সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০১৫

কুরআনে মৌমাছিকে কেন্দ্র করে অভিযোগের জবাব

❀ আয়াতঃ১৬:৬৮-৬৯; প্রসঙ্গ মৌমাছি ও মধুঃ
✪ প্রশ্নঃ মৌমাছি যে ফল খায় না, মধু খায় এটা আল্লা বোধ করি জানতেন না। আর মধু বাস্তবেই কি কোন রোগের প্রতিকার বা ওষুধ? মোটেও না।
 এটা শক্তিদায়ক একটা পানীয় ছাড়া কিছুই নয়।
 মধু নানা রঙের পানীয় হবে কেন? মধুর তো একটাই রং।এমন উজবুক কথা আল-কুরান ছাড়া আর কৈ পাইবেন? (নাউজুবিল্লাহ)
❑ ❐ আগে[16:69] আয়াতটির অর্থ আমরা দেখে নিঃ
 এই সুরাটিতে আল্লাহ মৌমাছিদের
 কথা উল্লেখ করে বলছেন--
ﻭَﺃَﻭْﺣَﻰ ﺭَﺑُّﻚَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺤْﻞِ ﺃَﻥِ ﺍﺗَّﺨِﺬِﻱ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺠِﺒَﺎﻝِ ﺑُﻴُﻮﺗًﺎ
 ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟﺸَّﺠَﺮِ ﻭَﻣِﻤَّﺎ ﻳَﻌْﺮِﺷُﻮﻥَ
আপনার পালনকর্তা মধু মক্ষিকাকে আদেশ
 দিলেনঃ পর্বতগাহ্রে, বৃক্ষ এবং উঁচু
 চালে গৃহ তৈরী কর, [সুরা নাহল: ৬৮]
ﺛُﻢَّ ﻛُﻠِﻲ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺍﻟﺜَّﻤَﺮَﺍﺕِ ﻓَﺎﺳْﻠُﻜِﻲ ﺳُﺒُﻞَ ﺭَﺑِّﻚِ ﺫُﻟُﻼً ﻳَﺨْﺮُﺝُ
 ﻣِﻦ ﺑُﻄُﻮﻧِﻬَﺎ ﺷَﺮَﺍﺏٌ ﻣُّﺨْﺘَﻠِﻒٌ ﺃَﻟْﻮَﺍﻧُﻪُ ﻓِﻴﻪِ ﺷِﻔَﺎﺀ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﺇِﻥَّ
 ﻓِﻲ ﺫَﻟِﻚَ ﻵﻳَﺔً ﻟِّﻘَﻮْﻡٍ ﻳَﺘَﻔَﻜَّﺮُﻭﻥَ
এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথ সমূহে চলমান হও। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়।তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের
 প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।[সুরা নাহল: ৬৯]
❖ Sahih International
 Then eat from all the fruits and follow
 the ways of your Lord laid down [for
 you]." There emerges from their bellies a
 drink, varying in colors, in which there
 is healing for people. Indeed in that is a
 sign for a people who give thought.
এখানে অভিযোগ অনেকগুলিঃ
✔ মধুর ঔষধি গুণাগুণ
✔ মৌমাছির পেট থেকে পানীয় নির্গমন
✔ মৌমাছি কি ফল খায়?
আশা করি এ নোটটির পর অবিশ্বাসীদের মৌমাছি এবং মধু নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না।
✪ মধুর ঔষধি গুণাগুণঃ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অনেক পরিবারে এ রীতি চালু আছে যে,বাচ্চাদের সর্দি-কাশি হলে তুলসির পাতা মধুর সাথে খাওয়ানো হয়।এটা মধুর ঔষধি গুণাগুনের জলজ্যান্ত প্রমাণ।তারপরও অবিশ্বাসী-অস্বীকারকারীরা কেমন সত্য এড়িয়ে যাচ্ছে দেখুন!
গবেষণায় দেখা গেছে, মধু গলার খুসখুসে ভাব কমায়। লবণ-পানির সাথে সামান্য মধু
 মিশিয়ে গড়গড়া করলে এ ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যায়। মধু কাশি কমায়। শিশুদের শ্বাসনালীর (সংক্রমণে কাশির চিকিৎসায় মধু
 কার্যকর (সূত্র : Arch Pediatr Adolesc Med. 2007; 161: 1140-1146, 1149-1153)।
মধু মুখের ভেতর রোগজীবাণুর বংশ বৃদ্ধি কমাতে সহায়ক। মুখের ঘায়ে মধু কার্যকর। পাকস’লীর
 অ্যাসিডিটি ও আলসারে মধু উপকারী। ত্বকের ক্ষত,কাটা বা পোড়ায় মধু খুবই কার্যকর।
 মধুতে রয়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ ফ্রুকটোজ, ৩১ শতাংশ গ্লুকোজ, ১৭ শতাংশ পানি, বাকি অন্যান্য
 উপাদান। গ্লুকোজ আর ফ্রুকটোজের মিশ্রণে মধুর অসমোলারিটি খুব বেশি। মধুর বেশি অসমোলারিটির কারণে রোগজীবাণু বাঁচতে পারে না। মধুর গ্লুকোজ অক্সিডাইজড হয়ে গ্লুকোনিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয়। মৌমাছির শরীর
 থেকে আসা এক পাচক রসের মাধ্যমে মধুতে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড তৈরি হয়। এই
 হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ত্বকের ক্ষতে রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর। মধুর বেশি অসমোলারিটি, গ্লুকোনিক অ্যাসিড ও হাইড্রোজেন পার অক্সাইড- সবই রোগজীবাণু
 ধ্বংসে সহায়ক। মধু ত্বকের ক্ষতের প্রদাহ কমায়, ফোলা কমায়। ত্বকের ক্ষতে মধুর পাতলা প্রলেপ
 ক্ষতে রোগজীবাণুর বৃদ্ধি রোধ করে, প্রদাহ-ব্যথা-ফোলা ইত্যাদি কমায়, ত্বকের সাথে ব্যান্ডেজের লেগে যাওয়া রোধ করে। ঘা শুকাতে সহায়তা করে। ত্বক সামান্য পুড়ে গেলে তাতে সাথে সাথে মধু প্রলেপ দিলে ফোসকা পড়ে না বা ব্যথা হয় না। পোড়ার দাগ কমাতেও সহায়ক মধু। এক কথায়, ত্বকের ক্ষত চিকিৎসায় মধু খুবই কার্যকর বিভিন্ন ফাইটোকেমিক্যালের উপস্থিতির
 কারণে মধুর আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্ষমতা।
 শরীরে প্রতিনিয়ত উৎপন্ন হওয়া ক্ষতিকর ফ্রি রেডিক্যাল দূর করতে পারে মধু।মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এক কথায় শরীরকে সুস্থ’ রাখতে, রোগ প্রতিরোধ করতে ও রোগ
 নিরাময়ে মধু খুবই কার্যকর।
---এবার বলুন মধুর কি ঔষধি গুণাগুণ নেই?
✪ মৌমাছির পেট থেকে পানীয় নির্গমনঃ বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, মধুর রং ও উপাদানে পার্থক্য থাকে। স্বাদ, সৌরভ ও ঘ্রাণেও হয় ভিন্ন।মধুর রং পানির মতো বা সোনালী ঘন লাল।কোন কোন ক্ষেত্রে মধুর রং হয় হালকা রকমের। মধুর মূল উপাদানগুলো হচ্ছে পানি, শর্করা বা চিনি,এসিড,খনিজ,আমিষ এবং বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন।শর্করাগুলোর মধ্যে থাকে লেভোনোজ,ডেকট্টোজ,মালটোজ, ডাইম্যাকারাইড এবং কিছু উচ্চমানের চিনি।মধুতে যে সব এসিড পাওয়া যায় সেগুলোর নাম সাইট্রিক,স্যালিক,বুটানিক,গ্লুটামিক,স্যাক্সিনিক, ফরমিক,এসেটিক,পাইরো গ্লুটামিক এবং এমাইনো এসিড।মধুতে মিশ্রিত খনিজ দ্রব্যগুলো হচ্ছে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, সিলিকা,ম্যাগনেসিয়াম, ক্লোরাইড,সালফেট,ফসফেট,কপার,লৌহ, ম্যাংগানিজ প্রভৃতি।থায়ামিন, রিভোফ্লোবিন,ভিটামিন কে এবং ফলিক এসিড নামক এসিড মধুতে থাকে।এগুলো মধুর তরল আকার ধারণ করে।এজন্য আল্লহ বলেন-
" তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়।"
✪ মৌমাছি কি ফল খায়ঃএ বিষয়টি অনেকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।ফুলের পুষ্পমঞ্জরী থেকে মৌমাছিরা মধু আহরণ করে।মাত্র ১০০গ্রাম মধু আহরণ করতে মৌমাছিকে প্রায় দশ লক্ষ ফুলে ভ্রমণ করতে হয়।ফুল থেকেই ফলের জন্ম হয়।মৌমাছিরা ফুলের পরাগায়নে সহায়তা করে ফুলে ভ্রমণ করলেও পক্ষান্তরে ফলেরই ভ্রমণ করে থাকে।
 আমি জানি আপনারা এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হবেন না।
 আরেকটি যুক্তি হলো মৌমাছিরা মিষ্টির প্রতি আসক্ত।দেখে থাকবেন হয়তো তারা মিষ্টির কোনো কৌটা,কেন কিংবা পাত্রের চারপাশে ঘোরাঘুরি করে থাকে।এটা ঠিক ফলের ক্ষেত্রেও ঘটে।অধিক পাকা ফলের এরা পছন্দ করে।বুঝতেই পারছেন কি বলতে চাচ্ছি!
হ্যা, মৌমাছিরা ফল খায়।আমার কথা বিশ্বাস করতে হবে না।নিচের ব্লগটা পড়ুনঃ
http://www.honeybeesuite.com/do-honey-bees-eat-fruit/
যদি আরো কিছু জানতে চান এটা দেখুনঃ
 এখানে ক্লিক করুন
 মনে হয় না আপনাদের আর কোনো প্রশ্ন আছে?
 "সত্য এসেছে মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে।"
✪ এখন দেখুন এ সূরার কিছু গাণিতিক বিস্বয়কর ব্যপার।
 সুরাটিতে আছে--
ক. এই সূরাটির অবস্থান কোরআনের ১৬
 নাম্বার স্থানে।আর বিজ্ঞান জানিয়েছে, পুরুষ মৌমাছির ক্রোমোসোম(CHROMOSOME) সংখ্যা ১৬।
 খ. আবার সুরাটিতে আয়াত আছে ১২৮ টা।
 যা ১৬ এবং৩২ এ দুটি সংখ্যা দ্বারাই বিভাজ্য।
 ১২৮/ ১৬ = ৮; ১২৮/ ৩২= ৪
 গ. সুরা নাহলের শেষ আয়াতটিতে আছে ৩২
 টি অক্ষর যা স্ত্রী মৌমাছির CHROMOSOME সংখ্যার সমান।
ﺇِ ﻥَّ ﺍ ﻝ ﻝّ ﻩَ ﻡَ ﻉَ ﺍ ﻝَّ ﺫِ ﻱ ﻥَ ﺍ ﺕَّ ﻕَ ﻭ …ﺍْ ﻭَّ ﺍ ﻝَّ ﺫِ ﻱ ﻥَ
 ﻩُ ﻡ ﻡُّ ﺡْ ﺱِ ﻥُ ﻭ ﻥَ
ঘ. সুরা নাহলের ৬৮ নং আয়াতে সর্বপ্রথম "নাহল" বা মৌমাছি শব্দটি এসেছে, আর খুবই আশ্চর্যজনক ভাবে এই সুরার ১ নং আয়াত থেকে শুরু করে ৬৮ নং আয়াত পর্যন্ত "আল্লাহ" নামটি ৩২ বার এসেছে যা স্ত্রী মৌমাছির CHROMOSOME সংখ্যার সমান।"আল্লাহ" নামটি এসেছে ১ থেকে ৬৮
 নং আয়াত পর্যন্ত --১, ৯, ১৮, ১৮, ১৯, ২০, ২৩, ২৬, ২৮, ৩১, ৩৩, ৩৫,৩৬, ৩৬, ৩৮(দুই বার), ৪১, ৪৫, ৪৮( দুই বার), ৪৯,৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৬, ৫৭, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৫ নং আয়াতে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন