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হতেন।আজকের বিংশ শতাব্দীর মনোবিজ্ঞান ফ্রয়েড এর এ সকল কথাকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।patric glynn তার বই এ বলেছেন-
“ধর্ম সম্বন্ধে ফ্রয়েড এর মতামত পুরোপুরি ভুল ধারনার বহিঃপ্রকাশ ছিল।গত ২৫ বছর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলো প্রমান করেছে ধর্মীয় বিশ্বাস নিউরোসিস তো দুরের কথা বরং এটা মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রশান্তির সাথে জড়িত।গবেষনার পর গবেষনা করার পর দেখা গেছে ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।অপরদিকে ডিভোর্স,আত্মহত্যা,হতাশা,মাদকাসক্ততা,এমন কি যৌন অসন্তুষ্টির সাথে ধর্মীয় বিশ্বাসের বৈরী সম্পর্ক বিরাজ করে”।১
Patric glynn তার বই এভাবে শেষ করেন
“মনে হচ্ছে এ বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এসে আধুনিক মনোবিজ্ঞান ধর্মের সাথে সেতুবন্ধন করতে যাচ্ছে”।২
আসলেই স্রষ্টাবিশ্বাসীদের সাথে মানসিক অসুস্থতার কোন সম্পর্ক নেই।বরং স্রষ্টা বিশ্বাস মানুষকে আত্মপ্রত্যয়ী করে তোলে।তার মানসিক বিশ্ব মন্ডলে নিয়ে আসে অনাবিল প্রশান্তি।সে কথাটাই আল্লাহ কোরানে বলেছেন-
"যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।সুরা রাদ-২৮
কিন্তু আজকাল নাস্তিকদের কিছু কাজকর্ম লক্ষ্য করলে অন্যরকম কিছু আপনার চোখে পড়বে।তারা মূলত এক ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত। Asperger's Syndrome এ আক্রান্ত এ সকল নাস্তিকরা আজ সমাজকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছে তা ভেবে দেখা দরকার।এ ধরনের disorder কে "autistic psychopathy" বলে।যারা এ ধরনের disorder এ ভোগে তারা নিজেদেরকে বুদ্ধিমান এবং সামাজিকভাবে জাগ্রত হওয়ার প্রবনতা দেখায়।তাদের সাথে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর।
এ সকল জিনিস বুঝার জন্য আপনাকে খুব বেশি পন্ডিত হতে হবে না।আজকের ব্লগ এবং নাস্তিকদের বিভিন্ন সাইটের দিকে লক্ষ্য করুন তাদের এ সকল আচরন আপনার নিকট পরিষ্কার হয়ে যাবে।
Wired Magazine এ একবার এসেছিল যে নাস্তিকদের তর্কের প্রতি ঝোঁক দেখা যায়।তাদের মধ্যে উচ্চস্থানীয় ব্যক্তিবর্গদের (যেমন ডকিন্স,ডারউইন,হিচেন) নিয়ে কোন সমালোচনা লক্ষ্য করা যায় না,এবং এটাকে তারা খারাপ মনে করে। এ ম্যাগাজিন আরো উল্লেখ করেছে Asperger's Syndrome এর সাথে নাস্তিকতার একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তাই নাস্তিকরা হয়ত বুঝতে পারছে না যে তার রোগী কিন্তু আমাদেরকে বুঝতে হবে এবং তাদের সেবা ও সাহায্যে এগিয়ে যেতে হবে।তাদের দূরে ঠেলে দিলে হবে না,বরং তাদের আপন করে নিয়ে ইসলামের সৌন্দর্য বুঝাতে হবে ।মনে রাখতে হবে রোগীর সেবা করা সুন্নাত।আমার নবী রাহামাতাল্লিল আলামীন আমাদেরকে এই শিক্ষায় দিয়েছেন।কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ যখন আমাকে আপনাকে প্রশ্ন করবেন রোগীদেরকে সেবা শুশ্রুষা করেছি কিনা তখন আমি আপনি কি জবাব দেবো,তা একবার ভেবে দেখেছেন কি?কবির ভাষায়-
‘হাশরের দিন বলিবেন খোদা- হে আদম সন্তান
তুমি মোরে সেবা কর নাই যবে ছিনু রোগে অজ্ঞান
মানুষ বলিবে- তুমি প্রভু করতার,
আমরা কেমনে লইব তোমার পরিচর্যার ভার?
বলিবেন খোদা- দেখনি মানুষ কেঁদেছে রোগের ঘোরে
তারি শুশ্রূষা করিলে তুমি যে সেখায় পাইতে মোরে...।
বিঃদ্রঃ১,নাস্তিকদের সম্পর্কে আরো জানতে আমার পূর্বের দুইটা নোট পড়ুন
২,আমরা সভ্য জাতি তাই না?তাই মার্জিত,যৌক্তিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কমেন্ট করুন।
footnotes-
১।Patrick Glynn, God: The Evidence, The Reconciliation of Faith and Reason in a Postsecular World , Prima Publishing, California, 1997, pp.60-61
২।Patrick Glynn, God: The Evidence, The Reconciliation of Faith and Reason in a Postsecular World , Prima Publishing, California, 1997, p.69
ফ্রয়েড আত্মার উপস্থিতি পুরোপুরি প্রত্যাখান করেছেন এবং মানুষের আত্মিক বিশ্বকে যৌন এবং ভোগবাদী চিন্তাধারা দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন।তিনি তার বই The Future of an Illusion (১৯২৭ সালে প্রকাশিত) এ বলেছেন-
“মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস একধরনের মানসিক অসুস্থতা,যাকে নিউরোসিস বলে।মানুষ যত উন্নত হবে এসকল ধর্মীয় বিশ্বাস পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যাবে”।
সে সময় বিজ্ঞানের অনগ্রগতির জন্য ফ্রয়েড যথাযথ research এবং investigation করতে পারেন নি ।আজকের যুগে যদি ফ্রয়েড থাকতেন এবং বিজ্ঞানের অগ্রগতির সুফল ভোগ করে গবেষনা করতে পারতেন,তিনি নিজেই তার কথা ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হতেন।আজকের বিংশ শতাব্দীর মনোবিজ্ঞান ফ্রয়েড এর এ সকল কথাকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।patric glynn তার বই এ বলেছেন-
“ধর্ম সম্বন্ধে ফ্রয়েড এর মতামত পুরোপুরি ভুল ধারনার বহিঃপ্রকাশ ছিল।গত ২৫ বছর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলো প্রমান করেছে ধর্মীয় বিশ্বাস নিউরোসিস তো দুরের কথা বরং এটা মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রশান্তির সাথে জড়িত।গবেষনার পর গবেষনা করার পর দেখা গেছে ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।অপরদিকে ডিভোর্স,আত্মহত্যা,হতাশা,মাদকাসক্ততা,এমন কি যৌন অসন্তুষ্টির সাথে ধর্মীয় বিশ্বাসের বৈরী সম্পর্ক বিরাজ করে”।১
Patric glynn তার বই এভাবে শেষ করেন
“মনে হচ্ছে এ বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এসে আধুনিক মনোবিজ্ঞান ধর্মের সাথে সেতুবন্ধন করতে যাচ্ছে”।২
আসলেই স্রষ্টাবিশ্বাসীদের সাথে মানসিক অসুস্থতার কোন সম্পর্ক নেই।বরং স্রষ্টা বিশ্বাস মানুষকে আত্মপ্রত্যয়ী করে তোলে।তার মানসিক বিশ্ব মন্ডলে নিয়ে আসে অনাবিল প্রশান্তি।সে কথাটাই আল্লাহ কোরানে বলেছেন-
"যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।সুরা রাদ-২৮
কিন্তু আজকাল নাস্তিকদের কিছু কাজকর্ম লক্ষ্য করলে অন্যরকম কিছু আপনার চোখে পড়বে।তারা মূলত এক ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত। Asperger's Syndrome এ আক্রান্ত এ সকল নাস্তিকরা আজ সমাজকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছে তা ভেবে দেখা দরকার।এ ধরনের disorder কে "autistic psychopathy" বলে।যারা এ ধরনের disorder এ ভোগে তারা নিজেদেরকে বুদ্ধিমান এবং সামাজিকভাবে জাগ্রত হওয়ার প্রবনতা দেখায়।তাদের সাথে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর।
এ সকল জিনিস বুঝার জন্য আপনাকে খুব বেশি পন্ডিত হতে হবে না।আজকের ব্লগ এবং নাস্তিকদের বিভিন্ন সাইটের দিকে লক্ষ্য করুন তাদের এ সকল আচরন আপনার নিকট পরিষ্কার হয়ে যাবে।
Wired Magazine এ একবার এসেছিল যে নাস্তিকদের তর্কের প্রতি ঝোঁক দেখা যায়।তাদের মধ্যে উচ্চস্থানীয় ব্যক্তিবর্গদের (যেমন ডকিন্স,ডারউইন,হিচেন) নিয়ে কোন সমালোচনা লক্ষ্য করা যায় না,এবং এটাকে তারা খারাপ মনে করে। এ ম্যাগাজিন আরো উল্লেখ করেছে Asperger's Syndrome এর সাথে নাস্তিকতার একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তাই নাস্তিকরা হয়ত বুঝতে পারছে না যে তার রোগী কিন্তু আমাদেরকে বুঝতে হবে এবং তাদের সেবা ও সাহায্যে এগিয়ে যেতে হবে।তাদের দূরে ঠেলে দিলে হবে না,বরং তাদের আপন করে নিয়ে ইসলামের সৌন্দর্য বুঝাতে হবে ।মনে রাখতে হবে রোগীর সেবা করা সুন্নাত।আমার নবী রাহামাতাল্লিল আলামীন আমাদেরকে এই শিক্ষায় দিয়েছেন।কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ যখন আমাকে আপনাকে প্রশ্ন করবেন রোগীদেরকে সেবা শুশ্রুষা করেছি কিনা তখন আমি আপনি কি জবাব দেবো,তা একবার ভেবে দেখেছেন কি?কবির ভাষায়-
‘হাশরের দিন বলিবেন খোদা- হে আদম সন্তান
তুমি মোরে সেবা কর নাই যবে ছিনু রোগে অজ্ঞান
মানুষ বলিবে- তুমি প্রভু করতার,
আমরা কেমনে লইব তোমার পরিচর্যার ভার?
বলিবেন খোদা- দেখনি মানুষ কেঁদেছে রোগের ঘোরে
তারি শুশ্রূষা করিলে তুমি যে সেখায় পাইতে মোরে...।
বিঃদ্রঃ১,নাস্তিকদের সম্পর্কে আরো জানতে আমার পূর্বের দুইটা নোট পড়ুন
২,আমরা সভ্য জাতি তাই না?তাই মার্জিত,যৌক্তিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কমেন্ট করুন।
footnotes-
১।Patrick Glynn, God: The Evidence, The Reconciliation of Faith and Reason in a Postsecular World , Prima Publishing, California, 1997, pp.60-61
২।Patrick Glynn, God: The Evidence, The Reconciliation of Faith and Reason in a Postsecular World , Prima Publishing, California, 1997, p.69
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন