শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৫

জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান

জ্ঞান অর্জন না করে নিজেকে জানা যায় না, সৃষ্টিতথ্য বোঝা যায় না, পরমস্রষ্টাকে চেনা যায় না, ক্ষমতাধর হওয়া যায় না এবং নেতৃত্ব দেয়া যায় না। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় মুসলমানরা ছিল সর্বেসর্বা। আল-কোরআনের পাশাপাশি তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান বিষয়ক সব ধরনেরই পড়েছেন, গবেষণা করেছেন। তারা মহান স্রষ্টার সৃষ্ট প্রকৃতির নির্দেশনাবলির ওপর গবেষণার মাধ্যমে সত্য উপলব্ধি করেছেন। আত্মশুদ্ধি ঘটিয়েছেন। যাবতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই পড়েছেন এবং বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার শিক্ষাগ্রহণ করেছেন।
ইবনে আল হাইসাম ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ একজন পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি সর্বপ্রথম জড়বস্তু ও আলোর প্রতিসরণ তত্ত্ব প্রদান করেন। পরে যা নিউটনের হাতে পুনরাবিষ্কৃত হয়। জাবির বিন হাইয়ান রসায়ন শাস্ত্রের ভিত্তি রচনা করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ইবনে সিনা, জাবির হাসান বিন হাইয়ান, আল রাজির নাম উল্লেখযোগ্য। তাদের লিখিত বইয়ের লাতিন অনুবাদ ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য ছিল।
কম্পিউটারের আবিষ্কার কিন্তু অঙ্ক শাস্ত্রনির্ভর। বস্তুত ‘সংখ্যাতাত্ত্বিক পরিমাণ’ আল খাওয়ারেযমীই প্রথম প্রণয়ন করেছিলেন। নিউটনের বহু আগে কবি ওমর খৈয়াম ‘বাইনোমিয়াল থিউরাম’ আবিষ্কার করেন। পৃথিবীর প্রথম সম্পূর্ণ মানচিত্র প্রণয়ন করেন মুসলিম ভূগোলবিদ ইবনে হাক্কল। আল ফারাবি ছিলেন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ ও দার্শনিক। তিনি ৭০টি ভাষায় কথা বলতে পারতেন। আল বিরুনি এবং ইবনে বতুতা প্রমুখ মুসলিম মনীষী ভূবিদ্যার প্রসারে অনেক অবদান রেখে গেছেন। ইবনে খালদুনকে বলা হয় ইতিহাস, দর্শন ও সমাজবিজ্ঞানের জনক। বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহাসিক ছিলেন ইবনে জাবির তাবারি। ‘তারিখ আল রাসুল ওয়া আল মুলুক’, তার এ গ্রন্থটি সারাবিশ্বে রেফারেন্স হিসেবে গঠিত হচ্ছে। আল কিন্দি গণিত, ইতিহাস, ভূগোল, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ৩৬৯টি গ্রন্থ রচনা করেন। অতীতে জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে নয় বরং ব্যবসা-বাণিজ্যে, শিল্প, কল-কারখানাতে মুসলমানদের ছিল গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
আব্বাসীয় খলিফা মামুন বাগদাদে ‘দারুল হিমাহ’ নামে যে বিজ্ঞানকেন্দ্র গড়ে তুলেছিনে তাতে সে যুগে প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। যখন খ্রিস্টীয় সমাজে বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছিল তখন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বহুসংখ্যক গবেষণা ও আবিষ্কার সাধিত হয়। কর্ডোভার রাজকীয় পাঠাগারে ৪ লাখ বই ছিল। ইবনে রুশদ তখন সেখানে গ্রিক, ভারতীয় ও পারস্য দেশীয় বিজ্ঞানে পাঠদান করতেন। যার কারণে সারা ইউরোপ থেকে পি তরা কর্ডোভায় পড়তে যেতেন। যেমন আজকের দিনে মানুষ তাদের শিক্ষার পরিপূর্ণতার জন্য ব্রিটেন, আমেরিকা যায়। ‘ইসলাম ও আরবি সভ্যতার ইতিহাস’ বইতে ওস্তাভলি বোঁ লিখেছেন, ‘ইউরোপে যখন বই ও পাঠাগারের কোনো অস্তিত্ব ছিল না, বহু মুসলিম দেশে তখন প্রচুর বই ও পাঠাগার ছিল। সত্যিকার অর্থে বাগদাদের ‘বায়তুল হিকমা’য় ৪০ লাখ, কায়রোর সুলতানের পাঠাগারে ১০ লাখ, সিরিয়ার ত্রিপোলি পাঠাগারে ৩০ লাখ বই ছিল। অন্যদিকে মুসলমানদের সময় শুধু স্পেনে প্রতিবছর ৭০ থেকে ৮০ হাজার বই প্রকাশ হতো।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন