শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৫

যে কারণে পান খাবেন না

পান খাওয়া মানে পান পাতা চিবানো নয়। চুন, সুপারী, খয়ের, জর্দা ইত্যাদি দিয়ে পান পাতা চিবানোর নাম হল পান খাওয়া। আমার এ প্রবন্ধে পান খাওয়া বলতে প্রচলিত এ তরীকাকে বুঝানো হবে। প্রচলিত এ পদ্ধতিতে পান খাওয়ার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে আমাদের এ উপমহাদেশে। এ ছাড়া বিশ্বের অন্য কোথাও এ ধরনের পান খাওয়ার ব্যাপকতা দেখা যায় না বলেই মনে হয়। অনেকের ধারণা মোঘল আমলে পান খাওয়ার প্রচলন ব্যাপকতা লাভ করে।
যারা পান খেয়ে থাকেন তাদের আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি।
প্রথমতঃ যারা অত্যাধিক পান খেতে অভ্যস্ত পান ছাড়া একটি ঘন্টা কাটানো তাদের জন্য খুব মুশকিল হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে শতকরা নিরানব্বই জনের বেশী পান, সুপারী, ও চুনের সাথে তামাক-জর্দা, খয়ের ইত্যাদি খেয়ে থাকেন।
দ্বিতীয়তঃ যারা সাড়াদিন পান খেতে অভ্যস্ত নন তবে খাওয়ার পর একটু পান না খেলে চলে না। এদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ পানের সাথে তামাক-জর্দা ও খয়ের গ্রহণ করে থাকেন।
তৃতীয়তঃ যারা পেশাদার পানখোর নন, তবে কোন বিশেষ দাওয়াত বা অনুষ্ঠানে পান ট্রাই করে থাকেন।
আর যারা একে বাড়ে পান দু চোখে দেখতে পারেন না তাদের আলোচনা না-ই করালাম।
 তবে পান খাওয়া ঠিক কিনা? স্বাস্থ্য বিশারদদের দৃষ্টিতে পান খাওয়া কতটা মন্দ? ধর্মীয় দৃষ্টিতে পান খাওয়ার বিধান কি? এ সব প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করা হবে এ লেখায়।
আমাদের দেশের সাধারণ শিক্ষিতদের তুলনায় ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত তথা আলেম সমাজ ও মাদরাসা ছাত্রদের মধ্যে পান খাওয়ার প্রবণতা বেশী দেখা যায়। আপনি যদি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় যান, দেখবেন, সেখানে পান খাওয়া ছাত্র-ছাত্রী তেমন একটা চোখে পড়বে না। কিন্তু মাদরাসা ছাত্র ও আলেম সমাজের শতকরা চল্লিশ জন পান খেয়ে থাকেন।
তারা বিড়ি-সিগারেট, গাজা-মদ না খেয়ে যে সুনাম অর্জন করেছেন পান খেয়ে যেন তার কাফফারা আদায় করতে চান।
আমাদের দেশের আলেমগন পান খাওয়াকে জায়েয মনে করেন। কিন্তু আরব দেশের আলেমগন পান খাওয়াকে হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছেন। এ কারণে সৌদী আরবে পান খাওয়া সরকারী ভাবেই নিষিদ্ধ।
যা মানুষের স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর তা খাওয়া ইসলামী শরীয়াহ অনুমোদন করেনা। বরং নিষেধ করে। যদিও পান পাতা স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর বলে এখনো প্রমাণিত হয়নি তবে চুন, সুপারী, খয়ের, জর্দা স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে চিকিৎসা ও স্বাস্থ বিজ্ঞানীদের কারো দ্বিমত নেই।
 যখন কোন রোগী ডাক্তারের কাছে যায় তখন ডাক্তার তাকে পান ত্যাগ করার পরামর্শ দেন। কোন ডাক্তার কাউকে পান খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে আজ পর্যন্ত শোনা যায়নি। চুন, সে তো কোন খাদ্য তালিকায় পড়ে না। জর্দা; সে তো তামাক। সুপারী চিবানো স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। ক্যানসার সৃষ্টিতে সহায়তা করে। সমপ্রতি এক খবরে প্রকাশ মার্কিন গবেষকরা দীর্ঘদিন গবেষণার পর প্রমাণ করেছেন সর্বদা সুপারী চিবানোর ফলে মুখে ক্যানসার হতে পারে। যারা সুপারী খেয়ে থাকেন তাদের মুখে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী।
(দৈনিক ইনকিলাব ৮ ই আগষ্ট ২০০৪)
অবশ্য পানের রস দিয়ে ব্লাড ক্যানসারের প্রতিষেধক উদ্ভাবনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। কিছুটা সফল ও হয়েছেন।
তাই আপনি যে কারণে পান খাওয়া ছেড়ে দেবেন তা একটু আলোচনা করা যাক।
(১) আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন :
তিনি তোমাদের জন্য পবিত্র ও ভাল বস্তু হালাল করেন আর ক্ষতিকর ও নোংড়া বিষয় হারাম করেন।
( সূরা আল-আরাফ, আয়াত -১৫৭)
সকল চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেছেন পান খাওয়া স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। ডাক্তার তার রোগীকে পান খেতে বারণ করেন।
পান খাওয়ার মধ্যে কোন উপকারিতা থাকলেও থাকতে পারে তবে ক্ষতির দিকটা প্রবল।
আল্লাহ তায়ালা মদ ও জুয়া হারাম করতে যেয়ে বলেন:
তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিন উভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর তার মধ্যে মানুষের জন্য উপকারিতাও আছে। তবে এগুলোর পাপ উপকারের চেয়ে বড়।
 সূরা আল-বাকারা, আয়াত- ২১৯
আল্লাহ তাআলার এ বাণী দ্বারা বুঝে আসে মদের মধ্যে উপকারিতা থাকা সত্বেও তা হারাম করেছেন। কারণ তার মধ্যে ক্ষতির বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।
পানের মধ্যে উপকারিতা থাকলেও তার ক্ষতির দিকটা বড় কর দেখা হবে। ইসলামি ফিকাহর মূলনীতি তা-ই বলে।
(২) প্রত্যেক খাদ্যের মধ্যে দুটো গুণের কমপক্ষে একটি থাকে। গুণ দুটো হল (ক) পুষ্টি জোগান (খ) ক্ষুধা নিবারণ।
কিন্তু পান পুষ্টিও যোগায় না ক্ষুধাও নেভায় না।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জাহান্নামীদের খাদ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন :
এটা তাদের পুষ্টি যোগাবে না এবং ক্ষুধা নিবারণ করবে না।
 সূরা আল- গাশিয়াহ, আয়াত ৭
তাই গুণগত দিক দিয়ে পানকে জাহান্নামীদের খাদ্যের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এ আয়াতের আলোকে এমন খাদ্য গ্রহণ করা ঠিক নয় যা ক্ষুধা নিবারণ করে না বা পুষ্টি যোগান দেয় না।
(৩) পান দাঁত-কে কলুষিত করে। আর ইসলামের নবী সাইয়েদুনা মুহাম্মাদ সা. দাঁতকে সর্বদা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি তার উম্মতকে মিছওয়াক করার আদেশ দিয়েছেন খূব গুরুত্ব সহকারে। আর বলেছেনঃ এ মিছওয়াক তথা দাত ব্রাশ করার উদ্দেশ্য হল মুখের পরিচ্ছন্নতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি।
যিনি পান খেয়ে থাকেন তিনি শত চেষ্টা করেও দাঁতকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারেন না। তাই পান খাওয়ার মাধ্যমে ইসলামী শরীয়তে মিছওয়াকের যে উদ্দেশ্য রয়েছে তা মারাত্নকভাবে ব্যহত হয়।
(৪) চুন ছাড়া পান খাওয়ার কথা কল্পনা করা যায় না। আর চুন কোন খাদ্যের মধ্যে পড়ে না। চুন পিত্তথলিতে পাথর তৈরীতে সহায়তা করে।
(৫) পানে সুপারী খাওয়া হয়। সুপারী নেশা উদ্রেক করে। যিনি সুপারী খেতে অভ্যস্ত নন তিনি সুপারী খাওয়ার সাথে সাথে কিছুটা বেহুঁশ হয়ে পড়েন। তাই সুপারী কোন স্বাভাবিক খাদ্য নয়।
(৬) পান-খাদক ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দিয়ে থাকেন। আপনি যদি পান খেতে অভ্যস্ত না হয়ে থাকেন আর আপনার বাসায় এমন একজন মেহমান আসে যিনি পান খেয়ে থাকেন, তাহলে তার আচরণে আপনি বিরক্ত হবেন। দেখবেন আপনার পরিস্কার ঘরের এখানে সেখানে পানের চিপটি। বিছানার চাঁদরগুলোতে দাগ পড়ে গেছে। বেসীনগুলো এমন লালচে হয়ে পড়েছে যা দেখলে আপনার অসহ্য লাগবে। পানখোর এভাবে পরিবেশ-কে নোংড়া করে। যেখান পান খাওয়া লোকদের আশা যাওয়া বেশী সে সকল অফিস আদালত থেকে একটু ঘুরে আসুন, দেখবেন পান পরিবেশকে কিভাবে নোংড়া করে।
এমনিভাবে আপনি যদি এক পানখাদকের কাছে সালাত আদায় করতে দাঁড়ান তাহলে সত্যিই আপনার কষ্ট হবে তার মুখের দুর্গন্ধে। বিশেষ করে ফজরের নামাজে।
অনেকে বলেন পান খেলে মুখে দুর্গন্ধ হয় না বরং পান মুখের দুর্গন্ধ দূর করে। আমি বলি কথাটি ঠিক, তবে তা দুটি অবস্থায়; যতক্ষণ পান খেতে থাকে ততক্ষণ দুর্গন্ধ হয় না। আর যদি পার্শের ব্যক্তি অনুরূপ পানখোর হয়ে থাকেন তাহলে তিনি দুর্গন্ধ অনুভব করেন না। এ ছাড়া সর্বাবস্থায় পানখাদকের মুখ থেকে পান- সুপারী, তামাক-মিশ্রিত দুর্গন্ধ বের হতে থাকে।
আর প্রতিবেশী বা সহযাত্রীর কষ্ট হয় এমন কোন কাজ করা জায়েয নয়।
(৭) অনেক পান খেতে অভ্যস্ত ব্যক্তিকে দেখেছি যে তারা পান খাওয়া সত্বেও দাঁত পরিস্কার রাখার ব্যাপারে অত্যাধিক যত্নবান থাকেন। বার বার মেছওয়াক ও ব্রাশ করেন। বিভিন্ন ধরণের টুথপেষ্ট ও টুথপাউডার ব্যবহার করেন। তবুও তারা দাঁতকে পানের দাগ থেকে মুক্ত রাখতে পারেননি। তাদের দাঁত কালো রং ধারণ করে বিশ্রি হয়ে গেছে। এখন আপনি ভেবে দেখতে পারেন যে, দাঁত ও মুখ এমন এক স্থান যা বার বার পরিস্কার করা হয় ও স্বভাবত এ স্থানটা ময়লা আটকে রাখে না তা সত্বেও দাঁত ও মুখ পান দ্বারা কিভাবে কলুষিত হয়ে থাকে। তাহলে পানের সংস্পর্ষে দেহের ঐ সকল ভিতরের অংশের অবস্থা কেমন হয়ে যায় যা পরিস্কার করা যায় না কখনো?
(৮) একটু বিবেক দিয়ে কল্পনা করুন যে, রাসূলে কারীম সা. এর কাছে এক ব্যক্তি পান চিবাতে চিবাতে আসল। তিনি তার মুখের দিকে তাকালেন। দেখলেন তার মুখ ও জিহবা পানের রংয়ে লাল ও দাঁতগুলো কালো হয়ে গেছে। তখন তিনি তাকে কি বললেন? তিনি কি বলবেনঃ খুব ভাল জিনিষ খাচ্ছো, তুমি আমাদেরও পান খেতে দাও? না বলবেন, পান খেলে মুখ ও দাঁতের স্বাভাবিক সৌন্দর্য- যা আল্লাহ দান করেছেন- নষ্ট হয়?
এ প্রশ্নটা নিজের বিবেকের কাছে করুন। অতঃপর সিদ্ধান্ত নিন; পান খাবেন, না ত্যাগ করবেন।
(৯) পান খেলে সম্পদের অপচয় হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ
তোমরা খাবে ও পান করবে কিন্তু অপচয় করবে না।
সূরা আল-আরাফ, আয়াত- ৩১
এ আয়াত দ্বারা বুঝে আসে মানুষ সাধারণত খাওয়া ও পান করার মধ্যে সম্পদের অপচয় করে থাকে।
আর যা কিছু মুখে দিয়ে গলধকরণ করা যায় তা উপকারী হোক বা না হোক, তা খাওয়া বা পান করার অনুমতি দেয়া হয়নি। যদি খাদ্যটা উপকারী না হয় তবে তার পিছনে সম্পদ ব্যয় করার নাম অপচয়। তাই পান খাওয়া একটি অপচয়।
(১০) পান খাওয়া একটা অনর্থক কাজ। সকল অনর্থক কাজ পরিহার করা ইসলামের দাবী। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আল-কুরআনে মুমিনদের গুণাবলি আলোচনা করতে যেয়ে বলেছেনঃ
যারা অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকে।
সূরা আল- মুমিনুন, আয়াত- ৩
রাসূলে কারীম সা. বলেছেন, যে সকল কথা ও কাজ মানূষের কোন উপকারে আসে না তা পরিহার করা হল তার ইসলামের সৌন্দর্য।
(মুসলিম)
তাই পান খাওয়ার মত অনর্থক কাজ সকলের পরিহার করা উচিত।
আমার এ লেখার সাথে একজন প্রখ্যাত চিকিৎসকের পান সম্পর্কিত একটি লেখা হুবুহু নিম্নে তুলে ধরলাম -
পান সুপারির ক্ষতির ক্ষতিয়ান
পানের উৎপত্তি মালয়েশিয়াতে। পরবর্তী সময়ে ভারত হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পানের বিস্তার লাভ করে। ধুমপানের পাশাপাশি পান সেবন আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। গ্রামাঞ্চলে পান দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন প্রায় ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
পানে আছে কিছু টারফেনলস। এ কারণে ঠোট ও জিহবায় দাগ পড়ে। দাঁতেও স্থায়ী দাগ পড়ে। অনেকেই ভেবে থাকেন, জর্দা বা তামাক পাতা ছাড়া শুধু সুপারি দ্বারা পান সেবন করলে তেমন কোন ক্ষতি হয় না। এটা ঠিক না। আসলে কেউ এভাবে পান খায়ও না?
চুনঃ পানের সঙ্গে চুন হল ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা ক্যালসিয়াম হাইড্রো-অক্সাইড। চুনের প্যারাঅ্যালোন ফেনল মুখে আলসার বা ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। সুপারি চুনের সঙ্গে বিক্রিয়া ঘটিয়ে এরিকোলিন নামক নারকোটিক এলকালয়েড উৎপন্ন করে। এটি এরিকোলিন প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এ কারণে চোখের মণি সংকুচিত হয় এবং মুখে লালার নি:সরণ বেড়ে যায়। শুধু তাই নয় চোখে পানিও আসতে পারে। তবে এক-খিলি পান-সুপারি খেলে এ পরিবর্তন নাও দেখা যেতে পারে।
সুপারিঃ কাঁচা সুপারি চিবালে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। উচ্চ মাত্রার সাইকোঅ্যাকটিভ এলকালয়েড থাকার কারণে এমন হয়। কাঁচা সুপারি চিবালে শরীরে গরম অনুভূত হয়, এমনকি শরীর ঘেমে যেতে পারে। সুপারির উত্তেজক পদার্থ নিকোটিনের সঙ্গে তুলনা করা যায়। সুপারি খেলে তাৎক্ষণিকভাবে যে সমস্যা হতে পারে তা হল-
(ক) অ্যাজমা বেড়ে যেতে পারে।
(খ) হাইপারটেনশন বা রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে
(গ) ট্যাকিকার্ডিয়া বা নাড়ির স্পন্দনের হার বেড়ে গিয়ে অস্থিরতা অনুভূত হতে পারে। দীঘদিন ধরে সুপারি খেলে মুখে সাবমিউকাস ফাইব্রোসিস হতে পারে। এটি ক্যানসারের পূর্বাবস্থা, যা ক্যান্সারেও রূপান্তরিত হতে পারে।
সাদা পাতা বা জর্দাঃ ক্যান্সার গবেষণার আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএআরসি-এর মতে, যারা পানের সঙ্গে তামাক জাতীয় দ্রব্যাদি গ্রহণ করেন, তাদের সাধারণের চেয়ে ৫ গুণ বেশি মুখে ক্যান্সার হওয়ার আশংকা থাকে। জর্দার অ্যালকালয়েড ও নিকোটিন অধিক মাত্রায় বিষাক্ত, তাই এত যতই সুগন্ধি মেশানোই হোকনা কেন তা জীবনের সৌরভ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনে।
খয়েরঃ খয়ের লাল রঙের বলে পান খেলে খুব কম সময়ের মধ্যে মুখ লাল হয়ে যায়। খয়ের এসট্রিনজেন্ট হিসেবে কাজ করে মুখের অভ্যন্তরের মিউকাস মেমব্রেন বা আবরণীকে সংকুচিত করে।

ডা. মোঃ ফারূক হোসেন
দৈনিক যুগান্তর, ১৩ ই মে ২০০৮

ইসলাম পর্দার আড়ালে রেখে নারীদেরকে কেন অবমূল্যায়ন করেছে?

ইসলামে নারীর মর্যাদা’- ধর্মহীন প্রচার মাধ্যমগুলোর উপর্যপুরি আক্রমণের লক্ষ্যস্থল- ‘হিজাব’ বা ইসলামী পোশাক। ইসলামী বিধি বিধানে নারী নিগ্রহের সবচাইতে বড় প্রমাণ হিসেবে যা কথায় কথায় দেখানো হয়। ধর্মীয়ভাবে নারীর জন্য রক্ষণশীল পোশাক বা পর্দা ফরয করার নেপথ্য কারণগুলো আলোচনার পূর্বে ইসলাম আগমনের পূর্বে বিশ্বসমাজে সামগ্রীকভাবে নারীর অবস্থা ও অবস্থান কি ছিল তা নিয়ে কিঞ্চিৎ পর্যালোচনা প্রয়োজন।
 ক. ইসলাম-পূর্ব কালে নারীর-মর্যাদা বলতে কোনো ধারণার অস্তিত্ব ছিলনা। তারা ব্যবহৃত হতো ভোগ্য সামগ্রী হিসেবে
 নিম্নে বর্ণিত বিষয়গুলো সর্বজনমান্য বিশ্ব-ইতিহাস থেকে তুলে আনা হয়েছে। সমুদয় মিলে যে চিত্র আমাদের চোখের সামনে উঠে আসবে তাতে আমরা সুস্পষ্ট দেখতে পাবো ইসলাম-পূর্ব সভ্যতাগুলোতে নারীর ‘মর্যাদা’ বলতে কিছুই ছিলনা। হীন নীচ এমনকি নুন্যতম ‘মানুষ’হিসেবেও তারা গণ্য ছিল না।
 ১. ব্যাবিলনীয় সভ্যতাঃ ব্যাবিলনীয় আইনে নারীর কোনো ধরণের কোনো অধিকার স্বীকৃত ছিলনা। মূল্য-মর্যাদা কি ছিল একটি উদাহরণে তা স্পষ্ট করে দেবে। কোনো পুরুষ যদি ঘটনাক্রমে কোনো নারীকে হত্যা করে তাহলে তাকে শাস্তি দেবার পরিবর্তে তার স্ত্রীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হতো।
 ২. গ্রীক সভ্যতাঃ গ্রীক সভ্যতাকে পূর্বকালের সকল সভ্যতার শ্রেষ্ঠতম ও উজ্জ্বলতম গণ্য করা হয়। তথাকথিত এই উজ্জ্বলতম সভ্যতায় নারী ছিল সব রকম অধিকার থেকে বঞ্চিত। উপরন্তু অস্তিত্বগত ভাবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট। একারণে তাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখা হতো। গ্রীক পৌরাণিক শাস্ত্রের এক কাল্পনিক নারী যার নাম “প্যানডোরা”। বিশ্ব মানবতার সকল দুর্ভাগ্যের মূল কারণ সেই নারী। তাই গ্রীকরা নারীকে ‘প্রায় মানুষ’ অর্থাৎ মানুষের মতো বটে, কিন্তু সম্পূর্ণ নয় বলে মনে করত। পুরুষের সাথে তার কোনো তুলনাই হয় না এমন। অপরদিকে নারীর সতীত্ব ছিল মহামূল্যবান কিছু এবং দেবীর মতো সম্মানও করা হতো। কিছুকাল পরেই এই গ্রীকরা আত্মঅহংকারের উত্তুঙ্গে উঠে ধরা পড়ে বিকৃত যৌনাচারের হাতে, বেশ্যালয়ে গমনাগমন সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছি।
 ৩. রোমান সভ্যতাঃ যখন তার বিকাশের শিখর চূড়ায় তখন একজন পুরুষ যে-কোনো সময় তার স্ত্রীকে হত্যা করার অধিকার রাখতো। নগ্ন নারী যে-কোনো আসরের সৌন্দর্য এবং বেশ্যালয় যাতায়াত পুরুষের সংস্কৃতি।
 ৪. মিসরীয় সভ্যতাঃ মিসরীয় সভ্যতায় নারী ‘ডাইনী’ এবং শয়তানের নিদর্শন হিসেবে গণ্য হতো।
 ৫. ইসলাম পূর্ব আরবঃ ইসলাম পূর্ব আরবে নারীর অবস্থান ছিল ঘরের অন্যান্য ব্যবহারীক আসবাবপত্রের মতো। অনেক পিতা অসম্মানের হেতু হিসেবে তার শিশুকণ্যাকে জীবন্ত কবর দিত।

 খ. ইসলাম নারীকে ওপরে উঠিয়েছে। দিয়েছে তাদেরকে সমতা এবং প্রত্যাশা করে- তারা তাদের মর্যাদা রক্ষা করবে।
 ইসলাম নারীর মর্যাদাকে ওপরে উঠিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে। ইসলাম নারীর মর্যাদাকে সংরক্ষণ করতে চায়।
 পুরুষের পর্দাঃ মানুষ সাধারণত পর্দা নিয়ে আলোচনা করে নারীদের ক্ষেত্রে। অথচ জ্যোতীর্ময় কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা নারীর পর্দার আগে পুরুষের পর্দার কথা বলেছেন। সূরা নূরে বলা হয়েছে।
• বলো! বিশ্বাসী পুরুষদেরকে- তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের শালীনতা রক্ষা করে। এটা তাদেরকে আরো পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন (মানসিকতার) করে তুলবে, আর আল্লাহ কিন্তু সেই সব কিছুই জানেন যা তোমরা করো। (২৪:৩০)
যে মুহুর্তে কোনো পুরুষ একজন নারীর দিকে তাকাবে- লজ্জাকর অশ্লীল চিন্তা তার মনে এসে যেতে পারে। কাজেই তার দৃষ্টি অবনত রাখাই তার জন্য কল্যাণকর।

 নারীর জন্য পর্দাঃ সূরা নূরের পরবর্তী আয়াতে বলা হচ্ছেঃ
• এবং বলো, বিশ্বাসী নারীদেরকে- তারা তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান সমূহের সযত্ন সংরক্ষণ করে এবং তাদের দৈহীক সৌন্দর্য ও অলংকারের প্রদর্শনী না করে। তবে অনিবার্য্য ভাবে যা উন্মুক্ত থাকে। তারা যেন তাদের বক্ষের ওপরে চাদর ঝুলিয়ে দেয় এবং প্রদর্শন না করে তাদের সৌন্দর্য, তাদের স্বামী তাদের পিতা তাদের স্বামীর পিতা (শশুর) এবং সন্তানদের ছাড়া। (২৪:৩১)

গ. হিজাবের ছয়টি শর্ত
 কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী হিজাব পালনের ছয়টি শর্ত।
 ১. মাত্রা বা পরিমাণঃ প্রথম শর্ত হলো দেহের সীমানা যা যতটুকু-অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে। নারী ও পুরুষের জন্য এটা ভিন্ন ভিন্ন। পুরুষের জন্য ঢেকে রাখার বাধ্যতামূলক পরিসীমা তার দেহের নুন্যতম নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। নারীর জন্য এই পরিসীমা আরো বিস্তৃত- কব্জী পর্যন্ত হাত এবং মুখমন্ডল ছাড়া বাদবাকি শরীরের সকল অংশ ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক। তারা যদি চায় তাহলে তা-ও আবৃত করে নিতে পারে। ইসলামের বিশেষজ্ঞ আলেমগণের অনেকেই হাত ও মুখমন্ডলকেও বাধ্যতামূলক ঢেকে রাখার অংশ মনে করেন। বাদবাকি পাঁচটি শর্ত নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে একই রকম প্রযোজ্য।
 ২. পরিধেয় পোষাক ডিলেডালা হতে হবে। যেন দেহের মূল কাঠামো প্রকাশ না পায়।
 ৩. পরিধেয় কাপড় এতটা পাতলা ও স্বচ্ছ হতে পারবেনা যাতে ভেতরটা দেখা যায়।
 ৪. পোশাক এতটা আকর্শণীয় ও জাকজমকপূর্ণ হতে পারবে না যাতে বিপরীত লিঙ্গ আকর্ষিত হয়।
 ৫. পোশাক এমন হতে পারবে না যা বিপরীত লিঙ্গের পোশাকের মতো বা সমরুপ।
 ৬. পোশাক এমন হতে পারবে না দেখতে অবিশ্বাসীদের মতো। তাদের এমন কোনো পোশাক পরা উচিৎ নয় যা বিশেষভাবে পরিচিত এবং চিহ্নিত অন্য ধর্মাবলম্বীদের (যারা মূলত অবিশ্বাসী)।

ঘ. অন্যান্য জিনিসের মধ্যে আচার-আচারণও হিজাবের অন্তর্ভুক্ত
 ছয় ধরনের পরিচ্ছদের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ পর্দা ব্যক্তির নৈতিক চরিত্র, আচার-আচারণ, অভিব্যক্তি এবং লক্ষ উদ্দেশ্যকেও একিভূত করে। একজন ব্যক্তি সে যদিও শুধু কাপড়-চোপড়ে হিজাব পালন করে তাহলে সে ‘হিজাব’ পালক করলো ন্যূনতম পর্যায়ের। পোশাকের পর্দা পালনের সাথে সাথে চোখের পর্দা, মনের পর্দা ,চিন্তা-ভাবনার পর্দা এবং লক্ষ্য উদ্দেশ্যের পর্দাও থাকতে হবে। পর্দার সীমার মধ্যে আরো যা পড়ে, তা হলো- ব্যক্তির চলা, কথা বলা এবং তার সার্বিক আচরণ ইত্যাদি।

 ঙ. হিজাব বা পর্দা অহেতুক উৎপীড়ন প্রতিরোধ করে
 নারীকে কেন পর্দার বিধান দেয়া হয়েছে কুরআন তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। সূরা অহ্‌যাবে বলা হয়েছেঃ
• হে নবী! বলুন আপনার স্ত্রী ও কন্যাদেরকে এবং বিশ্বাসী নারীদেরকে যে, তারা যেন তাদের বহিরাবরণ পরে থাকে (যখন বাইরে যাবে)। এটা তাদের পরিচিতির অত্যন্ত উপযোগী। (তারা যেন পরিচিত হয়ে বিশ্বাসী-নারী হিসাবে) তাহলে আর অহেতুক উৎপিড়ীত হবে না। আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল দয়াবান। (৩৩:৫৯)
জ্যোতীময় কুরআন বলছেঃ নারীকে পর্দার বিধান দেয়া হয়েছে এই জন্য যে, তারা যেন রুচিশীলা পরিচ্ছন্ন নারী হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। এবং এটা তাদেরকে লজ্জাকর উৎপীড়নের হাত থেকে রক্ষা করবে।

 চ. দু’টি জমজ বোনের উদাহরণ
 ধরা যাক জমজ দু’টি বোন। উভয়ই অপূর্ব সুন্দরী। ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। তাদের একজন পরেছে ইসলামী হিজাব। অর্থাৎ সম্পূর্ণ দেহ আবৃত। শুধু কব্জী পর্যন্ত হাত ও মুখমন্ডল খোলা। অন্যজন পরেছে পশ্চিমা পোশাক। শরীরের অধিকাংশ খোলা এবং প্রায় অর্ধ-উলঙ্গ। সামনেই এক মোড়ে আড্ডা দিচ্ছে এক দঙ্গল যুবক। মেয়েদেরকে দেখে হৈ-হল্লা করা, শীশ দেয়া আর বাগে পেলে উত্ত্যক্ত করাই তাদের কাজ। এখন এই দুই বোনকে যেতে দেখে তারা কাকে উদ্দেশ্য করে হল্লা করবে ? শীশ দেবে ? যে মেয়েটি নিজেকে ঢেকে রেখেছে তাকে দেখে? না যে মেয়েটি প্রায় উদোম হয়ে আছে তাকে দেখে? খুব স্বাভাবিক ভাবেই তাদের চোখ যাবে যে কিনা দেখাতে চায় তার দিকে। কার্যত এ ধরনের পোশাক বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ‘ভাষাহীন নিরব আমন্ত্রণ’। যে কারণে বিপরীত লিঙ্গ উত্তেজিত হতে বাধ্য হয়। জ্যোর্তীময় কুরআন যথার্থই বলেছে- ‘হিজাব নারীদের উৎপীড়ন থেকে রক্ষা করে’।

ছ. ধর্ষকের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি মৃত্যুদন্ড
 ইসলামের বিধান অনুযায়ী একজন পুরুষ যদি কোনো নারী ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে তার শাস্তি প্রকাশ্য মৃত্যুদন্ড। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন এই কঠিন বাক্য শুনে। কেউ কেউ তো বলেই বসেন, ইসলাম অত্যন্ত নিষ্ঠুর, বর্বরদের ধর্ম। শত শত অমুসলিম পুরুষের কাছে আন্তরিকভাবে জানতে চেয়েছি- ধরুন, আল্লাহ না করুন কেউ একজন আপনার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে অথবা আপনার বোন বা কন্যা। আপনাকে বিচারকের আসনে বসানো হয়েছে এবং ধর্ষণকারীকে আপনার সামনে হাজির করা হয়েছে। কি শাস্তি দেবেন তাকে? প্রত্যেকেই উত্তর একটিই-“মৃত্যুদন্ড”। কেউ বলেছেন, ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে আমার চোখের সামনে ব্রাস ফায়ার করে ঝাঝরা করে দিতে বলব। কেউ বলেছেন ওকে তিল তিল করে মৃত্যুর স্বাদ দিয়ে মারতে বলব। এই উত্তর দাতাদের কাছেই আমার প্রশ্ন,আপনার মা-বোন স্ত্রী কন্যাকে কেউ ধর্ষণ করলে তাকে ওভাবে মেরে ফেলতে চান। কিন্তু এই একই অপরাধ যদি অন্য কারো স্ত্রী-কন্যার ওপর ঘটে তখন এই আপনিই বলেন মৃত্যুদন্ড অত্যন্ত কঠোর ও নিষ্ঠুর হয়ে যায়। কেন ভাই, একই অপরাধের জন্য ক্ষেত্রভেদে দুই রকম দন্ড?

জ.নারীকে মর্যাদা দেবার পশ্চিমা সমাজের দাবি সর্বৈভ মিথ্যাচার
 নারী স্বাধীনতার পশ্চিমা শ্লোগান একটি প্রকাশ্য প্রতারণা। তার দেহের সৌন্দর্যকে খুলে খুলে ব্যবসা করার একটি লোভনীয় ফাঁদ। তার আত্মার অবমাননা এবং তার সম্মান ও মর্যাদাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আর প্রকাশ্য বাস্তবতা হলো তাদেরকে তাদের সম্মানিত অবস্থান থেকে নামিয়ে উপপত্নী, রক্ষিতা এবং সৌখিন সমাজের লালসা পূরনের জন্য উড়ন্ত প্রজাপতি বানিয়ে ছেড়েছে। ফলে তারা এখন বিলাসী পুরুষের নাগালের মধ্যে থাকা ভোগের পুতুল আর যৌন কারবারীদের ব্যবসায়ের সস্তা পণ্য। যা আড়াল করা হয়েছে শিল্প ও সংস্কৃতির মনোলোভা রঙিন পর্দা দিয়ে।

 ঝ. নারী ধর্ষণের হার আমেরিকায় সর্বোচ্চ
 উন্নত বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অবস্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্য। নৈমিত্যিক সংঘটিত নারী ধর্ষণের হার সারা বিশ্বে তার রেকর্ড কেউ স্পর্শও করতে পারবে না। ১৯৯০ সালের এফবিআই-এর দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী গোটা আমেরিকা জুড়ে প্রতিদিন গড়ে ১৭৫৬ টি নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী পর্যায়ে আরো একটি রিপোর্টে প্রকাশিত হয় যাতে প্রতিদিন সংঘটিত ধর্ষণ অপরাধে সংখ্যা ১৯০০ উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে সন উল্লেখ করা নেই তবে অনুমান করা হয় তা ১৯৯২ বা ১৯৯৩ সালের কথা। হয়তো আমেরিকানরা পরবর্তী দু’তিন বছরে আরো ‘সাহসী’ হয়ে উঠেছে।
 আবার একটা কাল্পনিক দৃর্শপট পর্যবেক্ষণ করা যাক- আমেরিকান নারী সমাজ ইসলামী হিজাব পালন করছে। যখনি কোনো পুরুষ কোনো নারীর দিকে তাকাচ্ছে, কোনো অশ্লীল চিন্তা মনে এসে যেতে পারে ভাবার সাথে সাথে সে তার দৃষ্টিকে নীচে নামিয়ে নিচ্ছে। পথে ঘাটে যেখানেই কোনো নারী দৃশ্য হচ্ছে, কব্জী পর্যন্ত তার দুটি হাত আর নেহায়েত সাদামাটা সাজগোজহীন মুখমন্ডলের কিয়দাংশ ব্যাস,বাদবাকি সব ডোলাডালা হিজাবে ডাকা। তদুপুরি রাষ্ট্রীয় বিধান এমন যে, যদি কোনো পুরুষ ধর্ষণের অপরাধ করে তার জন্য নির্দিষ্ট-জনসমক্ষে প্রকাশ্য মৃত্যুদন্ড।
 এবার আপনাকে প্রশ্ন করছি, গোটা পরিবেশটা যদি সত্যি সত্যিই এমন হয় তাহলে আমেরিকার এই নারী ধর্ষণের ভঙ্ককর হার বাড়তে থাকবে না একই অবস্থানে থাকবে? নাকি কমে যাবে এবং কমতে কমতে একদিন এই জঘন্য অপরাধ নিঃশেষ হয়ে যাবে।

 ঞ. ইসলামী শরীয়তের পুর্ণাঙ্গ বিধান কার্যকর হলে ধর্ষনের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে খুব স্বাভাবিক ভাবেই।
 কেননা শরীয়তের বিধান, মানুষেরই জন্য তাদের সৃষ্টিকর্তা বিধাতার নির্বাচিত বিধিবিধান যদি কার্যকর হয় তাহলে তার ফলাফল কল্যাণী অমিয় ধারা হযে বেরিয়ে আসতে শুরু করবে। ইসলামী শরীয়ত যদি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় পৃথিবীর যে কোনো ভূখন্ডে- তা আমেরিকাই হোক অথবা ইউরোপ বা পৃথিবীর অন্যান্য যে কোনো দেশে। তার প্রথম প্রতিক্রিয়া হবে এই যে, সে দেশের গোটা সমাজ একসাথে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেবে।
 কাজেই ‘হিজাব’ নারীকে অপদস্ত করেনি বরং উপরে তুলে সম্মানের আসন দিয়েছে। আর সংরক্ষণ করেছে তার শালীনতা ও পবিত্রতা।

কে রোগাক্রান্ত?আস্তিক নাকি নাস্তিক?

গ্রীক ঐতিহাসিকদের যুগ থেকেই বস্তুবাদ,স্রষ্টায় অবিশ্বাস চলে আসলেও উনবিংশ শতাব্দীতে তা তার পূর্নরুপ ধারন করে।মার্ক্স,এঙ্গেলস, নীৎসে,ডুর্খেইম,ফ্রয়েড আর ডারউইনরা বস্তুবাদ আর নাস্তিকতাকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদান করেছে।মার্ক্স এবং ডুর্খেইম ইতিহাস এবং সমাজবিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেছেন।ডারউইন দিয়েছে তথাকথিত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি,ফ্রয়েড মনোবিজ্ঞান কে নাস্তিকতার ধ্যান ধারনা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেছেন।তবে বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান এ সকল বিজ্ঞানের আশ্রয়েব্যাখ্যাকৃত তথাকথিত অপবিজ্ঞানগুলোকে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে।

ফ্রয়েড আত্মার উপস্থিতি পুরোপুরি প্রত্যাখান করেছেন এবং মানুষের আত্মিক বিশ্বকে যৌন এবং ভোগবাদী চিন্তাধারা দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন।তিনি তার বই The Future of an Illusion (১৯২৭ সালে প্রকাশিত) এ বলেছেন-

“মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস একধরনের মানসিক অসুস্থতা,যাকে নিউরোসিস বলে।মানুষ যত উন্নত হবে এসকল ধর্মীয় বিশ্বাস পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যাবে”।

সে সময় বিজ্ঞানের অনগ্রগতির জন্য ফ্রয়েড যথাযথ research এবং investigation করতে পারেন নি ।আজকের যুগে যদি ফ্রয়েড থাকতেন এবং বিজ্ঞানের অগ্রগতির সুফল ভোগ করে গবেষনা করতে পারতেন,তিনি নিজেই তার কথা ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হতেন।আজকের বিংশ শতাব্দীর মনোবিজ্ঞান ফ্রয়েড এর এ সকল কথাকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।patric glynn তার বই এ বলেছেন-

“ধর্ম সম্বন্ধে ফ্রয়েড এর মতামত পুরোপুরি ভুল ধারনার বহিঃপ্রকাশ ছিল।গত ২৫ বছর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলো প্রমান করেছে ধর্মীয় বিশ্বাস নিউরোসিস তো দুরের কথা বরং এটা মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রশান্তির সাথে জড়িত।গবেষনার পর গবেষনা করার পর দেখা গেছে ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।অপরদিকে ডিভোর্স,আত্মহত্যা,হতাশা,মাদকাসক্ততা,এমন কি যৌন অসন্তুষ্টির সাথে ধর্মীয় বিশ্বাসের বৈরী সম্পর্ক বিরাজ করে”।১

Patric glynn তার বই এভাবে শেষ করেন

“মনে হচ্ছে এ বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এসে আধুনিক মনোবিজ্ঞান ধর্মের সাথে সেতুবন্ধন করতে যাচ্ছে”।২

আসলেই স্রষ্টাবিশ্বাসীদের সাথে মানসিক অসুস্থতার কোন সম্পর্ক নেই।বরং স্রষ্টা বিশ্বাস মানুষকে আত্মপ্রত্যয়ী করে তোলে।তার মানসিক বিশ্ব মন্ডলে নিয়ে আসে অনাবিল প্রশান্তি।সে কথাটাই আল্লাহ কোরানে বলেছেন-

"যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।সুরা রাদ-২৮

কিন্তু আজকাল নাস্তিকদের কিছু কাজকর্ম লক্ষ্য করলে অন্যরকম কিছু আপনার চোখে পড়বে।তারা মূলত এক ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত। Asperger's Syndrome এ আক্রান্ত এ সকল নাস্তিকরা আজ সমাজকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছে তা ভেবে দেখা দরকার।এ ধরনের disorder কে "autistic psychopathy" বলে।যারা এ ধরনের disorder এ ভোগে তারা নিজেদেরকে বুদ্ধিমান এবং সামাজিকভাবে জাগ্রত হওয়ার প্রবনতা দেখায়।তাদের সাথে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর।
এ সকল জিনিস বুঝার জন্য আপনাকে খুব বেশি পন্ডিত হতে হবে না।আজকের ব্লগ এবং নাস্তিকদের বিভিন্ন সাইটের দিকে লক্ষ্য করুন তাদের এ সকল আচরন আপনার নিকট পরিষ্কার হয়ে যাবে।

Wired Magazine এ একবার এসেছিল যে নাস্তিকদের তর্কের প্রতি ঝোঁক দেখা যায়।তাদের মধ্যে উচ্চস্থানীয় ব্যক্তিবর্গদের (যেমন ডকিন্স,ডারউইন,হিচেন) নিয়ে কোন সমালোচনা লক্ষ্য করা যায় না,এবং এটাকে তারা খারাপ মনে করে। এ ম্যাগাজিন আরো উল্লেখ করেছে Asperger's Syndrome এর সাথে নাস্তিকতার একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

তাই নাস্তিকরা হয়ত বুঝতে পারছে না যে তার রোগী কিন্তু আমাদেরকে বুঝতে হবে এবং তাদের সেবা ও সাহায্যে এগিয়ে যেতে হবে।তাদের দূরে ঠেলে দিলে হবে না,বরং তাদের আপন করে নিয়ে ইসলামের সৌন্দর্য বুঝাতে হবে ।মনে রাখতে হবে রোগীর সেবা করা সুন্নাত।আমার নবী রাহামাতাল্লিল আলামীন আমাদেরকে এই শিক্ষায় দিয়েছেন।কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ যখন আমাকে আপনাকে প্রশ্ন করবেন রোগীদেরকে সেবা শুশ্রুষা করেছি কিনা তখন আমি আপনি কি জবাব দেবো,তা একবার ভেবে দেখেছেন কি?কবির ভাষায়-

‘হাশরের দিন বলিবেন খোদা- হে আদম সন্তান
 তুমি মোরে সেবা কর নাই যবে ছিনু রোগে অজ্ঞান
মানুষ বলিবে- তুমি প্রভু করতার,
আমরা কেমনে লইব তোমার পরিচর্যার ভার?
বলিবেন খোদা- দেখনি মানুষ কেঁদেছে রোগের ঘোরে
তারি শুশ্রূষা করিলে তুমি যে সেখায় পাইতে মোরে...।


বিঃদ্রঃ১,নাস্তিকদের সম্পর্কে আরো জানতে আমার পূর্বের দুইটা নোট পড়ুন
 ২,আমরা সভ্য জাতি তাই না?তাই মার্জিত,যৌক্তিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কমেন্ট করুন।

footnotes-
১।Patrick Glynn, God: The Evidence, The Reconciliation of Faith and Reason in a Postsecular World , Prima Publishing, California, 1997, pp.60-61
২।Patrick Glynn, God: The Evidence, The Reconciliation of Faith and Reason in a Postsecular World , Prima Publishing, California, 1997, p.69

নাস্তিকতার কারন সন্ধানে

স্রষ্টা এ পৃথিবীতে মানুষকে অতি গুরুত্বপূর্ণ, যৌক্তিক স্বাধীনতা দিয়ে পাঠিয়েছেন। স্রষ্টাকে গ্রহন এবং বর্জনের স্বাধীনতা।

"আল্লাহ বলেন, আমি তাকে(মানুষকে) পথ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন সে হয় কৃতজ্ঞ হয়, না হয় অকৃতজ্ঞ হয়।সুরা দাহর-৩

“বলুনঃ সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক”-সুরা কাহাফ-২৯

অনেক মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে গ্রহন করে, আর অনেকে বর্জন করে। যারা গ্রহন করে তাদের মধ্যেও অনেকে আছে যারা ভূলভাবে গ্রহন করে। আর যারা বর্জন করে তাদের ইংরেজিতে Atheist বলে আর বাংলায় বলে নাস্তিক।ইদানিং আবার দেখলাম তারা নিজেদের “মুক্তমনা”(!?) দাবি করা শুরু করছে।

কালের বিভিন্ন সময়ে অনেক মানুষ স্রষ্টাকে অস্বীকার করেছে। Betrand Russel শুরু করে অনেক Philosopher ঈশ্বরে অবিশ্বাস করেছে বললেও Plato, Socrates এর মত অনেক Great Philosopher ই ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিল।মুক্তমনা (?!) নাস্তিকরা dawkins নিয়ে চিল্লাচিল্লি করে গলার রগ চিড়ে ফেললেও নিউটন,ম্যক্স প্ল্যাংকের মত অনেক বিজ্ঞানীই স্রষ্টাবিশ্বাসী ছিলেন। আজকাল আমাদের দেশের মুক্তমনা (?!), তথাকথিত বুদ্ধিজীবি (?!) সম্প্রদায় প্রবীর ঘোষ, আরজ আলী মাতাব্বুর কিংবা আহমদ শরীফের দু চারটা Quotation দিয়েই ঈশ্বরকে ভুল প্রমানে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।অথচ অনেক দার্শনিক এবং বিজ্ঞানীও আছেন যারা তাদের এসব চিন্তা চেতনাকে আবালীপনা হিসেবে চিহ্নিত করে গেছেন।আচ্ছা মানুষ নাস্তিক কেন হয়? আমি আমার ছোট দাওয়াতী জীবনে অনেক নাস্তিকের সাথে সরাসরি কিংবা ইন্টারনেটে আলাপ করেছি। এ সকল নাস্তিকদের কথাবার্তা শুনে আমি নাস্তিক হওয়ার কিছু কারন খুঁজে পেয়েছি। আমি পাঠকদের সাথে কারনগুলো Share করছি। আশা করি এর পর থেকে কোন নাস্তিকদের সাথে পাঠকদের deal করতে সুবিধা হবে.........



প্রথম কারনঃ একজন খুব সুন্দর করে বলেছেন-

“চোর যে কারনে পুলিশকে খুঁজে পায় না একই কারনে নাস্তিকরা স্রষ্টাকে খুঁজে পায় না”।

আমার মনে আছে আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন স্যারেরা অনেক সময় অফিসে বেত আনতে পাঠাত। আমরা দেখেও না দেখার ভান করে চরে এসে স্যারকে বলতাম “স্যার বেত নাই।" বেত পেলে তার Consequence তো আমরা খুব ভালভাবে উপলব্ধি করতে পারতাম। নাস্তিকরাও আল্লাহকে খুঁজে পায় না এই ভয়ে যে, তাদের পাপ কাজের হিসাব তাদেরকে দিতে হবে।

দ্বিতীয় কারনঃ Fransis Becon-

“এটা সত্য যে জীবনদর্শন সম্পর্কে ক্ষুদ্র জ্ঞান মানুষের মনকে নাস্তিকদের দিকে ঝুঁকে দেয়,কিন্তু দর্শনের গভীর জ্ঞান মানুষের মনকে ধর্মের দিকে নিয়ে আসে।“(১)

দর্শনশাস্ত্রের জ্ঞানের স্বল্পতার কারনে মূলত তারা এ জীবনের দর্শনকে উপলব্ধি করতে পারে না। উপলব্ধি করতে পারে না তাদের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।বিবর্তনবাদ অনুযায়ী মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বংশ পরম্ভরা রক্ষা করা।হাউ ফানি!এমন স্পল্প জীবন দর্শন নিয়ে তারা নিজেকে এবং মানবতাকে কি দিতে পারবে তা প্রশ্নবিদ্ধ**, স্বল্প জীবনদর্শন সম্পন্ন মানুষ যেমন জীবন সাগরে হাতড়াতে থাকে কিন্তু কোন কুলকিনারা পায় না, তেমনি স্বল্প জীবনদর্শন সস্পন্ন নাস্তিকেরাও তাদের এ জীবনের কোন কিনারা পায় না।
 জীবনকে স্বল্প পরিসরে চিন্তা এবং স্বল্প জ্ঞানের উপর ভর করেই চিন্তার কারনে নাস্তিকেরা স্রষ্টায় অবিশ্বা্সীতে পরিনত হয়।

তৃতীয় কারনঃ Werner Heisenberg বলেছেন-

“প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের(জীববিজ্ঞান,রসায়ন,পদার্থ ইত্যাদি) পেয়ালা থেকে প্রথম চুমুক নাস্তিকতা নিয়ে আসলেও, এর তলদেশে স্রষ্টা অপেক্ষমান”।

বিজ্ঞানের জ্ঞানের স্বল্পতা নাস্তিকদের নাস্তিকতার পথে নিয়ে আসে। তারা বিজ্ঞানের পৃষ্ঠে হাবুডুবু খায় কিন্তু এর অন্তঃস্থলের ভান্ডারকে উপলব্ধি করতে কিংবা জানতে চেষ্টা করে না। তারা অনেকে অপবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে গ্রহন করে ধোঁকায় পতিত হয়।
Theory of Evolution কে নিয়ে তাদের বাড়াবাড়ির সীমা নেই। অথচ অনেক বিজ্ঞানী একে পুরোপুরি Reject করেছেন। এটা কোন প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়। আর বিজ্ঞানী Coley বলেছেন, “Science is the statement of truth found out.” অর্থাৎ সত্যই একমাত্র বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।বিবর্তনবাদের মত hypothesis তো বিজ্ঞানের চৌসীমানায় ও আসে না।

তাই এটি অপবিজ্ঞান ছাড়া আর কিছুই নয়।

চতুর্থ কারনঃ আল্লাহ কোরানে বলেছেন-

“ তারা অন্যায় ও অহংকার করে নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল’,সুরা নামল-১৪

আল্লাহ ঠিকই বলেছেন তাদের অন্তর যদিও ইসলামকে মেনে নেয় কিন্তু তারা অন্যায় ও অহংকার বশত আল্লাহকে অস্বীকার করে। তারা যখন দেখে ইসলাম গ্রহন করলে তাদের alcohol ছাড়তে হবে, Free sex কে বলতে হবে No, Homo sexuality কে বলতে হবে No, অনেক Atheist রা হয়ত এখন বলবেন নাস্তিকতা মানেই কি alcoholism, Free sex, Homo sexuality. আমার অনুরোধ নাস্তিকদের বই, প্রবন্ধ পড়লেই এ সকল জিনিসকে স্বাধীনতা আর প্রাকৃতিকরনের নামে হালালীকরন, খুব ভালভাবেই উপলব্ধি করতে পারবেন। স্রষ্টাকে বিশ্বাস করে নেয়ার মানেই হচ্ছে মনের প্রবৃত্তিকে দমন করতে হবে। আর এই জিনিসটিই স্রষ্টা বিশ্বাসের পথে নাস্তিকদের কাছে এক বিরাট বাধা।

Exceptional(কিন্তু বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন)ঃ
 বর্তমানে কিছু নাস্তিকের আর্বিভাব ঘটেছে, যাদের মধ্যে এসব কিছুর উপস্থিতি তো থাকেই সাথে সাথে আরেকটি জিনিস তাদের উপর dominating থাকে তা হল “ভাব”,এটা এখন একটি ফ্যাশনে পরিনত হয়েছে। ফেসবুকে religious views এ atheist শব্দটি আজকাল প্রগতিশীলতার নির্ণায়ক। কথায় কথায় ধর্মকে গালি দেয়া, ধর্মপ্রচারকারীদের গালি দেয়া আজ Smartness এর পরিচায়ক। গলা উঁচু করে ধর্মের শৃঙ্খলা ভাঙ্গার কথা বলা মানে বুদ্ধিজীবি (?!), মুক্তমনা (?!) তকমার দিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।

ইদানিং আর কিছু লোক আছে যারা দেখে যে, পশ্চিমারা জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে গেছে এবং তারা আস্তে Materialist Philosophy কে পুরোপুরি আত্তীকরনে সফল হয়েছে। তখন এরা ভাবা শুরু করে আহা ! আমিও যদি স্রষ্টা অবিশ্বাসের মাধ্যমে Materialistic Philosophy কে পুরোপুরি মেনে নিতে পারি তাহলে আমিও হয়ত তাদের মত উন্নত জীবন যাপন করতে পারব। এক্ষেত্রে দুটি বিষয় লক্ষনীয়-

(১) পশ্চিমারা জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত হয়েছে এটা সত্য কিন্ত এটাও সত্য এ বিজ্ঞান তাদের বেগ দিলেও আবেগ নিয়ে ফেলেছে, motion দিলেও তাদের থেকে emotion নিয়ে ফেলেছে। তাইতো আমরা দেখি তাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নৈতিক অবক্ষয়। সেখানে মানবতা আর নৈতিকতা চোখ লুকিয়ে কাঁদে।

(২) পশ্চিমারা কি Materialistic Philosophy গ্রহনের কারনে উন্নত নাকি অন্য কারনে? এ কথাও আমাদেরকে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। মনে রাখতে হবে-
# রবীন্দ্রনাথ স্কুল পালানোর জন্য রবীন্দ্রনাথ হননি।
# ডেভিড বেকহ্যাম তার চুলের কারনে বিশ্বসেরা খেলোয়াড় হননি,
 # সালমান খান তার ছেড়া প্যান্টের জন্য ভাল অভিনেতা হননি।
আমরা কাউকে Icon মানলে যে কারনে সে Icon হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে সে কারনটাকে দেখি আশেপাশের কারনকে নয়।

তাই আমাদের জীবন দর্শনের হয়ত অনেক কিছুই স্রষ্টাবিহীন অস্পষ্ট থেকে যাবে। জীবন দর্শন পুরোপুরি বুঝার জন্য স্রষ্টার কোন বিকল্প নেই। Spinoza ঠিকই বলেছেন।
“স্রষ্টব্যতীত কোন কিছুর কল্পনাই করা যায় না”(২)

সর্বশেষ একটি moto দিয়ে আমার লেখাটি শেষ করতে চাই-


No creation Know creation
No life Know life
No God Know God
No peace Know peace


Allah knows da best…………

**নাস্তিকদের মানবতার উদাহরন হিসেবে আমার পূর্বের নোটটি পড়ুন।
#অনুগ্রহপুর্বক কোন slang use না করে যুক্তি ও ধৈর্য সহকারে কমেন্ট করুন।

Footnotes
১,(Bacon, F. The Essays of Lord Bacon, Longman & Green, 1875, 64.)
২,(Elwes, R. H. M. The Chief Works of Benedict de Spinoza, Vol. II,Dover Publications, 1951, 60.)

মধ্যযুগীয় মুসলিম মনীষীদের নাম বিকৃতি

মধ্যযুগীয় মুসলিম চিন্তাবিদরা বিশ্বের মানুষের জন্য আলোকবর্তিকাস্বরূপ। তারা আলোকিত করেছেন আমাদের চিন্তাচেতনাকে, সভ্যতা-সংস্কৃতিকে, জীবন-জগৎকে। দুঃখজনক হলেও সত্য, পাশ্চাত্যের অনেক গবেষক এসব মুসলিম মনীষীর নামকে উপস্থাপন করেছেন বিকৃতভাবে। ফলে প্রাচ্যের লোকগুলো তাদের চিরচেনা এসব মনীষীকে পাশ্চাত্যের দেয়া নামে চিনতেও পারেন না। প্রথমেই ধরা যাক মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খারিজমীর কথা। তিনি ছিলেন মুসলমান বিজ্ঞানীদের শ্রেষ্ঠতম একজন। তার সিদ্ধান্তগুলো মধ্যযুগীয় গণিত শাস্ত্রকে আছন্ন করে রেখেছিল। তিনি ছিলেন একাধারে ভূগোলবিদ, জ্যোতির্বিদ, গণিতবিদ ও দার্শনিক। তার সিদ্ধান্তগুলো পরে আধুনিক ইউরোপ অকুণ্ঠচিত্তে গ্রহণ করেছে। ইউরোপীয়রা বিশেষত ল্যাটিন লেখকরা তার নামকে বিকৃতি করে লিখছে গরিটাস বা আল গারদম।

রসায়ন বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ানের কথা আমরা অবগত। কেবল চিকিৎসা বিষয়েই জাবির প্রায় ৫০০ গ্রন্থ রচনা করেন। তাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রসায়নবিদদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। আরবি ভাষায় জারিব শব্দের অর্থ যিনি সংস্কার সাধন করেন, শৃংখলা বিধান করেন। অথচ তার নামটি বিকৃত করে পাশ্চাত্য ইতিহাসবিদরা লিখেছেন ‘জিবার’।

ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল কিন্দি কোরআন, হাদিস, ফিকাহ, ইতিহাস, দর্শন, ভাষাতত্ত্ব, রাজনীতি, অংকশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা প্রভৃতি নানা বিষয়ে বিশারদ ছিলেন। তিনি ছিলেন গ্রিক, হিব্রু, ইরানি, সিরিয়াক এমনকি আরবি ভাষাতেও বুৎপত্তিসম্পন্ন। তিনি নানা বিষয়ে ২৬৫ খানা গ্রন্থ রচনা করেন। পাশ্চাত্য ইতিহাসবিদরা তার নাম বিকৃত করে তাকে পরিচিত করেছেন ‘কিন্ডাস’ নামে। তেমনি জ্যোতির্বিদ আবুল মাসারের নাম পরিবর্তন করে তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে মাসের নামে। কাগজের অন্যতম আবিষ্কারক ইউসুফ ইবনে ওমরের নাম ইংরেজি স্টাইলে রাখা হয়েছে ‘উমট’।
আবদুল্লাহ আল বাত্তানী ছিলেন একজন মশহুর জ্যোতির্বিদ এবং গণিতজ্ঞ। তিনি নিজস্ব মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন জ্যোতির্বিদ্যা চর্চার জন্য। তিনি বহু বছর ধরে জ্যোতির্বিদ্যায় প্রচলিত ভুলগুলো সংশোধন করে এই শাখার অনেক সংস্কার ও উন্নতিসাধন করেন। অথচ পাশ্চাত্য ইতিহাসবিদরা তাকে উল্লেখ করেছেন আল ‘বাতেজনিয়াজ’ বা আল বিটেনিয়াজ বলে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানী আল রাজির নাম কে না জানে। তিনি প্রায় দুশ’র মতো গ্রন্থ রচনা করেন, যার শ’খানেক চিকিৎসা শাস্ত্রের ওপর। তবে তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হচ্ছে ‘আল জুদায়ী ওয়াল হাসবাহ’ নামক গ্রন্থটি। ইংরেজি ভাষাতেই ১৪৯৮ থেকে ১৮৬৬ সাল পর্যন্ত এই গ্রন্থখানা মোট চল্লিশবার মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি কিতাব আল মনসুরী নামে দশ খণ্ডে একটি বিরাট চিকিৎসা গ্রন্থও প্রণয়ন করেন। এই মহান চিকিৎসা বিজ্ঞানীর নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘রাজাম’।
জ্যোতির্বিজ্ঞানী আল জারকালীর নাম পাশ্চাত্য গ্রন্থসমূহে উল্লিখিত হয়েছে ‘মারজাকেল’ নামে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক বলা হয় ইবনে সিনাকে। তার প্রকৃত নাম আবু আলী আল হুসাইন। তার উপাধি হচ্ছে আল শেখ আল রইস। অথচ তার নামও বিকৃতির হাত থেকে রেহাই পায়নি। পাশ্চাত্য ইতিহাসবিদরা তার নাম দিয়েছেন জালিনুস। কেবল তাই নয়, মুসলিম ঐতিহাসিক স্থানসমূহ জাবালুত তারেক হয়েছে বিজ লিটার, দারুসসালাম হয়েছে জেরুসালেম, মিসরীয় শহর ইস্কান্দরিয়া হয়েছে আলেকজান্দ্রিয়া বা অ্যালেক্স, বায়তুল্লাহাম হয়েছে বেথেলহাম।

আজকাল আমাদের দেশেও মুসলমানদের নাম নিয়ে শুরু হয়েছে নানা রকম বিদ্রূপ। টিভির একটি বিজ্ঞাপনে ইউনুস নামের একজন লোককে দেখানো হয়, যে কিনা নিজের আঙুলগুলোও ভালো করে গুনতে পারে না। অথচ আমাদের একজন নোবেল বিজয়ীর নাম ইউনূস। সর্বোপরি ইউনুস একজন নবীর নামও বটে। আমাদের একজন প্রথিতযশা কথাসাহিত্যিক তার একটি টিভি নাটকে ‘মফিজ’ নামের এক পাগলকে উপস্থাপনা করলেন। অথচ মফিজ কতইনা পবিত্র একটি নাম। তেমনি তিনি ‘কুদ্দুস’ নামটিকেও তার মতো করে এদেশের অগণিত নাদানের মুখে তুলে দিয়েছেন। অথচ ‘কুদ্দুস’ আল্লাহর নাম।

জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান

জ্ঞান অর্জন না করে নিজেকে জানা যায় না, সৃষ্টিতথ্য বোঝা যায় না, পরমস্রষ্টাকে চেনা যায় না, ক্ষমতাধর হওয়া যায় না এবং নেতৃত্ব দেয়া যায় না। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় মুসলমানরা ছিল সর্বেসর্বা। আল-কোরআনের পাশাপাশি তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান বিষয়ক সব ধরনেরই পড়েছেন, গবেষণা করেছেন। তারা মহান স্রষ্টার সৃষ্ট প্রকৃতির নির্দেশনাবলির ওপর গবেষণার মাধ্যমে সত্য উপলব্ধি করেছেন। আত্মশুদ্ধি ঘটিয়েছেন। যাবতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই পড়েছেন এবং বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার শিক্ষাগ্রহণ করেছেন।
ইবনে আল হাইসাম ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ একজন পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি সর্বপ্রথম জড়বস্তু ও আলোর প্রতিসরণ তত্ত্ব প্রদান করেন। পরে যা নিউটনের হাতে পুনরাবিষ্কৃত হয়। জাবির বিন হাইয়ান রসায়ন শাস্ত্রের ভিত্তি রচনা করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ইবনে সিনা, জাবির হাসান বিন হাইয়ান, আল রাজির নাম উল্লেখযোগ্য। তাদের লিখিত বইয়ের লাতিন অনুবাদ ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য ছিল।
কম্পিউটারের আবিষ্কার কিন্তু অঙ্ক শাস্ত্রনির্ভর। বস্তুত ‘সংখ্যাতাত্ত্বিক পরিমাণ’ আল খাওয়ারেযমীই প্রথম প্রণয়ন করেছিলেন। নিউটনের বহু আগে কবি ওমর খৈয়াম ‘বাইনোমিয়াল থিউরাম’ আবিষ্কার করেন। পৃথিবীর প্রথম সম্পূর্ণ মানচিত্র প্রণয়ন করেন মুসলিম ভূগোলবিদ ইবনে হাক্কল। আল ফারাবি ছিলেন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ ও দার্শনিক। তিনি ৭০টি ভাষায় কথা বলতে পারতেন। আল বিরুনি এবং ইবনে বতুতা প্রমুখ মুসলিম মনীষী ভূবিদ্যার প্রসারে অনেক অবদান রেখে গেছেন। ইবনে খালদুনকে বলা হয় ইতিহাস, দর্শন ও সমাজবিজ্ঞানের জনক। বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহাসিক ছিলেন ইবনে জাবির তাবারি। ‘তারিখ আল রাসুল ওয়া আল মুলুক’, তার এ গ্রন্থটি সারাবিশ্বে রেফারেন্স হিসেবে গঠিত হচ্ছে। আল কিন্দি গণিত, ইতিহাস, ভূগোল, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ৩৬৯টি গ্রন্থ রচনা করেন। অতীতে জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে নয় বরং ব্যবসা-বাণিজ্যে, শিল্প, কল-কারখানাতে মুসলমানদের ছিল গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
আব্বাসীয় খলিফা মামুন বাগদাদে ‘দারুল হিমাহ’ নামে যে বিজ্ঞানকেন্দ্র গড়ে তুলেছিনে তাতে সে যুগে প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। যখন খ্রিস্টীয় সমাজে বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছিল তখন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বহুসংখ্যক গবেষণা ও আবিষ্কার সাধিত হয়। কর্ডোভার রাজকীয় পাঠাগারে ৪ লাখ বই ছিল। ইবনে রুশদ তখন সেখানে গ্রিক, ভারতীয় ও পারস্য দেশীয় বিজ্ঞানে পাঠদান করতেন। যার কারণে সারা ইউরোপ থেকে পি তরা কর্ডোভায় পড়তে যেতেন। যেমন আজকের দিনে মানুষ তাদের শিক্ষার পরিপূর্ণতার জন্য ব্রিটেন, আমেরিকা যায়। ‘ইসলাম ও আরবি সভ্যতার ইতিহাস’ বইতে ওস্তাভলি বোঁ লিখেছেন, ‘ইউরোপে যখন বই ও পাঠাগারের কোনো অস্তিত্ব ছিল না, বহু মুসলিম দেশে তখন প্রচুর বই ও পাঠাগার ছিল। সত্যিকার অর্থে বাগদাদের ‘বায়তুল হিকমা’য় ৪০ লাখ, কায়রোর সুলতানের পাঠাগারে ১০ লাখ, সিরিয়ার ত্রিপোলি পাঠাগারে ৩০ লাখ বই ছিল। অন্যদিকে মুসলমানদের সময় শুধু স্পেনে প্রতিবছর ৭০ থেকে ৮০ হাজার বই প্রকাশ হতো।

ধর্ষন ও নাস্তিকতা

জানে না তো কেউ পৃথিবী উঠছে কেঁপে
 ধরেছে মিথ্যা সত্যের টুঁটি চেপে,

আজকাল সমাজের বিভিন্ন রকম চালচিত্র দেখলে কবি সুকান্তের লেখাটার বাস্তবতা লক্ষনীয়। বাইবেলের ভাষ্য অনুযায়ী যীশু বলেছেন, কিছু মানুষের চোখে কাঠ থাকলেও আরেক জনের চোখের কুটা নিয়ে ব্যস্ত। নিজের দীনতাকে উপলব্ধি না করে আরেকজনের পিছনে লেগে কিছু বাহবা আর কিছু মানুষকে পথভ্রষ্টতার দিকে ঠেলে দেয়া ছাড়া অন্য কোন সফলতা আছে কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ।

আজকালকার গরম ইস্যু,পত্রিকার দৈনন্দিন অনিবার্য খবর “‘ধর্ষন” নিয়ে’ সকলেই যে যার মত মতামতের পসরা সাজাতে ব্যস্ত থাকলেও খুব কম লোকই কারন নিয়ে কথা বলেছে। ‘”আমি আরো বেশি রেপিস্ট চাই”’ শিরোনামে DJ মার্কা কিছু উর্বরমস্তিষ্ক প্রদত্ত উপলব্ধি পাবলিকের গলাধঃকরন দেখে কিছুটা তাজ্জব হলাম। আরও তাজ্জব হলাম যখন দেখলাম তার Religious views হচ্ছে atheist .দেশের বিভিন্ন গরম ইস্যু নিয়ে বাংলার নাস্তিক, মুক্তমনা(?!) বুদ্ধিজীবী (?!)দের বিভিন্ন মিডিয়াতে শাখমৃগসম শারিরীক কসরত দর্শন করলেও এ ইস্যু নিয়ে নাস্তিকেরা কিছুটা নিষ্প্রভ। দু-একজন একে ইসলামকে আক্রমনের ইস্যু হিসেবেও নিয়েছে। যারা হিজাবের কথা বলে ধর্ষন, ইভটিজিং কিছুটা রোধের কথাবলে এসকল নাস্তিকরা শুধু তাদের নিয়েই কথা বলছেন। আর কিছু নাস্তিক যারা এ বিষয়টা নিয়ে কথা বলছেন ,তারা হয়ত নাস্তিকতার দৃষ্টিভঙ্গি জানে না।

নাস্তিকরা নিজেদেরকে সবসময় ““মানবতাবাদী”” হিসেবে দাবী করলেও Rape, Abortion, murder,Genocide কিংবা Status of women এসকল বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানলে হয়ত আপনি ও এ শব্দটির আগে “অ” উচ্চারনে বাধ্য হবেন। সষ্টার অস্তিত্বে অবিশ্বাসের কারনে তাদের Morality সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইতিহাসবিদ Niall Fergusan বলেছেন-

“ধর্মবিহীন একটা মানুষের কোন নৈতিক কাঠামো থাকতে পারে না””

আর এজন্যই হয়ত দার্শনিক ভলটেয়ার বলেছিলেন-

“If God did not exist, it would be necessary to invent him.”

সেজন্যই এক নাস্তিককে প্রশ্ন করা হয়েছিলঃ “ যদি ঈশ্বর ধর্ষন নিষেধ না করে থাকেন তাহলে ধর্ষন কেন নিষিদ্ধ হবে?”
নাস্তিকদের জন্য আসলেই অনেক কঠিন একটা প্রশ্ন সে উত্তর দিয়েছিল কারন- এতে ধর্ষিতা কঠিন ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ধর্ষিতা ব্যথা অনুভব করে, স্বাধীনতা হরন হচ্ছে। তাই ধর্ষন নিষিদ্ধ।

তাকে যখন আবারো প্রশ্ন করা হলো-
আরেক জনের ক্ষতি করা কেন অমানবিক?
আরেক জনকে ব্যথা দেয়া কেন অমানবিক?
আরেক জনের স্বাধীনতা হরন কেন অমানবিক?
‘Survival of the fittest’বা “শক্তিমানের মজা লুটা কন্সেপ্ট”ও বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী আমার বংশপরম্পরায় রক্ষাই যদি একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে এই মানবতা নামক বেলকীবাজীকে আমি কেন গ্রহন করব?

ওই নাস্তিক সম্ভবত আমাদের সমাজের স্বল্পবু্দ্ধিসম্পন্ন হুজুগে নাস্তিক। তাই ধর্ষনসম্পর্কে তার সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি জানা নাই। বিবর্তনবাদ নামক অপবিজ্ঞান এবং বিভিন্ন নাস্তিকদের পরম পূজনীয় নবী-রাসূলরা কি বলেন? আমি নাস্তিকদের অনুসরনীয় নবী-রাসূল বলাতে হয়ত আমার সম্পর্কে অনেক মুসলিমরা কিছুটা মাথা চুলকে ভুল ধারনায় পড়ে গেছেন। না ভাই আমি মিথ্যা বলছি না। Darwin, Dawkins, Sam Haris, Hitchens হচ্ছে নাস্তিকদের পরম পূজনীয় ও অনুসরনীয় নবী-রাসূল । এদেরকে অন্ধভাবে অনুসরন করে নাস্তিকরা ব্যক্তিপূজার এক চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছে। এবং আমিও এদেরকে নবী-রাসূল হিসেবেই মানি । আমি বিশ্বাস করি ওদের কাছেও ওহী আসে। এতক্ষনে নিশ্চয় মুসলিম পাবলিকদের চোখ ছানাবড়া।

আরে ভাই আমি বলছি না। আল্লাহ বলছেন। কি বলছেন শুনবেন? আল্লাহ বলেছেন-

নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে প্রত্যাদেশ করে,সুরা আনআম-১২১

এদের কাছে সত্যিই ওহী আসে। তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে নয় শয়তানের পক্ষ থেকে। আর এরা হল “
”রাসূলুশ্‌শয়তান””

নারীবাদীরা বেশিরভাগ ধর্ষনের ক্ষেএে পুরুষের আধিপত্যকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখান। অনেক ক্ষেত্রে কথাটা সত্য, biologically তাদের শক্তির পার্থক্য থাকলেও নারী ও পুরুষ একই পিতা মাতা থেকে উদ্ভুত। তাই ইসলাম তাদেরকে সমান চোখে দেখে। Theory of evolution নারীদেরকে এক inferior race এবং পুরুষদেরকে superior race হিসেবে দেখিয়ে বিজ্ঞান নামের অপবিজ্ঞান ব্যবহার করে গরম তেলে পানি ঢেলে দিয়েছে। কোন কোন বিবর্তনবাদীতো নারী ও পুরুষকে যথাক্রমে homo parientalis ও homo fronatils এ উপপ্রজাতিতেও ভাগ করে ফেলেছেন। এর উদ্দেশ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি কি?

আসুন বিবর্তনবাদীদের অন্যান্য লেখালেখির দিকে একটু দৃষ্টি নিবন্ধ করি। The descent of Man বইতে

ডারউইন মহিলাদের অনেক characteristics কে নিম্ন race এর characteristics বলে উল্লেধ করেছে্ন।(১)

ডারউইন বিয়েকে কি কারনে গ্রহনযোগ্যতা দিয়েছেন জানেন?

“একটা নারীর বন্ধুত্ব একটা কুকুরের বন্ধুত্বের চেয়ে উত্তম বলে”।

Cart vogt নারীদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন

“তারা নারীদের পুরুষদের তুলনায় পশুদের বেশি নিকটতর বলে উল্লেখ করেছেন”।“(2)

Social psychology এর একজন অন্যতম পতিষ্ঠাতা বির্বতনবাদী Le Bon বলেছেন

“পুরুষের উন্নত মস্তিষ্কের তুলনায় প্রচুর পরিমান মহিলাদের মস্তিষ্কের size,Gorilla এর কাছাকাছি।“(3)
শুধু তাই নয় তিনি আরো বলেছেন-

“নারীরা নিকৃষ্টতর মানব বিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে””।

ইসলাম যেখানে নারী ও পুরুষকে সমান রুপে সৃষ্টি করেছে সেখানে তথাকথিত নাস্তিক বুদ্ধিজীবী(?!) মুক্তমনারা (?!)নারীদেরকে সৃষ্টির কোন স্তরে নামিয়ে দিয়েছে একটু ভাবতে হবে। তারপরও যখন দেখি কিছু নারীরা জিন্স, টিশার্ট আর চুলে বব কাট করে মুক্তমনা (?!), নাস্তিকতা আর সমাজতান্ত্রিকতার বুলি আওরায় তখন সত্যিই অবাক লাগে। তারা কি এসকল বিষয় জানে না?

জানে না মানে অবশ্যই জানে। আর জানে বলেই তো সেটাকে বাস্তবায়িত করার জন্য সবকিছুকে পুরুষের ছাঁচে গড়ার এ ব্যর্থ আস্ফলন। পোশাক আর চলাফেরা পরিবর্তন করে গোলাপের রজনীগন্ধা হওয়ার খায়েস কতটুকু পূরন করতে পারবে জানি না, তবে এতে যে গোলাপ তার স্বাতন্ত্র হারিয়ে আর্কষণীয়তায় ভাটা পড়বে এবিষয়টা নিশ্চিত। কুরআন বলে-

যে লোক পুরুষ হোক কিংবা নারী, কোন সৎকর্ম করে এবং বিশ্বাসী হয়, তবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রাপ্য তিল পরিমাণ ও নষ্ট হবে না।সুরা নিসা-১২৪

হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার।সুরা হুজুরাত-১৩

আল্লাহর কাছে নারী পুরুষ সমান আর মর্যাদার মাপকাঠি হচ্ছে তাকওয়া।

নারী যদি গরিলাসম , পশুসম হয়ে থাকে তাহলে Survival of the fittest নীতিতে তার থেকে কিছু মজা লুটার মধ্যে অনৈতিকতা কি থাকতে পারে?আমরা কি উদোরপূর্তি করার জন্য পশু জবাই করি না?মুখোতুষ্টির জন্য পশু জবাই দিতে পারলে যৌনতুষ্টির জন্য নারীদের কিছুটা ব্যথা কিংবা কষ্ট দেয়ার মধ্যে সমস্যা কি থাকতে পারে?যতদূর মনে পড়ে রবী ঠাকুর বলেছিলেন ধর্ষন মেনে নেয়া ছাড়া অন্য কোন পথ না থাকলে ধর্ষনকে উপভোগ করাই শ্রেয়।তার মানে ধর্ষনকে ও উপভোগ্য করা যায়।শুধু দৃষ্টিভংগীর পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

তার মানে হচ্ছে ধর্ষনে কোন সমস্যা নেই?

না নেই। সে কথাই তো নাস্তিক stooges ,Dawkins,Sam Harris রা ফলাও করে প্রচার করছে।
Sam Harris বলেছেন-

”ধর্ষনের চেয়ে প্রাকৃতিক কিছু নেই। কিন্তু এটা খারাপ এবং সভ্য সমাজের সাথে সামান্জস্যপূর্ন না
এবিষয়টা সবাই মেনে নেবেন কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষদের এতে বিবর্তনীয় সুবিধা ছিল””।(4)
তিনি আরো বলেছেন

“আমাদের এমন কিছু আছে যেগুলো আমাদের নীতিতে বাঁধলেও তা প্রাকৃতিকভাবে বাছাইকৃত। যেমন-ধর্ষনের চেয়ে প্রাকৃতিক কিছুই নাই। মানুষ ধর্ষন করে ,শিম্পাঞ্জী ধর্ষন করে, ওয়াংওটার ধর্ষন করে। ধর্ষন পরিষ্কারভাবে বিবর্তনীয় কৌশলেরই একটি অংশ”।(5)
এতবড় প্রাকৃতিক লাইসেন্স দিয়ে Sam Harris ধর্ষনকে খারাপ বললেও ক্ষুধার্ত মানব কতক্ষন আর বুভুক্ষু থাকবে? না কখনোই মানবতা নামক অদৃশ্য শিকলের ভেলকিবাজি তাদেরকে কখনই থামাতে পারবে না।

প্রিমিয়ার রেডিও Unbelievable Programme এর উপস্থাপন Justin Brierley প্রখ্যাত নাস্তিকগুরু Dawkinsকে Rape নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি Rape কে Morally arbitrary বলেছেন।

জীববিজ্ঞানী ম্যাট রিডলী ও তার “গুনের উৎস” বইতে বলেছেন ধর্ষন অতীতে বিবর্তনের জন্য উপযোজনীয় ছিল।

আমাদের মুক্তমনার লেখক মহাশয়েরাও ফলাও করে ধর্ষনকে একটি বিবর্তনীয় ধারা হিসেবে প্রচার করেছেন। অপার্থিব জামানের এক আর্টিকেলে তিনি লিখেছেন

”অনৈতিকতা বা নীতিহীনতা বিবর্তনের এক অনিবার্য্য পাশ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত ক্ষতি। কিছু পাশ্বপ্রতিক্রিয়া আবার ক্ষতি বা ধ্বংস নাও করতে পারে। বিবর্তনের ক্ষেত্রে ও অনেকটা সেরকম ঘটে। বিবর্তনের একমাত্র উদ্দেশ্য হল উদ্বর্তন ও বংশানু সর্বত্তারন, এই উদ্দেশ্য সাধনের প্রক্রিয়ার কিছু অপ্রত্যাশিত উপজাত উৎপন্ন হতে পারে বিবর্তনের ভাষায় এগুলোতে স্প্যান্ড্রেল বলা হয়। ইমারতের ছাদের ধুনুকাকৃতির খিলান তৈরীর সময় ত্রিকোনকৃতি যে অপ্রয়োজনীয় অংশ অনিবার্য্যভাবে তৈরী হয়ে যায় তাকেই স্থাপত্যবিদ্যায় স্প্যান্ড্রেল বলা হয়। বিবতর্নের এ অনৈতিক প্রবৃত্তির স্প্যান্ড্রেলের একটি উদাহরন হল ধর্ষন ।এই প্রবৃত্তি যে এখনো টিকে আছে তার কারন উপযোজন পরিপন্থী না”

এভাবে ধর্ষনকে প্রাকৃতিক একটা কায়দা বা প্রক্রিয়া প্রমান করে ধর্ষনের যে ফ্রি লাইসেন্স দিয়ে দিলেন তা সত্যিই অবাক করার মত তাও আবার বিবর্তনের মত অপবিজ্ঞানেকে বিজ্ঞানের নামে চালিয়ে দিয়ে। বিবর্তনবাদীরা পার্থিব জামানের কথা অনুযায়ী ধর্ষন ন্যাচারাল এবং সামাজিক সাম্যাবস্থার জন্য এটা অপরিহার্যও বটে। এরকম একটা আত্মঘাতী সমাজ বিনষ্টকারী ideology কে আমরা চোখ বন্ধ করে গলাধঃকরন করে নিচ্ছি একবারও আমার বোন, মা, স্ত্রী কিংবা সমাজের কথা চিন্তা করছি না। এ মতবাদ যদি সময় প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে এ পৃথিবীতে বসে যে নরকের স্বাদ নিয়ে নেব সে বিষয়টা সন্দেহাতীত। বিংশ শতাব্দী নাস্তিতকতার চরম নৈতিক অধঃপতন অবলোকন করেছে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ মতবাদ ১০০ মিলিয়ন এর মত মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
অনেক নাস্তিক হয়ত লেখাটি পড়ছেন আর আমাকে ভড়কে দেওয়ার জন্য মনে মনে একটা প্রশ্নের ফান্দি আঁটছেন।

তাহলে মুসলিমরা কিংবা যারা ধর্ম মানে তারা কেন Rape করে? মাদ্রাসার হুজুর কিংবা খ্রিষ্টান Father তো এ কাহিনী করে ধরা খাচ্ছে। এ প্রশ্নটি অতীব বুদ্ধিদীপ্ত মনে হলেও প্রশ্নটি অতীব সাধারন এবং শিশুসুলভ প্রশ্ন।

আমি এখানে Ideology নিয়ে কথা বলছি, কোন পিতার ideology ভাল থাকার পরেও তার সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে না পারলে এর দায়ভার পিতার উপর না। কিন্তু পিতার Ideology খারাপ এবং সন্তানের Ideology ও কাজকর্ম খারাপ হয়ে গেল তাহলেই সমস্যা।

ইসলামে এরকম কোন নৈতিকতা পোষন করে না যাতে ধর্ষনকে ঠিক মনে করা হয়। কেউ যদি কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় ধর্ষন করেও ফেলে ইসলামের জুডিশিয়ারী সিস্টেম মৃত্যুদন্ড নামক কঠিন শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করে। অপরদিকে নাস্তিকপালরা একনিষ্ঠভাবেই ধর্ষনকে জায়েজ ও প্রাকৃতিকভাবে হচ্ছে বলতে শুরু করেছে। তাহলে তাদের পরিচালিত ব্যবস্থায় ধর্ষিতার আইনের বিচার পাওয়া যে আকাশ-কুসুম চিন্তা ছাড়া কিছুই নয় তা সহজেই অনুমেয়।

একবিংশ শতাব্দী আজ এমন একটা মতবাদ চায় যার আদর্শের বহ্নি সকলরকম অনাচার, অবিচার আর অমানবিকতাকে পুড়ে ছাই করে দিয়ে মানবতার উজ্জ্বল আলোয় পৃ্থিবীকে আলোকিত করবে। ইসলামই একমাত্র সেই বহুপ্রতীক্ষিত মতবাদ যার জন্য এশতাব্দী অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান এবং মুসলিমরাই একমাত্র জাতি যা মানবতার পতাকা নিজ হাতে তুলে নিয়ে ওড়ানোর জন্য প্রস্তুত। সেজন্যই তো আল্লাহ তা আলা কুরআনে মুসলিমদের সৃষ্টি মানবতার জন্যই বলে উল্লেখ করেছেন।

“তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যানের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে”সুরা আলে ইমরান-১১০

Allah Knows da Best------------

**ধর্ষনের সমাধান কি তা জানার জন্য আমার আগের দুইটা নোট পড়তে পারেন
**অনুগ্রহপুর্বক কমেন্টে কেঊ slang laguage use করবেন না।যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় আসুন।

Footnotes
1.Darwin, The Descent of Man and Selection in Relation to Sex, New York: D. Appleton and Company, 1871 (1896 ed.), p. 326
2 Carl Vogt, Lectures on Man: His Place in Creation, and the History of Earth, edited by James Hunt, London: Paternoster Row, Longman, Green, Longman, and Roberts, 1864, xv, p. 192
3. Ibid., pp. 104-105
4. Wired Magazine online: Gary Wolf, The Church of the Non-Believers
5. ABC Radio National,

শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০১৫

বিবর্তনের সত্যাসত্য(মিউটেশন)

আজ(১-৯-২০১১) সকালে সময় টিভিতে একটি সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে জাফর ইকবাল স্যারকে একজন প্রশ্ন করেছিল “বাংলাদেশের নাইন টেনের পাঠ্যবইগুলোতে কেন ডারউইনের মতবাদ পড়ানো হয় না?” উত্তরে তিনি বলেছেন তিনি জানেনা বিষয়টা তবে তিনি মনে করেন এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ন তাই এ বিষয়টি পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভূক্ত করা উচিত।

স্যার বাংলদেশের একজন স্বনামধন্য লেখক তাই অনেকের কাছে উনি আইকন।অনেকে উনার কথাটি সাথে সাথে লুফে নেবেন, কিন্তু আমার মনে হয় ব্যাপারটিকে ওভাবে নিশ্চিত সত্য ধরে না নিয়ে আসলে এটার বিপক্ষে ও যে কিছু কথা থাকতে পারে তাও আমাদের জানা উচিত।স্যার জীববিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট না তাই বিবর্তন নিয়ে ওনার কথা তেমন একটা গুরুত্বপূর্ন না হলেও অনেকে না বুঝে ব্যাপারটিকে খাঁটি সত্য ধরে নেবেন এ বিষয়তা নিশ্চিত।একজন লয়ার হয়ত ‘ল এর অনেক বিষয় জানেন কিন্তু তিনি ডাক্তারী পেশার কিছুই জানেনা।তাই আমি ওনার কাছ থেকে ডাক্তারী বিষয়ক কিছু নেব না।স্যার আমারও খুব প্রিয় একজন লেখক কিন্তু কিছু বিষয়ে যে কারো কাছ থেকে কিছু নেয়ার সময় আমাদের মনে হয় একটু সতর্ক হওয়া উচিত।আপনি আমাকে বলতে পারেন “তুমি কোন ফিল্ডের যে তোমার কথা নেব”?আমি আগেই বলেছি আমি গবেষক নই।আমি শখের পাঠক।বিবর্তনের পক্ষে বিপক্ষে কিছু বইপত্র পড়তে গিয়ে আমি অনেক কিছু পেয়েছি যা আমাদের একটু চিন্তা করা দরকার।আমি আমার কোন কথা বলব না বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের কথা রেফারেন্সসহ কোট করার চেষ্টা করব।আমি এ সিরিজের আগে একটি লেখা দিয়েছিলাম। মূলত স্যারের এ কথা দ্বারা বুঝলাম আসলে অনেকের বিবর্তনবাদ নিয়ে কিছু সংশয় আছে তাই আমি চেষ্টা করব আমার নোটগুলোকে সামনে এগিয়ে নিয়ে এসকল সংশয় দূর করার।(ইনশাল্লাহ)

মুলত ডারউইনের বিবর্তনের মুলমন্ত্র মুল চালিকা শক্তি প্রাকৃতিক নির্বাচন যখন বিবর্তনবাদ ব্যাখ্যা করতে অসমর্থ হয় তখন বিজ্ঞানী মায়ার,ডবজানাস্কি ও জুলিয়ান হাক্সলি নব্য ডারউইনবাদ বা neo Darwinism এর কন্সেপ্ট নিয়ে আসেন।এ তত্ত্ব অনুযায়ী বিবর্তনের দুটি চালিকা শক্তি।মিউটেশন এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন।আমার পূর্বের নোটে আমি প্রকৃতিক নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছি।এ নোটে আমি মিউটেশন নিয়ে আলোচনা করব।আমার আলোচনার উদ্দেশ্য এতটুকুই মানুষ আসলে বিবর্তনকে যেমন ওহির মত সত্য ধরে নিচ্ছে ব্যাপারটা মোটেই তেমন নয়।

মিউটেশন আসলে কি?

কোষের DNA মলিকুলের ভাংগন বা স্থান পরিবর্তনকে মিউটেশন বলে।মিউটেশনের ফলেই DNA সিকোয়েন্স ভেংগে যায়।কোন কোন সময় এর নিঊক্লিওটাইডগুলো এক স্থান হতে অপরস্থানে সরে গিয়ে মিঊটেশন ঘটায়।এ ভাংগন মুলত বাহ্যিক কারন যেমন রেডিয়েশন অথবা রাসায়নিক কারনেই হয়ে থাকে।
বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন বেশিরভাগ মিউটেশনই প্রানীদেহের জন্য খারাপ।এটা বিজ্ঞানে একটা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে মিউটেশন প্রানীদেহের ক্ষতিসাধন করে।

প্রখ্যাত জীববিজ্ঞানী B.G.Ranganathan মিউটেশন সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন-

“প্রথমত,প্রকৃত মিউটেশন প্রকৃতিতে দুর্লভ।বেশিরভাগ মিঊটেশনই ক্ষতিকর কারন জিনের গঠনের সাজানো পরিবর্তনের বদলে এতে এলোমেলো পরিবর্তন দেখা যায়।এলোমেলো যে কোন পরিবর্তনই কোন সাজানো সিস্টেমকে ভালোর বদলে খারাপের দিকেই নিয়ে যায়।উদাহরনস্বরুপ ভূমিকম্প যদি কোন সাজানো বিল্ডিংয়ে আঘাত হানে তখন এর ভালো কিছু হওয়ার কোন সম্ভাবনাই থাকে না” ।(১)

ওয়ারেন ওয়েবার মিউটেশন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন-

“অনেকে শুনে আশ্চার্য হবেন যে বাস্তবতঃ সকল mutant জিনই ক্ষতিকর। মিউটেশন বিবর্তন প্রক্রিয়ার একটি প্রয়োজনীয় অংশ।বাস্তবতায় যেখানে মিঊটেশন ক্ষতিকর সেখানে এটি কিভাবে উচ্চশ্রেনীর প্রানীদের বিবর্তনে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে?”(২)




বিবর্তনবাদীরা মিঊটেশনকে একটি জাদুর যন্ত্র হিসেবে দেখায়।তারা মিউটেশনের কারনে যে কোন অলৌকিক কিছু সম্ভব বলে বিশ্বাস করে।Celal Sengor দাবি করেছেন যে মিউটেশনের অলৌকিক প্রভাব রয়েছে তিনি আরো বলেছেন-“মিউটেশনের মাধ্যমে আইনস্টাইন ও তৈরি কর সম্ভব”,বিবর্তনবাদীরা এ পর্যন্ত উপকারী মিউটেশন ঘটানোর জন্য কম চেষ্টা করে নি।তারা কয়েক দশক ধরে এটা নিয়ে প্রচুর গবেষনা করেছে।মিঊটেশনের মাধ্যমে বিবর্তনবাদ প্রমান করার জন্য fruit fly এর উপর চালানো পরীক্ষাটি খুবই প্রসিদ্ধ।এ পরীক্ষার মাধ্যমে তারা প্রমান করতে চেয়েছেন মিউটেশন বিবর্তনবাদ ঘটানোর জন্য দায়ী।কিন্তু একটাও প্রয়োজনীয় মিউটেশন ঘটাতে তারা সক্ষম হননি।এ সম্পর্কে বলতে গিয়ে ডারউইনবাদী Gordon Rattray Taylor বলেছেন-

“এটা খুবই চমকলাগানো কিন্তু খুব একটা প্রকাশিত ঘটনা না। প্রজনন বিদেরা ৬০ বছর যাবৎ ল্যবরেটরীতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে fruit fly উৎপন্ন করার জন্য চেষ্টা করেছেন কিন্তু তারা তো নতুন কোন প্রজাতি উৎপন্ন করতে পারে নি,এমন কি নতুন কোন উপকারী এনজাইম ও তৈরি করতে পারে নি।যদিও এ সকল fruit fly রা প্রতি ১১ দিনে নতুন বংশধারার জন্ম দেয়”(৩)

বিবর্তনবাদীরা যে fruit fly নিয়ে কাজ করছিল সেটির একজোড়া নতুন পাখনা সৃষ্টি করে কিন্তু প্রানীটি চিরতরে ঊড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।অন্য কথায় বলা যায় এ মিউটেশন প্রানীটির ক্ষতি সাধন করেছে এবং প্রানীটিকে প্রতিবন্ধী করে দিয়েছে।এটা DNA তে নতুন কোন তথ্যের সংযুক্তি ঘটায় না।তাই অনেক বিজ্ঞানী বলেছেন মিউটেশন প্রানীদেহের যদি অল্পস্বল্প উপকার করেও থাকে কিন্তু নতুন কোন তথ্যের সংযুক্তি ঘটায় না বলে এ মিঊটেশনের বিবর্তন প্রক্রিয়ায় কোন ভুমিকা নেই।

বিবর্তনবাদীরা উপকারী মিউটেশনের উদাহরন হিসেবে sikle cell anemia রোগটির কথা উল্লেখ করে।এ রোগের কারনে রক্তের হিমোগ্লোবিনের গঠনগত কিছু পরিবর্তন ঘটে।এ হিমোগ্লোবিনই রক্তের মধ্য দিয়ে অক্সিজেন বহনে সহায়তা করে।গঠনগত পরিবর্তনের ফলে এর অক্সিজেন বহন ক্ষমতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।এ রোগাক্রান্ত মানুষ শ্বাস সংক্রান্ত জটিলতায়ও ভোগে।কিন্তু তারপরো এটাকে উপকারী মিউটেশন হিসেবে উল্লেখ করা হয় কারন এ রোগ কিছুটা ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।তাই এটা বিবর্তনের উপহার হিসেবেই বিবর্তনবাদীরা মনে করে।ব্যাপারটা যেন এমন যে কেঊ প্যারালাইজড অবস্থায় জন্ম গ্রহন করার ফলে আমাদের খুশি হয়ে যাওয়া।যাক বাবা সে কখনো কোথাও উষ্ঠা খেয়ে পড়বে না,কারন সে তো হাঁটতেই পারে না।

অনেকে বর্তমানে রিচার্ড ডকিন্সকে বিবর্তনবাদের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানী হিসেবে মনে করে।হাক্সলীকে যেমন বিবর্তনের ঘোর সমর্থক ও প্রচারক হওয়ার কারনে “darwin’s bulldog” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল তেমনি ডকিন্সকেও অনেকে “Darwin’s 2nd bulldog” বলে থাকেন।তাকে এক ইন্টারভিউতে উপকারী মিউটেশন হয়েছে এমন প্রানীর উদাহরন দিতে বললে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেন নি,বরং তিনি কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছিলেন বিবর্তনের পক্ষে কোন সদুত্তর না দিতে পারার কারনে।(৪)

ফ্রান্সের প্রখ্যাত জীববিজ্ঞানী এবং ফ্রান্স বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট Pierre-Paul Grassé
বলেছেন-

“মিউটেশন কোনরকম বিবর্তন ঘটায় না”(৫)

যারা বিবর্তনবাদ নিয়ে পড়াশোনা করেন তারা প্রখ্যাত বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানী Stephen jay gould এর নাম শুনে থাকবেন।মিউটেশন বিবর্তনে কতটুকু ভূমিকা রাখে এ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন-

You don't make new species by mutat-ing the species... A mutation is not the cause of evolutionary change.(6)

Pleiotropic Effect

জেনেটিক কোডিং প্রক্রিয়া বিবর্তনবাদীদের কপালে নতুনভাবে ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।পূর্ন গঠনের কোন প্রানীর একটি জিন একের অধিক তথ্য ধারন করে ।উদাহরনস্বরুপ বলা যায় একটি জিন একইসাথে লম্বা হওয়া এবং চোখের রং এর তথ্য ধারন করে। মাইকেল ডেন্টনের মতে উচ্চশ্রেনীর প্রানীদের প্রায় সকল জিনই একের অধিক অংগের তথ্য বহন করে।

প্রানীদেহে জেনেটিক গঠনের এমন বৈশিষ্ট্যের কারনে, মিউটেশনের কারনের যে কোন জিনের DNA পরিবর্তনই একের অধিক অংগকে আক্রান্ত করে।তাই মিঊটেশনের প্রভাব দেহের এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে না বরং অনেক অংগকেই তার ধ্বংসকারী প্রভাবে প্রভাবিত করে।

তাই মিঊটেশনের ফলে আপাত দৃষ্টিতে কিছু দৈব সুবিধা পেয়েছে বলে মনে হলেও অন্যান্য অংশে তা যে ক্ষতির চিহ্ন রেখে যায় তা লাভজনক বা সুবিধাজনক অংগের লাভ বা সুবিধাকে ছাড়িয়ে যায়।ফলে মিঊটেশন মোটের উপর ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনা।

মিউটেশন কেন বিবর্তনবাদকে সমর্থন যোগায় না তা দিয়ে গবেষনা করতে গিয়ে তিনটি বিষয় উঠে আসে

১,মিঊটেশন সবসময় ক্ষতিকর।যেহেতু এটি দৈবভাবে ঘটে ,এটি সবসময় প্রানীর ক্ষতিই করে।কোন নিঁখুত জটিল গঠনের মধ্যে অবচেতন হস্তক্ষেপ ক্ষতি বৈ উপকার করে না।

২,DNAতে কোন নতুন তথ্য সংযুক্ত হয় না। DNA এর জেনেটিক তথ্যের উপাদানের অপসারন, ধ্বংস কিংবা স্থান পরিবর্তন হয় তারপরো মিউটেশন কখনোই জীবিত প্রানীর নতুন কোন অংগের বা বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি করে না।

৩,মিঊটেশনের ফলাফলকে তার পরবর্তী বংশধারায় যেতে হলে মিঊটেশনটি অবশ্যই reproductive cell এ ঘটতে হবে।দেহের অন্য কোন অংগের কোষে এ মিউটেশন ঘটলে তা বংশ পরম্পরায় পরবর্তী প্রানীতে যাবে না।উদাহরণস্বরূপ মানুষের চোখে যদি রেডিয়েশনের কারনের DNA উপাদানে পরিবর্তন আসে তাহলে তা তার পরবর্তী অংশে যাবে না।

উপরোক্ত তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি মিউটেশন কোন নতুন প্রজাতির জন্ম দেয় না।হিরোশিমা,নাগাসাকি আর চরনবিলে মানুষ যে রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে মিউটেশন ও তেমনি সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই আজ নব্য ডারউইনবাদ এক কঠিন হুমকির সম্মুখীন।বিজ্ঞানের আগামীর আবিষ্কারগুলো হয়ত মানুষকে আরো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে যে মানুষ কত ভুল একটি থিউরীকে এতদিন লালন করেছে।

Footnotes:
১,B. G. Ranganathan, Origins?,Pennsylvania: The Banner Of Truth Trust,1988. (emphasis added)
২,20 Warren Weaver et al., "Genetic Effects of Atomic Radiation", Science, vol. 123, June 29, 1956, p. 1159.
৩,Gordon R. Taylor, The Great Evolution Mystery, New York: Harper & Row, 1983, p.48
৪,"Biological Evidence of Creation:From a Fog to a Prince," Keziah,American Portrait Films, Cleveland,OH,1998.
৫,Pierre-Paul Grassé, Evolution of Living Organisms, p-88
৬,Stephen J. Gould, speech at Hobart College, February 1414,1980

বিবর্তনের সত্যাসত্য(প্রাকৃতিক নির্বাচন)

•বিংশ শতাব্দীর সাড়াজাগানো বিষয় বিবর্তনবাদ যা মুলত বস্তুবাদী মতাদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত, বিজ্ঞান নামে চালিত এক প্রকারের অপবিজ্ঞান।প্রাচীন গ্রীক যুগ থেকেই এ ধরনের চিন্তাচেতনা কিছু দার্শনিকের দ্বারা প্রকাশিত হলেও মুলত উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে ডারউইনের বই the origin of species by means of natural selection এর মাধ্যমে পূর্ন বিকশিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে।ডারউইন বিবর্তনবাদের main factor হিসেবে natural selection বা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে দেখান।এটা এমন নয় যে ডারউইন ই প্রথমে প্রাকৃতিক নির্বাচনের কন্সেপ্ট দেন।ডারউইনের আগেই জীববিজ্ঞানীরা এ প্রাকৃতিক নির্বাচন সম্পর্কে জানত।তারা এটিকে প্রজাতির ধ্বংস হওয়া থেকে বাঁচিয়ে প্রজাতির স্থিতি রক্ষার factor হিসেবেই মনে করত।তবে ডারউইনই একে প্রথমে বিবর্তনের মেকানিজম হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।অবশ্য ডারউইনের সমসাময়িক বিজ্ঞানী রাসেল ওয়ালেস ও এ প্রাকৃতিক নির্বাচন দিয়ে বিবর্তনবাদকে ব্যাখ্যা করার প্রয়াস চালান।তবে যেহেতু ডারউইনই প্রথম এটি নিয়ে বিশদ লেখালেখি করেন তাই তাকেই এর কৃতিত্ব দেয়া হয়।কিন্তু পরে যখন বিবর্তনাবাদীরা এ প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তবাদকে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারছিলেন না তখন তারা নতুন আরেকটি কন্সেপ্ট এর সাথে যুক্ত করলেন যাকে বলে মিউটেশন।আর এর নাম দেন new Darwinism বা নব্য ডারউইনবাদ।বিজ্ঞানী মায়ার,ডবজানাস্কি ও জুলিয়ান হাক্সলি এ নব্য ডারউইনবাদের প্রতিষ্ঠাতা।



•আমাদের দেশের পাতি নাস্তিক ও বিবর্তনবাদীরা কথায় কথায় এ প্রাকৃতিক নির্বাচনের লেবু কচলায়।তারা অত্যন্ত বিজ্ঞোচিত ও চটকদার ভংগিতে এ প্রাকৃতিক নির্বাচনের কথা বলে বিবর্তনবাদকে প্রমান করতে চায়।এ প্রাকৃতিক নির্বাচন আসলে কি?তথাকথিত বিবর্তনের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা আসলে কতটুকু?আমি আগেই বলে নিচ্ছি আমি কোন বিজ্ঞানী বা গবেষক নই।শখের পাঠক হিসেবে পড়তে পড়তে যতটুকু জেনেছি সে জিনিসটাই লেখার চেষ্টা করব।আমি আমার কথা নয় বরং চেষ্টা করব স্বনামধন্য বিজ্ঞানীদের উদ্ধৃতি রেফারেন্সসহ তুলে ধরতে।এর দ্বারা আমি পাঠককে শুধু এ জিনিসটি বুঝাতে চাই যারা ডারউইনের দেয়া বিবর্তনের ব্যাখ্যা স্বরূপ প্রাকৃতিক নির্বাচনকে ওহী হিসেবে নিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে তাদের এ ঢেঁকুর গ্যাস্ট্রিকের আলামত।



•চলুন দেখি, যার ব্যাখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রকৃতিক নির্বাচনকে বিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় সে ডারউইন এ প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়ে কি বলেন?



•“এটা কি সম্ভব যে,একটি বাদুড়ের গঠন ও অভ্যাসবিশিষ্ট প্রানী গঠিত হয়েছে কিছু বিস্তর অভ্যাস ও গঠনের পার্থক্যবিশিষ্ট প্রানীর পরিবর্তিত হওয়া থেকে?এটা কি আমরা বিশ্বাস করতে পারি যে প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফলেই একদিকে জিরাফের লেজের মত কম গুরুতবপূর্ন অঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে অপরদিকে চোখের মত সুন্দর অংগের সৃষ্টি হয়েছে”। (১)



•ডারউইন তার এক চিঠিতে এও স্বীকার করে নিয়েছেন যে এ প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনবাদ ব্যাখ্যায় অনেক ভুল আছে।তিনি লিখেছেন “এতে অনেক ভুল প্রায় নিশ্চিত,যদিও আমি তা ধরতে পাচ্ছি না” (২)



•প্রাকৃতিক নির্বাচন আসলে কি?



•শক্তিশালী জীব কোন একটি পরিবেশে বেশি টিকে থাকতে পারে,বেশি খাপ খাওয়াতে পারে এ থেকেই প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারনা আসে।survival of the fittest তত্ত্ব অনুযায়ী যোগ্যতমরাই টিকে থাকবে,যোগ্যতমদেরই প্রকৃতি টিকিয়ে রাখবে এরকম চিন্তাধারার থেকেই প্রকৃতিক নির্বাচনে নামক টার্ম আসে। উদাহরনসবরুপ বলা যায়,একটি জেব্রার দল,যারা প্রতি নিয়ত সিংহের সম্মুখীন হয়।সিংহের শিকার হতে প্রানে বাঁচার জন্য তারা দৌড়ে বাঁচতে চায়।এখন জেব্রার দলে সে সকল জেব্রাই বেঁচে থাকবে যারা ভাল দৌড়াতে পারে।আর যারা ভাল দৌড়াতে পারে না তারা সিংহের আহারে পরিনত হয়।









•আরেকটি উদাহরন লক্ষ্য করি,একটি এলাকায় দুই ধরনের কুকুর আছে।এক ধরনের কুকুরের লোম বড় আরেকটির লোম ছোট।ওই এলাকায় প্রচন্ড শীত পড়লে ছোট লোমের কুকুর মারা যেতে যাবে অপরদিকে বড় লোমের কুকুর জীবিত থাকবে ফলে আস্তে আস্তে বড় লোমের কুকুরের অনুপাত এলাকায় বেড়ে যাবে।একটা পর্যায়ে ছোট লোমের কুকুর হয় গরম কোন এলাকায় পাড়ি জমাবে নয়তো পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। অন্য কথায় বলা যায় প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফলে বড় লোমওয়ালা কুকুররা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।



•লক্ষ্য করুন এখানে কোন নতুন প্রজাতির প্রানীর আবির্ভাব ঘটে নি।দুই প্রজাতির কুকুর অলরেডী সেখানে ছিল।তার মধ্যে এক প্রজাতির কুকুর প্রাকৃতির নির্বাচনের জন্য সুবিধা পেয়ে যায়।এটা তো এমন নয় যে প্রাকৃতিক নির্বাচনের জন্য বড় লোমের কুকুরের আবির্ভাব ঘটেছে,কিংবা ছোট লোমের কুকুর বড় লোমের কুকুরে পরিনত হয়ে গেছে। এতে কি এক প্রজাতির প্রানী আরেক প্রজাতির প্রানীতে পরিনত হয়ে গেছে?



•অতএব বলা যায়,প্রাকৃতিক নির্বাচনে ফলে কোন নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয় না বা নতুন কোন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয় না।তাই প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনবাদ ব্যাখ্যা দেয়া যায় না।ডারউইন নিজেই এ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন-



•“যতক্ষন পর্যন্ত সুবিধাজনক পার্থক্য ও ভেরিয়েশন না থাকে ততক্ষন পর্যন্ত প্রাকৃতিক নির্বাচন কিছুই করতে পারেনা”। (৩)



•প্রাকৃতিক নির্বাচন কোন নতুন কিছু সৃষ্টি করে না।বরং যে সকল জীব আগে থেকেই ছিল তাদের মধ্যে কিছু প্রজাতি ধ্বংস করতে সহায়তা করে।বিশিষ্ট জীববিজ্ঞানী D’Arcy Wentworth Thompson এর ভাষায়-



•“আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রাকৃতিক নির্বাচন সৃষ্টির জন্য নয় বরং ধবংসের জন্য-উপড়িয়ে ফেলার জন্য,ছেঁটে ফেলার জন্য,কেটে ফেলার জন্য এবং আগুনে নিক্ষেপ করার জন্য” (৪)



•প্রাকৃতিক নির্বাচনকে কেউ অস্বীকার করছে না।আমি আগেই বলেছি ডারউইনের আগেই যারা সৃষ্টিতে বিশ্বাসী ছিল তারাও মুলত এ জিনিসটি জানত।এখনো সবাই একে মানে তবে বিবর্তনবাদের কারন হিসেবে নয়।যারা বিবর্তনবাদ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন তারা বিশিষ্ট বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানী স্টিফেন জে গোল্ডের নাম শুনে থাকবেন।তিনি প্রাকৃতিক নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবর্তনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খুব সুন্দর একটি কথা বলেছেন।তিনি বলেছেন-



•“ডারউইনবাদের মূলতত্ত্ব একটা ছোট শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধঃপ্রাকৃতিক নির্বাচনই বিবর্তনীয় পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি।প্রাকৃতিক নির্বাচন যে অক্ষমদের দূরীকরনে নাবোধক ভুমিকা পালন করে এটা কেউ অস্বীকার করেনা।ডারউইনিয়ান থিউরীর যা দরকার তা হল এটা সবলদের ও একই সাথে সৃষ্টি করে”।(৫)



•স্বনামধন্য জীবাশ্মবিজ্ঞানী Dr. Colin Patterson যিনি British Museum of Natural History এ সিনিয়র বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন প্রাকৃতিক নির্বাচন সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন-



•“এখন পর্যন্ত কেউ প্রাকৃতিক নির্বাচনের মেকানিজম দ্বারা নতুন কোন প্রজাতি দেখাতে পারে নি।এমন কি কাছাকাছি ও যায়

•নি,যদিও বেশিরভাই নব্য ডারউইনবাদীদের যুক্তি তর্কই এটি নিয়ে” (৬)



•পি পি গ্রাসে,রজার লিওইন,আর হাল্ডেন এর মত প্রচুর বিজ্ঞানী এ প্রাকৃতিক নির্বাচন কিভাবে বিবর্তনবাদ ঘটাতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গেছেন।তাই হালের যারা প্রাকৃতিক নির্বাচন দিয়ে বিবর্তনবাদ ব্যাখ্যা করতে পারছে না তারা শুধুমাত্র নব্য ডারউইনবাদের নতুন তত্ত্ব মিউটেশন নিয়েই কথা বলতে বেশি পছন্দ করেন।আস্তে আস্তে তারা তাদের আশ্রয় মিউটেশনে খুঁজে নিয়েছেন।যদিও সে আশ্রয় ও মাকড়শার জালের ন্যায় দূর্বল।বিজ্ঞানের দূর্দান্ত গতির কাছে টিকতে পারছে না।



•বিঃদ্রঃ বিবর্তনের অসারতা প্রমান করার জন্য আগামী নোট গুলোতে মিঊটেশনসহ,punctuated theory মত থিউরীগুলোকে ব্যাখ্যা করে হবে।সো আমার আগামী নোটগুলোর দিকে চোখ রাখুন। (ছোটখাট ত্র্যাড দিয়ে ফেললাম মনে হয়)



•footnotes:



•১,Charles Darwin, The Origin of Species, Chapter VI, “Difficulties of the Theory.

•২, Francis Darwin, The Life and Letters of Charles Darwin, Vol. II, p. 10

•৩, Charles Darwin, The Origin of Species by Means of Natural Selection, New York: The Modern Library, p. 127

•৪, Lee M. Spetner, Not By Chance, Shattering the Modern Theory of Evolution, The Judaica Press Inc., 1997, p. 175

•৫, Stephen Jay Gould, “The Return of Hopeful Monsters,” Natural History, Vol. 86, July-August 1977, p. 28

•৬, Colin Patterson, “Cladistics,” BBC, Interview with Brian, Peter Franz, 4 March 1982

নাস্তিকতা,Secularism,ধর্মনিরপেক্ষতা এবং আস্তিক,মুসলিম,ধার্মিকদের করণীয়

ধর্মহীনতা বা নাস্তিকতার গোড়াপত্তন

সভ্যতার ক্ষেত্রে আধুনিক ইউরোপ এবং ইউরোপ এর বিভিন্ন জাতির মিশ্রন যুক্তরাষ্ট্র প্রাচীন গ্রীসের অধিকারী। রোম সম্রাজ্যের মাধ্যমে এই উত্তরাধিকার ইউরোপ পর্যন্ত পৌছে গেছে। গ্রীক মিথলজিতে মানুষ এবং দেবতাদের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। তারা একে অন্যের বিরোধী এবং শত্রু। তাদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং দ্বন্দ্ব-কলহ সর্বদাই বিদ্যমান। এ কারনে বিশ্বপ্রকৃতির গুপ্ত রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে মানুষ যতটুকু সাফল্য অর্জন করেছে উহা দেবতাদের পরাজয় ও ব্যর্থতার ফসল বৈ কিছুই নয়, মানুষ উহা প্রাণপন যুদ্ধ করে দেবতাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে এনেছে। এই হিংসুটে, অসহায় দেবতারা পরাজিত না হলে মানুষকে রহস্য উদঘাটন বা আবিষ্কারের কোন সুযগই দিত না এবং প্রকৃতির যে সম্পদ ও অবদানের সাহায্যে মানুষ উপকৃত হচ্ছে তা থেকেও তারা বঞ্ছিত হত। গ্রীক চিন্তাধারার এই দৃষ্টিতে, বিজ্ঞানের প্রতিটি অগ্রযাত্রাকে হিংসুটে দেবতাদের পরাজয় বলে গন্য করা হয়। এ কারনেই বিজ্ঞান ও ধর্ম পরস্পর বিরোধী বলে মনে করেন আধুনিক ইউরোপে শিক্ষিত বা ইউরোপীয় সংস্কৃতিকে ভালবাসেন এমন বিজ্ঞানীরা। তারা নিজেদের প্রতিটি সাফল্যকে দেবতাদের বিরুদ্ধে জয় বলে মনে করেন। এভাবেই নাস্তিকতার (ধর্মহীনতার) গোড়াপত্তন হয়। প্রকৃতপক্ষে ধর্ম (শুধুমাত্র সত্য ধর্ম। কেননা পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মমতেই ঐ ধর্ম ব্যতিত অন্য সকল ধর্ম ভুল। অতএব ধর্মকে ১০০% সঠিক প্রমাণ করতে গেলে এই কথাটিরও সত্যতা প্রমাণ করতে হয়। এবং তা করতে গেলে সত্য ধর্ম কেবল একটিই পাওয়া সম্ভব। একই সাথে একাধিক ধর্ম সত্য হতে পারে না যেহুতু তাদের মৌলিক বিষয়াদিতে পার্থক্য রয়েছে।) ও বিজ্ঞান পরস্পর সহায়ক এবং নিশ্চয়ই উভয়ে উভয়ের বিরোধী নয়।

“বিজ্ঞান ধর্ম ব্যতিত খোড়া, ধর্ম বিজ্ঞান ব্যতিত অন্ধ” (আলবার্ট আইনস্টাইন)
“যে ব্যক্তি আংশিকভাবে বিজ্ঞানকে জানবে সে হবে নাস্তিক (ধর্মহীন) আর যে ব্যক্তি বিজ্ঞানঅকে পরিপূর্ণ রুপে জানবে সে হবে আস্তিক (ধর্মে বিশ্বাসী) (ফ্রান্সিস বেকন)





নাস্তিক্যবাদ যে আসলে একটি ধর্ম তার একটি যৌক্তিক প্রমাণঃ

নাস্তিক্যবাদ (atheism) প্রক্রিতপক্ষে একটি ধর্ম হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে। একটি ধর্ম হতে যা যা দরকার তা এর মধ্যে বিদ্যমান। নিম্নে এর স্বপক্ষে যৌক্তিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হলো।

১. ইশ্বরঃ নাস্তিকেরা মানুষ-কে ইশ্বর মানে। তাদের মূল কথা “সবার উপরে মানুষ সত্য” কিন্তু আফসোস! এরাই আবার ভিনগ্রহে মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান প্রাণীর (এলিয়েন) খোজ করে আর বলে তারা নাকি “সবার উপরে মানুষ সত্য” এই কথাটিতে বিশ্বাসী। অথচ ইসলামে যে মানুষকে সৃষ্টির সেরা বলে অভিহিত করা হয়েছে সেই ইসলামকে মানবতা বিরোধী বলে। (আমি মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্বের ব্যাপারে হতাশাবাদী নই। তবে যদি মহাবিশ্বে প্রাণ পাওয়াও যায় তাহলে হয় সেই প্রাণী মানুষের চেয়ে নিকৃষ্ট মানের হবে নয়তো মানুষ হবে তথা মানুষের সমগোত্রীয় হবে শুধু ভিন্নতা হবে আমরা পৃথিবীর অধিবাসি আর ওরা ভিনগ্রহের ঠিক যেমন আমি বাংলাদেশী আর বারাক ওবামা আমেরিকান)

২. প্রার্থনাঃ মানবসেবা। এরা মানবসেবা কে প্রার্থনা (prayer) মনে করে। কিন্তু হায়! এই মানবসেবা যে ইসলামেরই একটি অংশ তা তারা বুঝেও বুঝে না। তারা এটিও বুঝেও বোঝে না যে কোন উপায়ে মানুষের সেবা করলে সেটা সেবা হবে আর কি করলে আসলে সেবা নয় ক্ষতি হবে তা ইসলামে বলে দেওয়া হয়েছে। তারা “চকচক করিলেই সোনা হয় না” প্রবাদটি মনে হয় পড়ে নাই। আল কুরানে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, “না, আমরা সত্যের দ্বারা মিথ্যার উপর আঘাত হানি। ফলে তার মগজ চুরমার হয়ে যায়। তখন দেখ! তা অন্তর্নিহিত হয়। আর ধিক তোমাদের প্রতি! তোমরা যা আরোপ কর সে জন্য” (সুরা আম্বিয়া, আয়াত ১৮)... তাই তারা আপাতঃদৃষ্টিতে যা সুন্দর এবং সেবা মনে হয় তাই করে কিন্তু পর্দার আড়ালে যা লুকায়িত থাকে সে সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না। তাই তারা সমকামীতা, অশ্লীলতা, পায়ুকামীতা, ব্যাভিচার, মানবসৃষ্ট আইন (সংবিধান) এর পক্ষ নেয় এবং বিজ্ঞান সম্মত শরিয়াহ আইনকে “পশ্চাতপদ”, “মানবতাবিরোধী” ইত্যাদি উপাধিতে ভূষিত করে। তারা আমাদের দেশের (বাংলাদেশ) মহান মুক্তিযুদ্ধকে গৌরব কিন্তু ইসলামের জিহাদকে মানবতাবিরোধী কাজ বলে মনে করে। (আমি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি নই। আমি খালি এতুটুকু বোঝাতে চেয়েছি যে, আমাদের জাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের যেমন প্রয়োজনীয়তা রয়েছে ঠিক তেমনি রয়েছে জিহাদ-এরও।)

৩. দাওয়াতঃ এরা মানুষকে তাদের “There is no God” কথা বিশ্বাসে আমন্ত্রন জানায় এবং প্রয়োজনে এর স্বপক্ষে যুক্তিও (নিঃসন্দেহে ঐ যুক্তি খন্ডনযোগ্য এবং খোড়া) দেখায়।

৪. যুদ্ধঃ এরা নিজেদের যুদ্ধের পক্ষে বলে দাবি করে। অথচ দেখুন, মাদার তেরেসা (ক্যাথলিক মানবতাবাদী) দাঙ্গাকালীন সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি দাঙ্গায় আক্রান্ত (দাঙ্গা পিড়ীত এবং দাঙ্গা স্রষ্টা উভয় শ্রেণীই) লোকদের সেবা দেন। এতে করে দাঙ্গা স্রষ্টারা নতুন বেগ পায়। তারা দেখতে পারে তাদের চিকিতসা নিয়ে কোন শঙ্কা নাই। তাই তারা পূর্নোদ্যমে দাঙ্গা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। অথচ ঐ সময়ে মাদার তেরেসা এবং তার মতো মানবতাবাদীরা যদি দাঙ্গা স্রষ্টাদের সেবাদান না করতেন তবে হয়তো দাঙ্গা স্রষ্টারা চিকিতসা না পেয়ে শিক্ষা নিত এবং পরে আবারো দাঙ্গা সৃষ্টি করতে ভয় পেত। এভাবে কয়েকজন দাঙ্গা স্রষ্টার প্রাণের বিনিময়ে লক্ষ সাধারণ মানুষ বেচে যেত। তাই দেখুন, এই মানবতাবাদীরা (?) কিভাবে যুদ্ধ উস্কে দেয়। এছাড়াও তারা ব্যাভিচারের বিপক্ষে নয়। অথচ ব্যাভিচারের কুফল এইডস। তারা ব্যাভিচারের সমর্থন করে মহামারী এইডসকেও সমর্থন করছে। আর যে ইসলাম ব্যাভিচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তাকে বলছে “মানবতাবিরোধী”... তারা অপরাধীদের বাচাতে দেশে দেশে মানবাধিকার কমিশন গঠন করছে, ফাসির বিরোধীতা করছে। অথচ ঐ অপরাধীর প্রাণের বিনিময়ে হয়তো শত শত মানুষ বাচান যেত, ওই অপরাধীকে বাচাতে যেয়ে শত শত সাধারন নিরীহ মানুষের হত্যাকান্ডকে, রক্তের মূল্যকে উপেক্ষা করছে। এতে করে অন্য অপরাধীরাও সাহস পাচ্ছে। আর যে ইসলাম এই স্কল অবৈজ্ঞানিক কাজ এর বিরোধীতা করছে তাদের বলছে “মানবতাবিরোধী”, “পশ্চাতপদ” ইত্যাদি... এভাবে এরা যুদ্ধ কএছে কিন্তু অস্বীকার করছে।

৫. তীর্থস্থানঃ মিডিয়া। মুসলমানেরা যেমন মক্কা-মদীনায় যেয়ে নিজেদের ইবাদত পেশ করে, হাজ্জের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে তাদের শক্তি জানান দেয় নাস্তিকেরা ঠিক তেমন মিডিয়ার মাধ্যমে নিজেদের করা কাজ মানুষের মাঝে উপস্থাপন করে। যেহুতু মানুষই ইশ্বর তাই তারা মানুষের কাছে নিজেদের করা কাজ পেশ করে মানুষের মন জয় করতে চায়। মিডিয়ার মাধ্যমেই তারা নিজেদের শক্তিমত্তার প্রদর্শন করে। ইসলামী রাশট্র যেমন শূরা কমিটির মাধ্যমে চলে ঠিক তেমন নাস্তিকেরা চলে মিডিয়াগুলোর ইচ্ছানুযায়ী। মিডিয়া থেকে সিদ্ধান্ত আসে মানবতার বৃহত্তর স্বার্থে (?) কোন সত্যকে মিথ্যা আর কোন মিথ্যাকে সত্য বানাতে হবে।

৬. লক্ষ্যঃ ধর্মহীন প্রিথিবী গঠন।

উপরের যুক্তিসমূহ আলোচনা করলে এইটা জলবত তরলং যে নাস্তিক্যবাদ আসলে একটি নতুন ধর্ম বৈ কিছুই না। এরা এমন এক পৃথিবী গড়ে তুলতে চাইছে যেখানে মানুষ নিজেই হবে নিজের ইশ্বর। কিন্তু এমনটি হলে মানুষ-মানুষে খুনো খুনি শুরু হবে। সবাই যখন ইশ্বর হবে তখন যে পরিস্থতির অবতারণা ঘটবে এসম্পর্কে আল-কুরানে বলা হয়েছে, “যদি ও দুই (আসমান ও জমিন) এর মাঝে আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য থাকত তবে উভয়ে বিশৃঙ্খল হয়ে যেত এবং উভয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হতো। সুতরাং সকল মহিমা আল্লাহর, যিনি আরশের অধিপতি,- তারা যা আরোপ কর তার উর্ধ্বে” (সুরা আম্বিয়া, আয়াত ২২)... তাই বলা যায়, এই নব্য ধর্ম নাস্তিক্যবাদ ধর্ম প্রিথিবীতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আনতে বদ্ধ পরিকর। এছাড়াও পরকালভীতি উঠে গেলে ,আমুষ এখন যতটুকু ভাল কাজ করছে তা-ও ছেরে দেব। তাই ইসলাম ধর্ম বাদ দিয়ে নয়, সকল ধর্মের সুসহবস্থানের মাধ্যমে একটি সুন্দর প্রিথিবী গড়ার আদেশ দেয় যেমন প্রিথিবী এই মানব্জাতি পেয়েছিল ৮০০ বছর ইসলাম জাহান এর মাধ্যমে।



বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষতাঃ আসলে কতটুকু নিরপেক্ষ

বর্তমান সমাজে যে ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলা হচ্ছে তা প্রকৃতপক্ষে ধর্মহীনতা বা নাস্তিক্যবাদ নামক নতুন ধর্ম (আগেই প্রমাণ করা হয়েছে যে, নাস্তিক্যবাদ আসলে একটি ধর্ম) মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়ার এক অনন্য কৌশলগত কারনে তৈরী। তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষতার মূলমন্ত্র “ধর্ম নেই তো বিভেদ নেই” যা নাস্তিক্যবাদ এর সাথে সঙ্গতিপূর্ন। অন্যদিকে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মহান আল্লাহ তা’লা ইসলামকে কেবল এক ধর্ম হিসেবে প্রেরণ করেন নাই, সাথে দিয়ে দিয়েছেন আইনসমষ্টিও (শরিয়ত) যাতে সকল ধর্মের সাম্যতা বিদ্যমান রয়েছে। ইসলাম বিশ্বাস করে এবং জানে, “সকল ধর্মের সুসহবাসই সুন্দর পৃথিবী গঠনের এক ও অদ্বিতীয় শর্ত”... ধর্মনিরপেক্ষতা যে আসলে কোন ধর্ম সমর্থন করে না এমনটি ভাবা নিতান্তই বোকামি। এটি নাস্তিক্যবাদকে সম্পূর্ণ সমর্থন দেয় এবং নাস্তিকেরাই যখন দেখে যে, “There is no God” কথাটিতে কেউ বিশ্বাস করছে না তখন তারা একটি ভন্ন নাম দিয়ে ভিন্ন মতাদর্শের নামে ধর্মনিরপেক্ষতা চালু করে। ধর্ম নিরপেক্ষতার মাধ্যমে এরা নাস্তিক্যবাদ কে অন্যান্য ধর্মাবল্মবীদের উপর এক অভিনব কায়দায় চাপিয়ে দিচ্ছে এবং তাদের ধর্মচ্যুত করছে। একটি খুবই সাধারন এবং বাস্তবধর্মী উদাহরন দেই, আমি বাংলাদেশের এক প্রখ্যাত উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ, মিরপুর রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭)... আমি ৮ম শ্রেনীর ছাত্র। জুলাই মাস, ২০১১ সাল। গ্রিষ্মের ক্ষরতাপে বেলা ৪টা বা সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রদের আনা পানির বোতলের পানি শেষ হয়ে যায় এবং নিচতলায় স্কুলের নিচতলায় পানির ট্যাঙ্ক থেকে পানি আনতে যাই অন্য আরো অনেকের মতো। সেখানে দেখা হয় এক ধর্মভীরু ছেলের সাথে যে তার প্যান্ট টাকনুর উপরে উঠিয়ে পড়েছিল (ইসলাম অনুযায়ী প্যান্ট টাকনুর নিচে পড়া মারাত্মক পাপ) এবং মাথায় টুপি ছিল। হটাত সেখানে উপস্থিত হন আমাদের বিদ্যালয়ের দিবা-জুনিয়র শাখার উপাধ্যক্ষ ফেরদৌস আরা ম্যাডাম (সম্ভবতঃ ইনি ঈশ্বরে অবিশ্বাসী বা মুসলিম বিদ্বেষী। তার একটাই প্রশ্ন “মাদার তেরেসা কেন বেহেশতে যাবেন না?”) তিনি এসে ঐ ধর্মভীরু ছেলেকে বকা দেন এবং পরবর্তীতে টুপি না পড়তে এবং প্যান্ট গুটিয়ে না পড়তে কঠোর আদেশ দেন। তিনি বলেন, “টুপি কলেজের (এই বিদ্যালয়টি ৩উ হতে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত। তাই টিচারেরা এটাকে কলেজ বলতে ভালবাসেন।) ইউনিফর্ম না এবং প্যান্ট আনফোল্ড (না গুটানো) এটা কলেজের ইউনিফর্মের অংশ। এ কলেজে হিন্দু-মুসলমান সবাই পড়ে এবং সবার জন্যই এ নিয়ম সমান। কেউ যদি এর বিরোধীতা করে তবে সে সাম্প্রদায়িক কাজ করে”।
এখন দেখুন, কিভাবে নাস্তিকেরা তাদের নিয়ম দ্বারা, অসাম্প্রদায়িকতার নামে এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে মুসলমানদের একান্ত ব্যক্তিগত ধর্মীয় আচার পালনেও বাধা দেয়। অথচ ইসলাম যখন নিয়ম করে মানুষকে অপকর্ম (ব্যাভিচার, অশালীন জামা পড়া কিভাবে সুকর্ম হয়? আর কিভাবে বা স্ত্রীদের ঘরে আরামে রেখে স্বামীদেরকেই স্ত্রীর প্রয়োজনীয় সবা কাজ মেটাতে বলা অপকর্ম হয়?) হতে বাধা দেয় তখন তারা সেই আইন কে বলে “মানবতাবিরোধী” কিংবা “পশ্চাতপদ” কিংবা “সঙ্খ্যালঘুদের বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যাচারস্বরুপ”...অথচ তারাও কিন্তু আইন করে আমাদের একান্ত ব্যক্তিগত ধর্মীয় কাজগুলোতে বাধা দিচ্ছে এবং যেখানে আমাদের কাজগুলো কাজগুলো মোটেও খারাপ নয় উলতো বিজ্ঞানম্মত, মানবতার জন্যই করা। (অপচয় রোধে এবং অহঙ্কার হতে রক্ষার জন্য টাকনুর নিচে প্যান্ট পড়া নিষেধ, মেয়েরা শারীরিকভাবে পুরুষদের চেয়ে অনেক দুর্বল। তাই মেয়েরা ঘরে আয়েশ করবে আর পুরুষেরা বাহিরের কাজ করেব। অতএব, ইসলামে যদি নারী-পুরুষে কোন ভেদাভেদ করেও থাকে তবে তা নারী-পুরুষের মঙ্গলের জন্যই। কিন্তু ইসলামে কোন ভেদাভেদ করা হয় নাই। কোন কোন ক্ষেত্রে নারীদের বেশী এবং কোন কোন ক্ষেত্রে পুরুষদের বেশী অধিকার দেয়া হয়েছে)... এখন আপনিই বলুন, কারা মানবতার পক্ষের শক্তি এবং কারা অন্যের উপর নিজের মত চাপিয়ে দেয়। অনুরুপভাবে একসময় হয়তো আমরা দেখতে পাব, মুসলমানদের যেমন প্যান্ট টাকনুর উপরে পড়া-টুপি পড়া নিষেধ করা হয়েছে সেরকম একদিন মা মারা গেলে হিন্দুদের মাথা টাক করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এভাবে নাস্তিকেরা তাদের নিজেদের ধর্ম অন্যান্যদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে। তাদের প্রশ্ন করলে তারা বলবে, “এটা ধর্ম নিরপেক্ষ সমাজ। এখানে মুসলমান-হিন্দু বলে কোন কথা নাই। সবার জন্যই এক নিয়ম”... এক্ষেত্রে “এক নিয়ম” কথাটার আলাদা তাতপর্য্য রয়েছে। এই এক নিয়ম মানে সবাই নিজের মতো করে ধর্ম পালন করবে তা না। এই এক নিয়ম মানে সবাই “ধর্মনিরপেক্ষ” দের বানানো আইন মানবে হোক তা কোন ধর্ম বিরোধী কিংবা ধর্মের সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ।

অতএব উপরের আলোচনার সাপেক্ষে এটা বলা কোনক্রমেই বাহুল্য হবে না যে, ধর্মনিরপেক্ষতা প্রকৃতপক্ষে নাস্তিকতারই অপর নাম। অতএব আপনি যদি ধর্মে বিশ্বাসী হন (হিন্দু-ইসলাম-বৌদ্ধ যেকোন ধর্ম) তবে ধর্মনিরপেক্ষতা কে না বলুন। কেননা যদি ধর্মনিরপেক্ষতা=নাস্তিকতা হয় তবে ধর্মনিরপেক্ষতাউ\ইয় ও ধর্মে বিশ্বাস একই সাথে হতে পারে না। ধর্মনিরপেক্ষতা সকল ধর্মের জন্যি ক্ষতির কারণ। আজ এরা আমার ধর্ম ইসলাম কে টার্গেট করেছে কাল হয়তো আপনার ধর্মকে টার্গেট করবে।

প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ কি এবং কোনটি সর্বোত্তম ধর্মনিরপেক্ষতাঃ

পরকালভীতি উঠে গেলে মানুষ এখন যতটুকু ভাল কাজ করছে তা-ও ছেরে দেব। তাই ইসলাম ধর্ম বাদ দিয়ে নয়, সকল ধর্মের সুসহবস্থানের মাধ্যমে একটি সুন্দর প্রিথিবী গড়ার আদেশ দেয় যেমন প্রিথিবী এই মানব্জাতি পেয়েছিল ৮০০ বছর ইসলাম জাহান এর মাধ্যমে। সুতরাং নাস্তিক্যবাদ কোনক্রমেই মানবতার সন্ধান হতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে বুঝায় ঐ আদর্শ যাতে সকল ধর্মের সুসহবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন দেখা যাক, ঐ আদর্শ আসলে কোনটি।
পূর্বেই প্রমানিত হয়েছে যে বর্তমান তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতা আসলে ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য কোন সমাধান হতে পারে না। তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষতার বাইরে আরেকটি ধর্ম নিরপেক্ষ সংবিধান আছে যার না শরিয়াহ। (মুসলিম ভাইয়েরা, ইসলাম যে শুধু একটি ধর্ম না তা পরবর্তীতে প্রমান করা হয়েছে। এবং এর ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রমাণ নিম্নে দেয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সকলের শান্তির জন্যই ইসলামের আগমন। মহানবী (স) মদীনা চুক্তি করেন। সেখানে মদীনা অধিপতি হন তিনি। মদীনার সে চুক্তিতে ৮ গোষ্ঠীর বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী অংশ নেন। তার বিরুদ্ধে মুসলমানদের প্রতি পক্ষপাতিত্বের কোন অভিযোগ নাই। এবং তিনি শরিয়াহ আইন জারি রেখেছিলেন। অতএব বলা যায়, শরিয়াহ আইনে কোন গোষ্ঠী, সম্প্রদায় বা ধর্ম বিশেষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে না) ইসলাম ধর্ম বাদ দিয়ে নয়, সকল ধর্মের সুসহবস্থানের মাধ্যমে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে চায়। আসলে এটিই সুন্দর পৃথিবী গঠনের একমাত্র উপায়। ধর্ম মানুষের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গাগুলোর একটি। অনেক সময় মানুষ কোনটি সত্য ধর্ম তা জানার পরও ঐ সনাতনি বিশ্বাস সহ নানা কারনে আগের ধর্মেই অটল থাকে (উদাহরনঃ আবু তালিব, আব্দুল মুত্তালিব)...তাই সর্বদাই সত্য ধর্মের পাশাপাশি অন্য ধর্মও থেকে যায়। একারণে সকল ধর্মের সহবস্থান জরুরী হয়ে পড়ে। ইসলাম শরিয়াহ আইনের মাধ্যমে এই সহাবস্থানই নিশ্চিত করে। ইসলাম বিধর্মীদের জন্য যেরুপঃ-
(ক) ইসলামি শরিয়াহ আইনের বশ্যতা স্বীকার কর (ঠিক যেমনটি তারা পূর্বের মানবসৃষ্ট সংবিধানের বশ্যতা স্বীকার করেছিল। শরিয়াহ আইন প্রকৃতপক্ষে একটি সংবিধান যা অন্য সকল সংবিধান হতে উত্তম)
(খ) যার যার ধর্ম পালন করতে পারবে, মুসলিমরা এতে বাধা দিতে পারবে না।
(গ) মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং রাষ্ট্রের চালক হওয়ায় তারা বিধর্মীদের নিরপত্তা দেবে। বিনিময়ে বিধর্মীদের মধ্য হতে যুদ্ধক্ষম লোকেরা বার্ষিক কর প্রদান করবে যার নাম জিজিয়া। শিশু-বৃদ্ধ-স্ত্রীলোক-অপ্রাপ্তবয়স্কদের এটা দিতে হবে না। এর পরও যারা রাষ্ট্রের পক্ষে যুদ্ধ করবে তাদের কর দেয়া লাগবে না। (কর মুসলমানদেরও দিতে হয়। রাষ্ট্রের সঙ্কটকালীন সময়ে সাহাবারা নিজেদের খাদ্য খরচও রাষ্ট্রের জন্য দিয়ে দিয়েছেন। এছারা তারা যুদ্ধও করেছেন। কিন্তু বিধর্মীদের খালি একটি করলেই চলছে- হয় যুদ্ধ নয়তো কর যেখানে মুসলমানদের করতে হচ্ছে ২টাই)

আশা করি উপরোক্ত যুক্তিগুলো ইসলাম যে সর্বোত্তম ধর্ম নিরপেক্ষ তা প্রমানে যথেষ্ট হবে। এছাড়াও বিখ্যাত ইংরেজ লেখক আরনল্ড তার “The preaching of Islam” গ্রন্থে স্বীকার করেছেন যে, ইসলাম নিরপেক্ষ। তিনি বলেন, ইসলামী দুনিয়ায় বহু সঙ্খ্যক খ্রিস্টান-ইহুদী (স্থান এবং কাল ভেদে হিন্দু-বৌদ্ধ-শিখ প্রভৃত ধর্মও প্রযোজ্য) স্বাধীনভাবে নিজ ধর্মকর্ম পালন করছে। এছাড়াও অন্য কোন ধর্মে শরিয়ত এর মতো কোন আইনাবলী দেয়া নাই যা রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই ইসলামের শরিয়াহ আইন অন্য কোন ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। অন্য সকল ধর্মাবলম্বী যেকোন সংবিধান বা রাষ্ট্রের আইনাবলী অনুসরণ করতে পারে, এটা তাদের জন্য পাপের কিছু নয়। কিন্তু একজন মুস্লিম যদি আল্লাহর আইন ব্যাতিরেকে অন্য আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায় তবে সে আল্লাহর উপর জুলুম করে। তাই বলা যায়, ইসলামের শরিয়াহ আইন কোন ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এবং এ আইন প্রতিষ্ঠার ফলে কোন ধর্মের অবমাননা বা কোন ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয় না বরং শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা না করলে তা ইসলাম ধর্মের প্রতি অবমাননা করা হয়। পরবর্তী অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হলো কীভাবে মানবসৃষ্ট আইন মুসলমানদের জন্য হারাম।


বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষতাঃ মুসলমানদের জন্য কতটুকু নিরপেক্ষ

ইসলাম কথাটির অর্থ শান্তি। বর্তমানে ১৫০ কোটি মুসলমানের বাস এ পৃথিবীতে। সবারই ধারণা ইসলাম একটি ধর্ম। বাস্তবে ধর্ম ইসলামের একটি অংশ মাত্র। ইসলাম হল একটি পূর্নাঙ্গ জীবনবিধান যাতে আরো অনেক কিছুর মতো ধর্মের উপস্থিতি রয়েছে। ইসলামের ধর্ম অংশটুকু হলো ব্যক্তিগত জীবনের জন্য। এছাড়াও পারিবারিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনধারা ইসলামে দেয়া আছে যার বাংলা সংবিধান (constitution)। মূলত শান্তির জন্য যে জীবনবিধান/সংবিধান তাই ইসলাম।
ইসলামবিদ্বেষীগণ এবং মুনাফিকরা সর্বদা ইসলামকে ধর্ম বলে চালাবার অপচেষ্টা করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তারা নিজেদের দাড়ি-টুপি-পাঞ্জাবী দ্বারা শোভিত করেন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা (acceptance) পাওয়ার জন্য। এভাবে তারা ইসলামের ভিতরে ঢুকে মানুষকে ইসলামের ধর্ম (ব্যক্তি জীবনে করণীয়) বিষয়ক কাজগুলো আলোচনা করে এবং ইসলাম যে জীবনবিধান (দ্বীন/শরিয়াহ/সংবিধান) তা উহ্য রাখে। এতে করে মুসলমানেরা দুষ্ট লোকের মিষ্ট কথায় প্রভাবিত হইয়ে ইসলাম যে একটি পূর্নাঙ্গ জীবনবিধান তা ভুলে যায় এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিতব্য আইনসমষ্টি প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়। কেননা, ইসলামকে যখন ধর্ম বলা হয় তখন তা প্রতিষ্ঠা পাওয়ার যোগ্যতা হারায়। যদি একটি ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করা হয় তাহলে বাকি ধর্মগুলোও প্রতিষ্ঠা প্রাপ্তির দাবি জানাবে। কিন্তু ইসলাম ধর্ম জন্য প্রতিষ্ঠা পাওয়ার যোগ্যতা চায় না, এটি প্রতিষ্ঠা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে কেননা এটিই একমাত্র ধর্ম (যদিও ইসলাম ধর্ম না, তারপরও প্রমানের স্বার্থে ধরে নেই) যাতে দেয়া আছে রাষ্ট্রীয় বিধান (সংবিধান)-সামাজিক বিধান (বিজ্ঞানসম্মত এবং মানবতার পক্ষের প্রথা। যথা- কোরবানি, সদকা, ফিতরা) ও বিশেষ কিছু পারিবারিক বিধান(পারিবারিক আইন। এর মধ্যে রয়েছে উত্তরাধিকার সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক আইন যা আমাদের দেশে মুসলিম পারিবারিক আইন নামে পরিচিত) যা অন্য যেকোন ধর্মে অনুপস্থিত। একারণে ইসলামের মূল ভিত্তি আল-কুরান কে বলা হয় “একটি পূর্নাঙ্গ জীবনবিধান”... অনেকেই একথাটি বহুবার বলেছে কিংবা শুনেছে কিন্তু মর্মোদ্ধারের চেষ্টা করে নাই। আল কুরানে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে,
“তিনি সেই জন যিনি নাযিল করেছেন এই কিতাব, তার মধ্যে কতকগুলো আয়াত নির্দেশাত্মক- সেই সব হচ্ছে এই গ্রন্থের ভিত্তি আর বাকিগুলো রুপক। তবে তাদের বেলা যাদের অন্তরে যাদের অন্তরে আছে কুটিলতা তারা অনুসরন করে এর মধ্যে যেগুলো রুপক বিরোধ সৃষ্টির কামনায় এবং এর ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রচেষ্টায়। আর এর ব্যাখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না” (সুরা আল-ইমরান, আয়াত ৬)
এখানে স্পষ্ট করে বলে দেয়া আছে কুরানের কোন আয়াতগুলো কুরানের ভিত্তি। এখানে যদি বলা হতো “…তার মধ্যে কতকগুলো আয়াত আসল……” তবে কোন আয়াতগুলো আসল আর কোন গুলো নকল তা বাছাই করতে মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়ত। কী বলত, নির্দেশাত্মকগুলো আসল, কেউ বলতে উপদেশবাচকগুলো। কিন্তু সর্বোজ্ঞানী আল্লাহ তা’লা বলেই দেয়েছেন যেসকল আয়াত দ্বারা আমাদের নির্দেশ করা হয়ছে তাই আসল। আর যারা অন্যগুলো নিয়ে টানাটানি করে তারা ফিতনাসৃষ্টিকারী। এখানে, ইসলামবিদ্বেষীগণ এবং মুনাফিকরা সর্বদা যারা ইসলামকে ধর্ম বলে চালাবার অপচেষ্টা করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে, নিজেদের দাড়ি-টুপি-পাঞ্জাবী দ্বারা শোভিত করেন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা (acceptance) পাওয়ার জন্য, যাতে তারা ইসলামের ভিতরে ঢুকে মানুষকে ইসলামের ধর্ম (ব্যক্তি জীবনে করণীয়) বিষয়ক কাজগুলো আলোচনা করে এবং ইসলাম যে জীবনবিধান (দ্বীন/শরিয়াহ/সংবিধান) তা উহ্য রাখে তাদের চরিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। তাই আমার আকুল অনুরোধ থাকবে এই সকল ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দূরে থাকার।
রাষ্ট্রে সংবিধান প্রতিষ্ঠা করা যায়, কোন ধর্ম নয়। (পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এক ধর্ম প্রতিষ্ঠা পেলে অন্য ধর্মও প্রতিষ্ঠার দাবি জানাবে। আর অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস আসে আবেগ থেকে যা কোন যুক্তি মানে না। এ জন্য যুক্তি দিয়ে “অমুক ধর্ম সেরা” এই কথাটি মানুষকে বোঝান যাবে না বা ঐ ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা যাবে না) তাই সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহ তা’লা আমাদের জন্য একটি সংবিধানও দিয়েছেন ধর্মের পাশাপাশি। এই আইনমালায় সকল ধর্মের সহাবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা যেমন বর্তমানে প্রচলিত সংবিধান মেনে চলি অনুরুপ ভাবে এই সংবিধানও মেনে চলতে হবে। ইন্ডিয়ার সংবিধান হিন্দু দ্বারা, আমেরিকার সংবিধান খ্রিষ্টান-নাস্তিকদের গড়া। তার মানে কি এই যে, ঐ সংবিধান ইন্ডিয়ার সংবিধান বৌদ্ধদের ধর্ম বিরোধী কিংবা আমেরিকার সংবিধান খ্রিষ্টান-নাস্তিক দের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে? যদি আপনার উত্তর না হয় তবে আমি বলি, শরিয়াহ আইন ইসলামে থাকলেও/মুসলমানদের দ্বারা প্রতিষ্ঠা পেলেও এতে কোন সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতিত্বের কোন অবকাশ নাই। তবে দেখুন, শরিয়াহ আইন মানতে কোন ধর্মে নিষেধ করা হয় নাই। শরিয়াহ আইন একটি সংবিধান। ইসলাম বাদের অন্য সকল ধর্মে স্বীয় রাষ্ট্রের সংবিধান মেনে চলতে বলা হয়েছে। অতএব, শরিয়াহ আইনের ফলে কোন ধর্মাবলম্বীদের জাত যাবে না। কিন্তু শরিয়াহ বাদে অন্য কোন সংবিধান যদি কোন মুসলিম গ্রহন করে তবে সে মুরতাদ হয়ে যায়। আল-কুরানে বলা হয়েছে-
“আর যারা বিচার করে না আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার দ্বারা, তাহলে তারা নিজেরাই অন্যায়কারী” (আল-মায়িদাহ, আয়াত ৪৫)
সুতরাং, শরিয়াহ ব্যতিত কোন আইনই ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। আর ধর্ম নিরপেক্ষতা হল তা যা কোন ধর্মের সাথেই সাংঘর্ষিক না। কিন্তু মানবসৃষ্ট বর্তমানের সংবিধান ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এটি আসলে ধর্ম নিরপেক্ষ না।

তাই, আসুন (আপনি যে ধর্মাবলম্বীই হোন না কেন) বর্তমান তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতাকে বর্জন করুন এবং প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষি ইসলামিক সেকুলারিজম এর পক্ষে আসুন।


এমতাবস্থায় মুসলিম ভাইয়েদের করনীয়

উপরের আলোচনা দ্বারা এই-ই প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমান সংবিধান মানা আমাদের জন্য হারাম। তাই আমাদের অবশ্যি শরিয়াহ আইন চালুর জন্য জিহাদ (সংগ্রাম) করতে হবে। জিহাদের ফযীলত কুরানে পাকে বর্ণিত হয়েছে এভাবে-
“তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো; আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন তোমাদের হাতে, আর তাদের লাঞ্ছিত করবেন আর তোমাদের সাহায্য করবেন তাদের বিরুদ্ধে, আর মুমিন সম্প্রদায়ের বুক প্রশমিত করবেন” (সুরা তাওবা, আয়াত ১৪)।
এখানে আমাদের জহাদ করতে বলা হয়েছে। আর কাদের সাথে জিহাদ করতে হবে তাও বলা হয়েছে নিম্নোক্ত আয়াতটিতে
“তোমরা কি যুদ্ধ করবে না সেই সব সম্প্রদায়ের প্রতি যারা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, আর সঙ্কল্প করেছে রাসূলকে বহিষ্কৃত করার, আর তারাই তোমাদের উপরে শুরু করেছে প্রথমে? তোমরা কি তাদের ভয় করো? কিন্তু আল্লাহই অধিকতর দাবিদার তোমরা তাকে ভয় করবে- যদি তোমরা মুমিন হও” (সূরা আত তাওবা, আয়াত ১৩)
এখানে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে তাদের সাথে যারা আমাদের সাথে চুক্তিভঙ্গ করেছে, আমাদের চোখে ধূলা দিচ্ছে। আর এক্ষেত্রে রাসূলকে বহিষ্কৃত করা বলতে বুঝানো হয়েছে রাসূলের সুন্নাত এবং তার প্রতিষ্ঠিত আইনসমূহ বাতিল করার। নিশ্চিতপক্ষে বর্তমান মানবতাবাদীরাই আমাদের উপর অত্যাচার শুরু করেছে আমাদের রাসূলের আদর্শ ও প্রতিষ্ঠিত শরিয়াহ এর বিরুদ্ধাচারন করে, নির্বাসনে পাঠিয়ে। তারা আমাদের মানবতাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা-র নামে চোখে ধূলা দিচ্ছে। তারা আমাদের মসজিদ বানানোকে নিষিধ ঘোষনা করছে (নরওয়ে), তারা বোরখা নিষিধ করছে (ইতালি, ফ্রান্স)... তারাই তো আমাদের উপর আক্রমণকারী। আমরা তো স্রেফ এখন নিজেদের প্রোতিরোধের স্বার্থে যুদ্ধ করব। আমাদের উচিত তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ (দয়া করে আমাকে উগ্রপন্থী বলবেন না। এই জিহাদ বলতে কেবল সশস্ত্র জিহাদ না। জিহাদ হতে পারে কলমের জিহাদ, তরবারীর জিহাদ, অন্তরের জিহাদ তথা কোন উপায়ন্তর না থাকলে অন্তরে ঘৃণা করা। যার যা সামর্থ্য সে অনুযায়ী জিহাদ। আর আমাদের পরিবেশ, পরিস্থিতি আর সুকৌশলে জিহাদ করতে হবে। বর্তমানে তারা আমাদের ভাতে মারছে তথা স্লো পয়জনিং করছে। এখন সশস্ত্র জিহাদের সময় না। এখন সময় কলমের জিহাদের। আমাদেরও তাই করতে হবে। যখন তারা আমাদের সাথে সরাসরি জিহাদ ঘোষণা করবে তখন আমরাও তীরবেগে ঝাপিয়ে পড়ব। আমাদের সর্বদা সবকিছুর জন্যই প্রস্তুত থাকতে হবে।) করা। এটা আল্লাহর আদেশ।
এছাড়াও কুরান পাকে বলা হয়-
“মুশরিকদের কোন অধিকার নাই আল্লাহর মসজিদগুলো দেখাশুনা করার যখন তারা নিজেদের বিরুদ্ধে অবিশ্বাসের সাক্ষ্য দেয়। এরাই তারা যাদের কাজকর্ম ব্যর্থ হয়েছে, আর আগুনের মধ্যে তারাই অবস্থান করবে” (সুরা আত তাওবা, আয়াত ১৭)
দেখুন পৃথিবীর প্রতি দেশেই এক বা একাধিক মসজিদ আছে। আর এই মসজিদগুলো রক্ষনাবেক্ষনের জন্য যে সকল কমিটি আছে তা হয় সরকার প্রভাবিত বা সরকার দ্বারা পরিচালিত বা নিবন্ধিত। বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব সরকারই নাস্তিক বা মুশরিক (উদাহরণঃ আমাদের বর্তমান (২০১১ সাল) প্রধানমন্ত্রী দূর্গাকে মা বলেন, আবার নামাজও পড়েন। এটা মুশরিকি)... তাই এসকল মুশরিকদের কোন অধিকার নাই যে তারা মসজিদগুলো রক্ষনাবেক্ষন করবে। এরপর দেখুন, পৃথিবীতে যতো গনতান্ত্রিক দেশ আছে তাতে একাধিক রাজনৈতিক দল আছে আছে যারা পরস্পর পরস্পরকে দোষারোপ করে এবং তাদের সকল কার্যক্রম ব্যররথ হয়েছে (বাংলাদেশ সরকারের ব্যর্থ কাজের চেয়ে সফল কাজের বর্ননা দেওয়া সহজ। কেননা, সরকারের প্রায় প্রতিটি কাজই অসফল প্রমাণিত এবং হাস্যকর। আর যার দরুন এই অসচেতন, মানবাতবাদী (?), সেকুলার সমাজও অসন্তুষ্টি প্রকাশে পিছিয়ে নেই। আর আমেরিকা, ব্রিটেন ইত্যাদি দেশের নেয়া বড় সব পদক্ষেপই ব্যররথ। যথাঃ উপনিবেশবাদ, আফগান বা ইরাক দখল, পুজিবাদ, সমাজতন্ত্র, গনতন্ত্র(?) প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি)
আমার উপরের কথাগুলো দেখে মনে হতে পারে আমাদের বুঝি এখনই জিহাদে ঝাপিয়ে পড়ার আদেশ দেয়া হয়েছে কুরানে। আসলে তা নয়। জিহাদে আমাদের ঝাপিয়ে পড়তে হবে তবে তা সশস্ত্র জিহাদে নয়। তারাই তো প্রথমে আমাদের আক্রমণ করলে তবেই আমরা তার কঠোর পালটা জবাব দেব। তারা আমাদের কলমের মাধ্যমে আঘাত দিচ্ছে, মিডিয়া দ্বারা ক্ষতি করছে, আমরাও তাদের কলম এবং মিডিয়ার মাধ্যমেই পালটা জবাব দেব। নিশ্চয়ই সত্য মিথ্যার উপর জয়ী হবে। আমার উপরে দেয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উদাহরণ নিয়ে অনেকে হয়তো বলার অপচেষ্টা করবে যে, আমি তাকে জিহাদের মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছি। আসলে তা না। মুসলিমরা বড়ই উদার। সর্বপ্রথম মক্কা বিজয়ের (এর পর রাসূলের (সা) ওফাতের পর অনেক বিজয় সংঘটিত হয়, মুশরিকদের পতন হয়) মাধ্যমে সাহাবায়ে কেরাম কুরানের উপরোক্ত বানীগুলোকে বাস্তবে পরিণত করেছিলেন। তখন আমরা কুরাইশ সর্দার আবু সুফিয়ানকে মাফ করে দেই, মাফ করে দেয়া হয় সেই স্ত্রীলোককে যে হযরত হামযা (রা) এর কলিজা চর্বন করেছিল, আমাদের রাসূল (সা) মাফ করে দেন ঐ কৃতদাসকে যে কিনা হামযা (রা) এর ঘাতক ছিলেন। ভবিষ্যতেও আমরা এর নমুনা রেখেই যাব। মুসা (আ) ফিরাউনকে সত্য ধর্মের প্রতি আহবান করেছিলেন, ঠিক তেমনি আমি করছি সকল মুসলিম (ঐ সকল মানুষ যারা যে কোন জায়গায় ধর্মের স্থলে ইসলাম লেখেন, হোন তারা মুনাফিক কিংবা মুশরিক)... কিন্তু মুসা (আ) ফিরাউনকে মারেন নাই। আমিও কাউকে কতল করব না যদি না আমার উপর আঘাত না আসে। আর রক্তের বদলে রক্তই একমাত্র যথাযোগ্য শাস্তি। বিধর্মীদের সাথে দয়ালু আচরণ আমরা শিক্ষা পাই উপরে মক্কা বিজয়ের উদাহরণ থেকে। আরো পাই কুরান এর এ আয়াত হতে-
“আর যদি কোন মুশরিক তোমার কাছে আশ্রয় চায় তবে তাকে আশ্রয় দাও যেন সে আল্লাহর বানী শোনে, তারপর তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌছে দিয়ো। এটি এই জন্য যে তারা হচ্ছে এমন এক সম্প্রদায় যারা জানে না” (সূরা আত তাওবা, আয়াত ৬)
বিরোধীপক্ষকেও আশ্রয় দেয়াও আমাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। এসময় আমাদের এই করণীয়টিও মনে রাখতে হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর অসীম কুদরতে আমরাই একমাত্র জাতি যারা মানুষের বিপদের সময় সাহায্য করতে পিছপা হই না যদি তারা আমাদের শত্রুও হয়।
জিহাদের সময় আমাদের আরো যে বিষয়গুলো লক্ষ রাখতে হবে তা হলো পরিবেশ। পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী মহানবী (সা) তৃতীয় স্তরের মুমিন (অন্তরে ঘৃণা) হতে বাধ্য হয়েছেন। যদি দেখা যায়, অন্যায় প্রতিরোধ করতে গেলে বা অন্যায় করতে নিষেধ করতে গেলে প্রাণনাশের ভয় রয়েছে তবে সে ক্ষেত্রে অন্তরে ঘৃণা করাই যথেষ্ট হবে।
আমরা অনেক জিহাদের সময় ধৈর্য্য রাখতে পারি না, হুট-হাট কাজ করি, দ্রুত ফল আশা করি এবং শর্ট-কাট পদ্ধতি অনুসরণ করি। এতে করে আমাদের উদ্দেশ্য সাময়িক ভাবে সফলকাম হলেও সেটি টেকসই হবে না। আমাদের অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে এবং যোগ্যলোককে নেতা হিসেবে মানতে হবে। তবেই আমরা সফলকাম হতে পারব ইন শা আল্লাহ। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে থাকবেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই আর্টিকেলটির কোন স্বত্ত্বাধিকার সংরক্ষিত নয়। সকলে এর ব্যাপক পরচারের ব্যবাস্থা করবেন এটিই কাম্য। তবে লেখক কি উদ্দেশ্যে কি কথা বলেছেন তা লেখকই ভাল জানেন। তাই কোন পরশ্ন থাওকলে তার উত্তর লেখকই ভাল দিতে পারবেন (আল্লাহর পর, নিশ্চই আল্লাহ সর্বোত্তম জ্ঞানী)... তাই এতটুকু অনুরোধ থাকবে লেখাটি যখন অপরের নিকট পৌছে দিবেন তখন ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে লেখকের নাম এবং যোগাযোগের ঠিকানাগুলো ঠিক রাখবেন এতে করে লেখক এই আর্টিকেলের উপর আনা অভিযোগসমূহের সমুচিত জবাব প্রদান করতে পারবেন। আর্টিকেলটির কোন অংশে যদি আপনার দ্বিমত থাকে তবে অবশ্যই তা জানাতে ভুল করবেন না। মানুষ মাত্রই ভুল। সাহাবায়ে কেরামও অনিচ্ছাকৃত অনেক ভুল করেছেন আর আমি তো সেই কোন ছার। প্রকৃত বন্ধু সেই যে সামনে ভুল ধরিয়ে দেয়, পশ্চাতে প্রশংসা করে। আর্টিকেলটিতে কোন তথ্যগত ভুল (যেমনঃ কুরান-হাদিসের ভুল রেফারেন্স ইত্যাদি) বা যেকোন প্রকার ভুল থাকলে তা পশ্চাতে না বলে সামনে বলবেন এটাই আমার প্রত্যাশা।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

নাস্তিকতা একটি অমানবিক বিশ্বাস

এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার অনস্তিত্ব যেহেতু কোন কালেই কেউ প্রমাণ করতে সক্ষম হবে না এবং বেশীরভাগ মানুষ যেহেতু স্রষ্টায় বিশ্বাসী এবং তাদের বিশ্বাসের স্বপক্ষে যেহেতু শক্তিশালী যুক্তিও আছে সেহেতু স্রষ্টাকে একটি “প্রতিষ্ঠিত সত্য” হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে। তাছাড়া যৌক্তিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই মহাবিশ্বের যে একজন স্বজ্ঞাত ও বুদ্ধিমান স্রষ্টা থাকতেই হবে তাতে মনে হয় সংশয়-সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।
বুদ্ধিমান স্রষ্টার উপর নাস্তিকদের আবার বেশ ক্ষোভ! ঘর পোড়া গরুর মতো ‘বুদ্ধিমান’ শব্দটা শুনলেই তারা আঁতকে ওঠেন! তার কারণ হচ্ছে বুদ্ধিমান স্রষ্টা যেমন ন্যায়-অন্যায়ের হিসাব-নিকাস রাখতে সক্ষম তেমনি আবার অপরাধীদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থাও থাকতে পারে। অন্যদিকে বোবা-কালা-অন্ধ-অচেতন প্রকৃতি যেহেতু ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য করতে অক্ষম সেহেতু এই ধরণের প্রকৃতি গডে বিশ্বাসের মজাই আলাদা! চুরি-চামারি-হত্যা-ধর্ষণ সহ যে কোন প্রকারের অপরাধ করে সহজেই পার পাওয়া যাবে। বুদ্ধিমান স্রষ্টাকে ভয় পাওয়ার গুরু রহস্য এবার নিশ্চয় পরিস্কার।
আস্তিকদের বিশ্বাস অনুযায়ী আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে সবারই একদিন-না-একদিন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার হবেই। একমাত্র যুদ্ধাপরাধী রাজাকার ছাড়া বাংলাদেশের মানুষ যেমন প্রায় চল্লিশ বছর ধরে ৭১'র যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য দিন-ক্ষণ গুণছেন আর অপেক্ষা করছেন, যদিও ইতোমধ্যে অনেকেই মারা গেছে এবং বাস্তবে ন্যায়বিচার করা অসম্ভব, আস্তিকরাও তেমনি সকল প্রকার অপরাধীদের চূড়ান্ত বিচারের জন্য শেষ বিচার দিবসের আশায় অপেক্ষা করছেন। অতএব, নৈতিক ও যৌক্তিক উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই আস্তিকদের বিশ্বাসের মধ্যে সামান্যতমও কোন ভেজাল নেই। কিন্তু নাস্তিকরা অপরাধী ও তাদের ভিকটিমদের ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করে না। নাস্তিকদের বিশ্বাস অনুযায়ী খুনী, ধর্ষক, চোর-ডাকাত, সন্ত্রাসী, ও বড় বড় গণহত্যাকারীরা মারা গেলে তাদের কোন বিচার হবে না! তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী বুদ্ধ ও হিটলারের মধ্যে কোনই পার্থক্য নেই। মাদার তেরেসা ও বিন লাদেনের মধ্যে কোনই পার্থক্য নেই। পলপট ও গান্ধির মধ্যে কোনই পার্থক্য নেই। টেররিষ্ট ও সেইন্ট এর মধ্যে কোনই পার্থক্য নেই। ভাল ও মন্দের মধ্যে কোনই পার্থক্য নেই। সত্য ও মিথ্যার মধ্যে কোনই পার্থক্য নেই। (অপ)বিজ্ঞান আর (কু)যুক্তিবাদ এর নামে এই ধরণের মানবতাবিরোধী ভয়ঙ্কর ডগমা থেকে সাবধান।
অতএব, অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে যে, নাস্তিকতা ও মানবতাবাদ একে-অপরের বিপরীত। কেউ একই সাথে নাস্তিক ও মানবতাবাদী হতে পারে না। একদিকে নাস্তিকতা প্রচার অন্যদিকে মুখে মানবতাবাদের বুলি কাঁঠালের আমসত্বের মতই শুনায়। প্রকৃত মানবতাবাদী হতে হলে ন্যায়-অন্যায়ের চূড়ান্ত বিচারে বিশ্বাস করতেই হবে। আর ন্যায়-অন্যায়ের চূড়ান্ত বিচারে বিশ্বাস করতে হলে মৃত্যুপরবর্তী জীবন ও বুদ্ধিমান স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসী হতেই হবে। এর বিকল্প কোন পথই যে খোলা নেই!
হিটলারের মতো গণহত্যাকারীদের কেন বিচার হবে না – এই প্রশ্নের যৌক্তিক কোন জবাব না দিয়ে (অপ)বিজ্ঞান আর (কু)যুক্তিবাদ এর ছদ্মাবরণে নাস্তিকতা প্রচার সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক ও অমানবিক। আর ডারউইনবাদ হচ্ছে বস্তুবাদ তথা নাস্তিকতার নব্য ভার্সন, যদিও ডারউইন নিজে যেমন স্বঘোষিত নাস্তিক ছিলেন না তেমনি আবার কোন ধর্মের বিরুদ্ধেও কখনো মিথ্যা অপপ্রচার চালাননি। অথচ নাস্তিক ডারউইনবাদীরা ধর্মের বিরুদ্ধে তাঁকে অপব্যবহার করছেন।
নাস্তিকরা (অপ)বিজ্ঞান আর (কু)যুক্তিবাদ এর আড়ালে সকল প্রকার ইভিলের জন্য ধর্ম ও স্রষ্টাকে দায়ি করে আমজনতাকে বোকা বানিয়ে একদিকে যেমন মানবতাবিরোধী ভয়ঙ্কর ডগমা প্রচার করছেন অন্যদিকে আবার আবল-তাবল বই-পুস্তক লিখে নিজেদের পকেটও ভারি করছেন। বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ তাদের মুখের বুলি মাত্র। ভাবসাব দেখে মনে হবে যেন “বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ” তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদের সাথে তাদের বিশ্বাসের সংঘাত থাকতে পারে, যেটা তারা আপডেট করতে নারাজ, কিন্তু তাদের নিজস্ব সমস্যাকে অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়াটা শুধু অযৌক্তিকই নয় সেই সাথে অনৈতিকও বটে। সমস্যার প্রকৃত উৎসে না যেয়ে তারা অত্যন্ত সস্তাভাবে সকল প্রকার ইভিলের জন্য ধর্মকে দায়ী করে নিজেদের ফায়দা লোটার চেষ্টায় রত। নাস্তিক্য ও সেক্যুলার আইডিওলজির উপর ভিত্তি করে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের হত্যাকান্ডকে তারা বেমালুম চেপে যেয়ে বারংবার শুধু ধর্মকেই দায়ী করে যাচ্ছে। অথচ যুগে যুগে ধর্ম এসেছে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধান নিয়ে, যদিও কালের পরিক্রমায় মূল ধর্মের সাথে কিছু কুসংস্কার ও ডগমা যোগ হয়ে ধর্মের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ব্যহত করেছে। মূল ধর্ম কোন ভাবেই মানুষকে খাঁচায় তথা দাসত্বের বন্ধনে বন্দি করতে আসেনি – কোন ভাবেই সাধারণ মানুষের উপর হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করতে আসেনি। বরঞ্চ মনুষ্য নির্মিত খাঁচা তথা মানুষ হয়ে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে এসেছে – নির্যাতক-নিপীড়কদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষার জন্য এসেছে।
কিছু অনুসারীদের কর্মকাণ্ড দেখে ধর্মকে ‘ওপিয়াম’ মনে হলেও ধর্ম নিজে যে ‘ওপিয়াম’ নয় সে বিষয়ে কোনই সন্দেহ নেই। প্রকৃতপক্ষে ধর্মই সকল প্রকার ওপিয়ামখোর ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। আর এ কারণে ওপিয়ামখোর ও সন্ত্রাসীরাই ধর্মকে ভয় পায়। সৎ ও ভদ্র লোকজন কখনো ধর্মকে ভয় পায় না। কারণ ভয় পাওয়ার মতো তো কিছু নেই।

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৫

কুরআনের বিরুদ্ধে ২৫টি অভিযোগের জবাব

সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথা বলার মধ্যে লজ্জা-শরমের কিছু নাই। তবে এমন কিছু বলতে হলে যুক্তি ও মনোবল সহকারে বলতে হবে। শুধু শুধু জঙ্গলের আশেপাশে পিটিয়ে কোন লাভ হবে না। আরো উল্লেখ্য যে, একটি আয়াত দিয়ে কোরআনের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগকে যদি প্রমাণ করা না যায় তাহলে কিন্তু সম্পূর্ণ কোরআন দিয়েও তা প্রমাণ করা সম্ভব নয়। যেমন কেউ যদি একটি আয়াত দিয়ে কোরআনের পৃথিবীর ঘুর্ণনকে থামিয়ে দিতে না পারে তাহলে কিন্তু সম্পূর্ণ কোরআন দিয়েও সেটা করা সম্ভব নয়। অনুরূপভাবে, একটি আয়াত দিয়ে কোরআনের পৃথিবীর আকারকে ডিস্কের মতো সমতল বানানো না গেলে সম্পূর্ণ কোরআন দিয়েও কিন্তু তা সম্ভব নয়। অথচ কোরআনের বিরুদ্ধে প্রায় প্রত্যেকটি অভিযোগকে প্রমাণ করার জন্য একাধিক আয়াতের সাথে হাদিস পর্যন্ত নিয়ে এসে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে লেখার কলেবড় বাড়ানো হয়। এগুলো হচ্ছে অসচেতন পাঠকদেরকে বিভ্রান্ত করার ধান্দা। যাহোক, এই লেখাতে কোরআনের বিরুদ্ধে বহুল প্রচলিত পঁচিশটি অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ-১: আয়াত ২২:৪৭ অনুযায়ী আল্লাহর এক দিন আমাদের ১০০০ বছরের সমান। অথচ আয়াত ৭০:৪ অনুযায়ী আল্লাহর এক দিন আমাদের ৫০,০০০ বছরের সমান। অতএব, বিষয় দুটি সাংঘর্ষিক!
22.47: Verily a Day in the sight of thy Lord is like a thousand years of your reckoning.
70.4: The angels and the spirit ascend unto him in a Day the measure whereof is (as) fifty thousand years.
জবাব: প্রথমত, সূরা দুটি ভাল করে পড়লে যে কারো বুঝার কথা যে, দুটি বিষয়ের প্রসঙ্গ আলাদা। প্রথম আয়াতে মানুষের কথা বলা হয়েছে এবং দ্বিতীয় আয়াতে অ্যাঞ্জেল ও স্পিরিটের কথা বলা হয়েছে। অতএব, কোন অসঙ্গতি নেই। দ্বিতীয়ত, এক জায়গাতে ১০০০ আর অন্য জায়গাতে ৫০,০০০ লিখা থাকলেই সাংঘর্ষিক হয় না। ধরা যাক, কেউ দু’সময়ে দু’রকম বক্তব্য দিলেন: (১) আমি ঢাকা থেকে কলকাতায় গিয়েছি ১ ঘন্টায়; (২) আমি ঢাকা থেকে কলকাতায় গিয়েছি ১৬ ঘন্টায়। সাদা চোখে দেখলে বক্তব্য দুটিকে সাংঘর্ষিক মনে হলেও বাস্তবে তা নয়। কারণ প্রথম বক্তব্যে এরোপ্লেন এবং দ্বিতীয় বক্তব্যে ট্রেন ব্যবহার করা হয়েছে, যদিও যানবাহনের কথা উল্লেখ করা হয়নি। কোরআনের আয়াতগুলোতে যানবাহন বা তার গতির কথা লিখা নেই। আয়াতগুলোতে এটাই বুঝাতে চাওয়া হয়েছে যে, স্রষ্টার সময়ের সাথে পার্থিব সময়ের কোন তুলনা হয় না। সেটা বুঝানোর জন্য কিছু উদাহরণও দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ-২: আয়াত ৫৪:১৯, ৬৯:৭, ও ৪১:১৬ একে-অপরের সাথে সাংঘর্ষিক। কারণ একেক আয়াতে একেক রকম সময় লিখা আছে!
54.19: For We sent against them a furious wind, on a Day of violent Disaster.
69.7: He made it rage against them seven nights and eight days in succession: so that thou couldst see the (whole) people lying prostrate in its (path), as they had been roots of hollow palm-trees tumbled down!
41.16: So We sent against them a furious Wind through days of disaster, that We might give them a taste of a Penalty of humiliation in this life; but the Penalty of a Hereafter will be more humiliating still: and they will find no help.
জবাব: আয়াতগুলো মোটেও সাংঘর্ষিক নয়। কারণ প্রথম আয়াতে কোন এক দিন দৈবদুর্বিপাক পাঠানোর কথা বলা হয়েছে – অর্থাৎ দৈবদুর্বিপাক শুরুর দিন। দ্বিতীয় আয়াত অনুযায়ী সেই দৈবদুর্বিপাক পর পর সাত রাত ও আট দিন ধরে স্থায়ী ছিল। তৃতীয় আয়াতে যেহেতু সময়ের উল্লেখ নেই সেহেতু এখানেও সাত রাত ও আট দিন ধরে নেয়া যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোন এক এলাকাতে সোমবার দৈবদুর্বিপাক শুরু হয়েছিল এবং সেটি সাত দিন স্থায়ী ছিল। অতএব, কোন অসঙ্গতি নেই।
অভিযোগ-৩: আয়াত ৩:৪২ অনুযায়ী মাতা মেরির সাথে একাধিক ফেরেশতা কথা বলেছেন অথচ আয়াত ১৯:১৭ অনুযায়ী একজন। তাহলে কোন্‌টা সঠিক?
3.42: When the angels said: O Mary! Lo! God hath chosen thee and made thee pure, and hath preferred thee above (all) the women of creation.
19.17: We sent unto her Our Spirit (Jibrael) and it assumed for her the likeness of a perfect man.
জবাব: প্রকৃতপক্ষে দুটোই সঠিক। কারণ দুটি আয়াতের প্রসঙ্গ-স্থান-কাল-পাত্র আলাদা। প্রথম আয়াতে অ্যাঞ্জেল্‌স্‌ এবং দ্বিতীয় আয়াতে স্পিরিট এর কথা বলা হয়েছে। কোরআন ও হাদিসে স্পিরিট বলতে জীব্রাঈল ফেরেশতাকে বুঝানো হয়েছে। তাছাড়াও প্রথম আয়াতের বক্তা হচ্ছেন অ্যাঞ্জেল্‌স্‌ এবং দ্বিতীয় আয়াতের বক্তা হচ্ছেন আল্লাহ নিজে। অধিকন্তু, প্রথম আয়াত অনুযায়ী একাধিক ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধিও কথা বলতে পারেন। অতএব, কোন অসঙ্গতি নেই।
অভিযোগ-৪: কোরআনে মাতা মেরিকে মূসা (আঃ) এর ভাই অ্যারন এর বোন হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে (১৯:২৮)। কিন্তু মাতা মেরি তো অ্যারনের নিজের বোন নয়!
জবাব: হাদিসে এই বিভ্রান্তির জবাব দেয়া হয়েছে। অ্যারাবিকে বোন বা পুত্রকে বংশধরও বলা হয়। বাইবেলেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে।
অভিযোগ-৫: কোরআনে যেহেতু বলা হয়েছে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া ভ্রুণের সেক্স কেউ জানতে পারবে না সেহেতু আলট্রাসনোগ্রাম এর বদৌলতে কোরআন ভুল প্রমাণিত হয়েছে!
31.34: Verily the knowledge of the Hour is with God (alone). It is He Who sends down rain, and He Who knows what is in the wombs. Nor does any one know what it is that he will earn on the morrow: Nor does any one know in what land he is to die. Verily with God is full knowledge and He is acquainted (with all things).
জবাব: ভ্রুণের ‘সেক্স’ তো দূরে থাক আয়াতের কোথাও ‘ভ্রুণ’ শব্দটাই উল্লেখ নেই। এমনকি যুক্তির খ্যাতিরে গর্ভাশয়ে ‘ভ্রুণ’ ধরে নিলেও বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করার সুযোগ রয়ে গেছে। যেমন: শিশু বাচ্চাটি বিশ্বাসী নাকি অবিশ্বাসী হবে; ভালো নাকি মন্দ হবে; ইঞ্জিনিয়ার নাকি ডাক্তার হবে; ইত্যাদি। সুতরাং ভুল ধরার মতো কোন রকম অবকাশ-ই যে রাখা হয়নি। তাছাড়াও এ-কথা কিন্তু বলা হয়নি যে, গর্ভাশয়ের মধ্যে কী আছে সেটা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানতে পারবে না।
অভিযোগ-৬: আয়াত ২:২৯ অনুযায়ী পৃথিবী আগে এবং আকাশমণ্ডলী পরে সৃষ্টি করা হয়েছে। অথচ আয়াত ৭৯:২৭-৩০ অনুযায়ী আকাশমণ্ডলী আগে এবং পৃথিবী পরে সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। অতএব, বিষয় দুটি পরস্পর-বিরোধী!
2.29: It is He Who hath created for you all things that are on earth; Moreover His design comprehended the heavens, for He gave order and perfection to the seven firmaments; and of all things He hath perfect knowledge.
79.27-30: What! Are ye the more difficult to create or the heaven (above)? (God) hath constructed it. On high hath He raised its canopy, and He hath given it order and perfection. Its night doth He endow with darkness, and its splendour doth He bring out (with light). And the earth, moreover, hath He extended (to a wide expanse).
জবাব: প্রথমত, আয়াতগুলোতে আসলে পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলী সৃষ্টির কথা বলা হয়নি। বরঞ্চ সৃষ্টির পরবর্তীতে পৃথিবীর উপরিভাগে সৃষ্ট জিনিস এবং আকাশমণ্ডলীর ডিজাইন, অর্ডার, ও পারফেকশনের কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, কোন আয়াতেই সুস্পষ্ট করে ক্রোনলজিক্যাল অর্ডার উল্লেখ নেই। আরও লক্ষ্যণীয় যে, প্রথম আয়াতে আকাশমণ্ডলী (বহুবচন) এবং দ্বিতীয় আয়াতে আকাশ (একবচন) উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরও পরস্পর-বিরোধী হয় কী করে!
অভিযোগ-৭: কোরআনে যেহেতু পঙ্কিল জলাশয়ে সূর্য অস্ত যাওয়ার কথা লিখা আছে (১৮:৮৬) সেহেতু অবৈজ্ঞানিক!
[Pickthal]: When he (Zul-Qarnain) reached the setting-place of the sun (black sea), he found it setting in a muddy spring, and found a people thereabout. We said: O Dhu'l-Qarneyn! Either punish or show them kindness.
[Asad]: When he came to the setting of the sun, "it appeared to him (Zul-Qarnain) that it was setting in a dark, turbid sea;" and nearby he found a people [given to every kind of wrongdoing]. We said: “O thou Two-Horned One! Thou mayest either cause [them] to suffer or treat them with kindness!"
জবাব: প্রথমত, কোরআনের কোথাও আল্লাহ নিজে পঙ্কিল জলাশয়ে সূর্য অস্ত যাওয়ার কথা বলেননি। যুলকার্নাইন যা দেখেছেন তার বর্ণনা দেয়া আছে। দ্বিতীয়ত, এই আয়াত অনুযায়ী সূর্যাস্তের ‘সময়’ অথবা ‘স্থান’ যে কোনটি হতে পারে। আয়াতটির সঠিক অনুবাদ হবে ‘It appeared to him.’ তবে ‘He found’ বা ‘It appeared to him’ যেটাই হোক না কেন, আল্লাহ কিন্তু যুলকার্নাইন যা দেখেছেন সেটাই বর্ণনা করেছেন। তৃতীয়ত, একদম প্রথম থেকেই সূর্যকে একটি জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড হিসেবে মানুষ জেনে এসেছে। এজন্য সূর্যকে ‘সান গড’ হিসেবে ওয়ার্শিপও করা হয়। সেই জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড প্রতিদিন সন্ধায় পানিতে ডুব দিয়ে পরদিন সকালে আবার পানি থেকে জ্বলে ওঠে? নিতান্তই হাস্যকর! যারা কোরআনের এই আয়াত পড়ে সূর্যকে আক্ষরিক অর্থে পানিতে ডুবা-উঠা বোঝেন তাদের যৌক্তিকতা ও সততা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের বর্ণনাটি এসেছে আসলে প্রচলিত কথা-বার্তার উপর ভিত্তি করে। লোকজন সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের দৃশ্য দেখার জন্য কিন্তু ঠিকই সমুদ্রের তীরে যায়। সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময় জানার জন্য ঠিকই পেপার-পত্রিকা পড়ে। অথচ একই কথা কোরআনে লিখা থাকাতে অবৈজ্ঞানিক অবৈজ্ঞানিক বলে চিৎকার-চেঁচামেচি করা হয় – যাকে বলে দ্বৈত নীতি। পক্ষপাতদুষ্ট অথবা মস্তকধোলাই না হলে আয়াতটি পড়ে কারো মনেই সন্দেহের উদ্রেক হওয়ার কথা নয়। কারণ সংশয় করার মতো আদপেই কিছু নেই। সংশয়েরও তো মা-বাপ থাকা উচিত! যে কেউ আয়াতটির আগে-পরে কিছু আয়াত পড়লে বুঝতে পারবেন যে, বিষয়টিকে একটি স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবেই বর্ণনা করা হয়েছে। আয়াতটিকে এভাবেও বর্ণনা করা যায়: When he reached at Cox’s Bazar Sea beach (a sun setting place), he found the sun setting in the Bay of Bengal. সমস্যাটা কোথায়? আরো মজার কাহিনী হচ্ছে, সূর্যকে যদি সত্যি সত্যি পানিতে ডুব দেয়ার কথা বলা হতো এবং পৃথিবীকে যদি সত্যি সত্যি সমতল ও অনড় মনে করা হতো, যেভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তাহলে তো সূর্য পশ্চিম দিকে ডুব দিয়ে আবার পশ্চিম দিক থেকেই উদিত হওয়ার কথা। অনুরূপভাবে, পূর্বদিকে ডুব দিকে আবার পূর্বদিক থেকেই উদিত হওয়ার কথা। কোরআনে এরকম কিছু কি বলা আছে যে, সূর্য পশ্চিম দিকে ডুব দিয়ে পৃথিবীর নীচ দিয়ে দৌড় দিয়ে গিয়ে পূর্বদিক থেকে উদিত হয়? তবে বাইবলে কিন্তু আছে। দেখুন: “The sun also ariseth, and the sun goeth down, and hasteth to his place where he arose.” (Ecclesiastes 1:5) মুহাম্মদ (সাঃ) বাইবলের এই ‘চমৎকার’ আয়াতটি কপি করলেন না কেন, যেভাবে অপপ্রচার চালানো হয়! কোরআন কিন্তু এবার অন্ধ সমালোচকদেরকে বোবা-কালাও বানিয়ে দিল!
অভিযোগ-৮: কোরআনে আকাশকে সলিড মনে করা হয়েছে (৩১:১০)। তা না হলে পিলারের প্রশ্ন আসবে কেন!
31.10: He created the heavens without any pillars that ye can see; He set on the earth mountains standing firm, lest it should shake with you; and He scattered through it beasts of all kinds. We send down rain from the sky, and produce on the earth every kind of noble creature, in pairs.
জবাব: প্রথমত, কোরআনের কোথাও আকাশকে সলিড বলা হয়নি। দ্বিতীয়ত, কোরআনে সাধারণত ‘হেভেন্স (বহুবচন)’ বলতে পৃথিবী ছাড়া সম্পূর্ণ মহাবিশ্বকে এবং ‘হেভেন/স্কাই (একবচন)’ বলতে আকাশকে বুঝানো হয়েছে। অতএব, আয়াতের প্রথম অংশে ‘হেভেন্স’ বলতে গ্রহ-নক্ষত্রকে বুঝানো হয়েছে, আকাশকে নয়। আয়াতের দ্বিতীয় অংশে 'আকাশ' ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা অন্য অর্থে। তাছাড়া এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য পটভূমিকা জানারও দরকার আছে। যেমন বাইবল অনুযায়ী হেভেন্স এর পিলার আছে (Job 26:11)। ফলে সেই সময়ের অনেকে হয়তো তা-ই বিশ্বাস করতো। কোরআনে বিষয়টিকে সংশোধন করা হয়েছে। অর্থাৎ কোরআনে বলতে চাওয়া হয়েছে যে, হেভেন্স এর যে কোন পিলার নাই সেটা তো দেখাই যাচ্ছে! কোরআনে এভাবে আরো কিছু প্রচলিত বিশ্বাসকে সংশোধন করা হয়েছে।
অভিযোগ-৯: কোরআনে আকাশকে শামিয়ানা (সলিড ছাদ) বলা হয়েছে (২:২২) – অতএব অবৈজ্ঞানিক!
2.22: Who hath appointed the earth a resting-place for you, and the heaven/sky a canopy; and causeth water to pour down from the sky, thereby producing fruits as food for you. And do not set up rivals to God when ye know (better).
জবাব: আগেই বলা হয়েছে যে, কোরআনের কোথাও আকাশকে ‘সলিড ছাদ’ বলা হয়নি। সলিড ছাদ ব্যবহার করা হয় মূলত বৃষ্টির পানি ও সূর্যের আলো থেকে রক্ষার জন্য। ফলে আকাশকে ‘সলিড ছাদ’ মনে করা হলে সেই ছাদ ভেদ করে আবার বৃষ্টির পানি ও সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসে কীভাবে! কোরআনে ‘ক্যানোপি’ শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ক্যানোপি শব্দের অর্থ শামিয়ানা বা মশারি। শামিয়ানা ব্যবহার করা হয় মূলত সূর্যের ক্ষতিকর ও প্রখর তাপ থেকে রক্ষার জন্য। অর্থাৎ শামিয়ানা ভেদ করে সূর্যের আলো যেমন ভেতরে আসতে পারে তেমনি আবার সেই আলোর প্রখরতাও কমে যায়। মশারিও এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যেন একদিকে ক্ষতিকর মশার হাত থেকে রক্ষা হয় অন্যদিকে আবার মশারির মধ্যে আলো-বাতাসও ঢুকতে পারে – যাকে বলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা। অনুরূপভাবে, কোরআনে আকাশকে ‘শামিয়ানা’ বলতে একদিকে যেমন ক্ষতিকর কিছুর হাত থেকে রক্ষার কথা বলা হয়েছে (যেমন ক্ষতিকর রশ্মি) অন্যদিকে আবার শামিয়ানা ভেদ করে সূর্যের আলো আসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে – যেটি ১৪০০ বছর আগে কোনভাবেই জানা সম্ভব ছিল না। এবার আয়াতটা কিন্তু সমালোচকদের দিকেই বুমেরাং হওয়ার কথা (21:32 And We have made the heaven/sky a guarded canopy and yet they turn aside from its signs.)!
অভিযোগ-১০: আয়াত ১৭:১০৩ অনুযায়ী ফেরাউন পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিল অথচ আয়াত ১০:৯২ অনুযায়ী জীবিত ছিল! অতএব, আয়াত দুটি পরস্পর-বিরোধী!
17.103: When he pursued them, as he chased them out of the land, We drowned him, together with those who sided with him, all of them.
10.92: "Today, We will preserve your body, to set you up as a lesson for future generations." Unfortunately, many people are totally oblivious to our signs.
জবাব: আয়াত দুটি ভাল করে পড়লে যে কারো বুঝা উচিত যে, প্রথম আয়াত অনুযায়ী ফেরাউন পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিল এবং দ্বিতীয় আয়াতে তার দেহ সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। পরস্পর-বিরোধীতার তো কোন নাম গন্ধও নেই!
অভিযোগ-১১: কোরআনে শুটিং স্টার নিক্ষেপ করে ডেভিলদের তাড়া করার কথা লিখা আছে! ব্যাপারটা অবৈজ্ঞানিক নয় কি?
67.5: And verily We have beautified the world's heaven with lamps, and We have made them missiles for the devils, and for them We have prepared the doom of flame.
37.6-8: Lo! We have adorned the lowest heaven with an ornament, the planets. With security from every froward devil. They cannot listen to the Highest Chiefs for they are pelted from every side.
জবাব: প্রথমত, আয়াতে ‘শুটিং স্টার’ বলে কিছু নেই; ল্যাম্প বা প্ল্যানেট লিখা আছে। দ্বিতীয়ত, ল্যাম্প বা প্ল্যানেট নিক্ষেপ করার কথা লিখা নেই। ল্যাম্প বা প্ল্যানেট তো এমনি এমনি মুভ করে। তৃতীয়ত, এই আয়াতগুলো একেক জন অনুবাদক একেক ভাবে অনুবাদ করেছেন। চতুর্থত, অদৃশ্য জ্বীন বা ডেভিল যে কী ধরণের ক্রীয়েচার – বাস্তবে তাদের কোন অস্তিত্ব আছে কিনা – সেটা এখন পর্যন্তও জানা সম্ভব হয়নি। বিজ্ঞানীরাও জোর দিয়ে এর স্বপক্ষে বা বিপক্ষে কিছু বলতে পারবেন না। পঞ্চমত, এরকম ঘটনা কোথায় সংঘটিত হয় বা হয়েছে তারও সুস্পষ্ট কোন ইঙ্গিত নেই। অতএব, বিষয়টিকে অবৈজ্ঞানিক বলার কোন পথ-ই যে খোলা নেই!
অভিযোগ-১২: কোরআনে ছয় দিনে মহাবিশ্ব সৃষ্টির কথা লিখা আছে (৭:৫৪)। অথচ বিজ্ঞান অনুযায়ী এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হতে অনেক বেশী সময় লেগেছে। অতএব, কোরআনের বক্তব্য অবৈজ্ঞানিক!
[SHAKIR]: Surely your Lord is God, Who created the heavens and the earth in six periods of time, and He is firm in power.
[ASAD]: VERILY, your Sustainer is God, Who has created the heavens and the earth in six aeons, and is established on the Throne of His almightiness.
[Malik]: Surely your Lord is God Who created the heavens and the earth in six Yõme (time periods) and is firmly established on the throne of authority.
[Maulana Ali]: Surely your Lord is God, Who created the heavens and the earth in six periods, and He is established on the Throne of Power.
জবাব: বিশ্বসৃষ্টির বর্ণনা প্রসঙ্গে বাইবলে বলা হয়েছে, স্রষ্টা ছয় দিনে বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন এবং সপ্তম দিনে বিশ্রাম নিয়েছেন। এটাকে সাবাথ বা বিশ্রাম দিবস বলা হয় – ঠিক সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মতো। এমনকি বাইবলে সকাল-সন্ধ্যাও উল্লেখ আছে। ফলে কোরআনের কিছু কিছু অনুবাদক খ্রীষ্টানদের সর্বত্র প্রচলিত ‘ছয় দিনে বিশ্বসৃষ্টি’ বিশ্বাসের সাথে মিল রেখে কোরআনের এই আয়াতগুলোর অনুবাদ করেছিলেন। কিন্তু অনেক স্কলারের মতে কোরআনে ব্যবহৃত অ্যারাবিক শব্দের প্রকৃত অর্থ হওয়া উচিত ‘স্টেজ’ বা ‘পিরিয়ড’ বা ‘কাল।’ যাহোক, বাইবলের মতো কোরআনে যেহেতু সকাল-সন্ধ্যা তথা চব্বিশ ঘন্টায় দিন উল্লেখ নেই এবং ‘সপ্তম দিন’কে যেহেতু গুরুত্ব সহকারে ‘বিশ্রাম দিবস’ উল্লেখ করা হয়নি সেহেতু ‘Six Stages’ অথবা ‘Six Periods’ মেনে নিতে কারো সমস্যা থাকার কথা নয়। কোরআনের এই আয়াতগুলোতে আসলে প্রচলিত অর্থে সপ্তাহের ‘ছয় দিন’ বুঝানো হয়নি, যেটি বাইবলে বুঝানো হয়েছে। কারণ কোরআনে ‘সপ্তম দিন’ বা ‘বিশ্রাম দিবস’ বলে কিছু নেই।
অভিযোগ-১৩: কোরআনে নক্ষত্রপুঞ্জকে নিচের হেভেনে (৪১:১২) এবং চন্দ্রকে মধ্যভাগে (৭১:১৫-১৬) স্থাপনের কথা বলা হয়েছে! পুরাই অবৈজ্ঞানিক কথাবার্তা!
41.12: So He completed them as seven heavens in two Days, and He assigned to each heaven its duty and command. And We adorned the lower heaven with lights, and (provided it) with guard.
71.15-16: See ye not how God hath created seven heavens in harmony; And hath made the moon a light therein, and made the sun a lamp?
জবাব: প্রথমত, কোরআনে হেভেন বা আকাশকে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। একেক জন একেক ভাবে ব্যাখ্যা করেন। দ্বিতীয়ত, কোরআনে পৃথিবীকে বেজ বা রেফারেন্সও বলা হয়নি। ফলে ‘নিচ’ বা ‘উপর’ বলতে ঠিক কোন্ রেফারেন্স এর ভিত্তিতে বুঝানো হয়েছে সেটা বলা মুশকিল। অতএব, বিষয়টিকে কোনভাবেই অবৈজ্ঞানিক বলা যাবে না। তৃতীয়ত, ইউসুফ আলী ছাড়া অন্যান্য অনুবাদে চন্দ্রকে ‘মধ্যভাগে’ স্থাপনের কথাও লিখা নেই। একটি মাত্র অনুবাদ দেখেই তড়িঘড়ি করে মহা সিদ্ধান্তে পৌঁছলেই তো আর কোরআন অবৈজ্ঞানিক প্রমাণিত হবে না!
অভিযোগ-১৪: কোরআনে যেহেতু পর্বতমালাকে ভূমিকম্প প্রতিরোধের কথা বলা হয়েছে সেহেতু অবৈজ্ঞানিক (২১:৩১, ১৬:১৫)!
21.31: And We have set on the earth mountains standing firm, lest it should shake with them, and We have made therein broad highways (between mountains) for them to pass through: that they may receive Guidance.
16.15: And He has set up on the earth mountains standing firm, lest it should shake with you; and rivers and roads; that ye may guide yourselves.
জবাব: প্রথমত, কোরআনের কোথাও পর্বতমালাকে ভূমিকম্প প্রতিরোধ করার কথা বলা হয়নি। আয়াতে বলা হয়েছে “Lest it (the earth) should shake with you.” দ্বিতীয়ত, যদিও পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর দ্রুত বেগে ঘুরছে তথাপি পৃথিবীকে স্থির তথা অনড় মনে হয়। পৃথিবীর পৃষ্ঠভাগ ফুটবল বা বেলুনের মত মসৃণ হলে পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে হয়তো ঝাঁকুনির সৃষ্টি হতো। কোরআনে বলা হয়েছে যে, পৃথিবীর পৃষ্ঠভাগে পর্বতমালা স্থাপন করে ঝাঁকুনিকে প্রতিরোধ করা হয়েছে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও পর্বতমালাকে স্ট্যাবিলাইজার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ এই আয়াতগুলো নিয়েই বছরের পর বছর ধরে বোকার মতো হাসি-তামাশা ও কৌতুক করা হচ্ছে!
অভিযোগ-১৫: কোরআনে চন্দ্র ও সূর্য একই কক্ষপথে আবর্তনের কথা বলা হয়েছে (৩৬:৪০) এবং সেই সাথে মহাবিশ্বকে ভূ-কেন্দ্রিকও মনে করা হয়েছে (৩১:২৯)!
36.40: It is not permitted to the Sun to catch up the Moon, nor can the Night outstrip the Day: Each (just) swims along in (its own) orbit (according to Law).
31.29: Seest thou not that God merges Night into Day and he merges Day into Night; that He has subjected the sun, and the moon (to his Law), each running its course for a term appointed; and that God is well-acquainted with all that ye do?
জবাব: কোরআনের কোথাও চন্দ্র ও সূর্য একই কক্ষপথে আবর্তনের কথা লিখা নেই। তবে সেই সময় মানুষ এমন কিছুতে বিশ্বাস করতে পারে। কোরআনে বিষয়টিকে সংশোধন করা হয়েছে। অন্যথায় চন্দ্র ও সূর্য একে-অপরকে ধরার প্রশ্ন আসতো না। তাছাড়া কেউ যদি অনুমান করে বলেন: The sun cannot cause the moon to gravitate towards itself and the night and the day cannot lengthen or shorten other than the appointed measure – সেক্ষেত্রেও কিন্তু কারোরই কিছু বলার থাকবে না। অনুরূপভাবে, কোরআনের কোথাও মহাবিশ্বকে যেমন ভূ-কেন্দ্রিক বলা হয়নি তেমনি আবার সূর্যকে পৃথিবীর চারিদিকে আবর্তনের কথাও লিখা নেই। ভূ-কেন্দ্রিক মহাবিশ্বের ধারণা এসেছে গ্রীক ফিলোসফি ও বাইবল থেকে। আর এ কারণেই ভূ-কেন্দ্রিক মহাবিশ্বের বিশ্বাসে আঘাত হানার কারণে খ্রীষ্টান চার্চ বিজ্ঞানীদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছিল।
অভিযোগ-১৬: নিচের আয়াত দুটি পরস্পর-বিরোধী। কারণ প্রথম আয়াতে হেভেন্স ও পৃথিবীকে পৃথক করার কথা লিখা আছে অথচ দ্বিতীয় আয়াতে আবার তাদেরকে একত্রিত করার কথা বলা হয়েছে!
21.30: Have not those who disbelieve known that the heavens and the earth were of one piece, then We parted them, and we made every living thing of water?
41.11: Then turned He to the heaven when it was smoke, and said unto it and unto the earth: Come both of you, willingly or loth. They said: We come, obedient.
জবাব: আয়াত দুটির প্রসঙ্গ আলাদা। প্রথম আয়াতে মহাবিশ্বের সৃষ্টির কথা এবং দ্বিতীয় আয়াতে সৃষ্টির পরবর্তীতে ডিজাইনের কথা বলা হয়েছে। আরো লক্ষ্যণীয় যে, প্রথম আয়াতে ‘হেভেন্স’ এবং দ্বিতীয় আয়াতে ‘হেভেন’ ব্যবহার করা হয়েছে। কোরআনে সাধারণত ‘হেভেন্স’ বলতে পৃথিবী ছাড়া সম্পূর্ণ মহাবিশ্বকে বুঝানো হয়েছে এবং ‘হেভেন’ বলতে আকাশকে বুঝানো হয়েছে। ‘Come both of you (heaven and earth)’ বলতে পৃথিবী ও আকাশকে বুঝানো হয়েছে। এখন যেভাবে পৃথিবী ও আকাশ পাশাপাশি অবস্থান করে একটি ভারসাম্য রক্ষা করছে, পৃথিবী সৃষ্টির শুরুতে হয়তো সেরকম ছিল না। আয়াত ৪১:১১ তে কিন্তু কোনভাবেই হেভেন্স ও পৃথিবীকে একত্রিত করে ‘ওয়ান ইউনিট’ বানানোর কথা বলা হয়নি। কেউ কেউ আবার আয়াত ২১:৩০ এর মধ্যে বৈজ্ঞানিক অসঙ্গতিও খুঁজে পায়। তাদের ভাষায়, “বিগ-ব্যাং এর অনেক পরে যেহেতু পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে সেহেতু বিগ-ব্যাং এর সময় হেভেন্স ও পৃথিবী আলাদা হয় কীভাবে?” হ্যাঁ, সাদা চোখে দেখলে সেরকমই মনে হয়। পৃথিবীতে বসে যেহেতু কোরআন লিখা হয়েছে সেহেতু কোরআনে সম্পূর্ণ মহাবিশ্বকে ‘হেভেন্স’ ও ‘পৃথিবী’ দ্বারা দুটি পৃথক ব্লকে ভাগ করা হয়েছে (হেভেন্স + পৃথিবী = মহাবিশ্ব)। অনুরূপভাবে, মঙ্গল গ্রহে বসে কোরআন লিখা হলে সম্পূর্ণ মহাবিশ্বকে ‘হেভেন্স’ ও ‘মঙ্গল গ্রহ’ দ্বারা ভাগ করা হতো। অতএব, এই পৃথিবী বর্তমান অবস্থায় অনেক পরে এলেও বিগ-ব্যাং এর সময় কি মহাবিশ্বের একটি অংশ ছিল না? নাকি পৃথিবীটা পরবর্তীতে আবার শূন্য থেকে দ্বিতীয় বিগ-ব্যাং এর মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে!
অভিযোগ-১৭: কোরআনে নূহের প্লাবনের বর্ণনা অবৈজ্ঞানিক ও গাঁজাখোরী!
জবাব: কোরআনে বর্ণিত নূহের প্লাবনের বর্ণনাটা আগে দেখে নেয়া যাক:
“And it was revealed to Nuh: That none of your people will believe except those who have already believed, therefore do not grieve at what they do. And make the ark before Our eyes and (according to) Our revelation, and do not speak to Me in respect of those who are unjust; surely they shall be drowned. And he began to make the ark; and whenever the chiefs from among his people passed by him they laughed at him. He said: If you laugh at us, surely we too laugh at you as you laugh (at us). So shall you know who it is on whom will come a chastisement which will disgrace him, and on whom will lasting chastisement come down. Until when Our command came and water came forth from the valley, We said: Carry in it two of all things, a pair, and your own family– except those against whom the word has already gone forth, and those who believe.” (11:36-40)
কোরআনে এর চেয়ে বেশী কিছু নেই। কী মনে হয় পাঠক! কোন রকম ব্যাখ্যাতে যাওয়ার দরকার আছে কি? তথাপি সংক্ষেপে কিছু পয়েন্ট তুলে ধরা হচ্ছে: (১) কোরআনে নূহের প্লাবনের দিন-তারিখ ও জাহাজের আকার-আকৃতি উল্লেখ নেই; (২) সম্পূর্ণ পৃথিবী পানিতে নিমজ্জিত ছিল – এরকম কোন কথা কোরআনে লিখা নেই, যেমনটি বাইবলে আছে; (৩) কোরআনে যেমন সরাসরি ‘লোকাল প্লাবন’ লিখা নেই তেমনি আবার ‘গ্লোবাল প্লাবন’ বলেও কিছু উল্লেখ নেই। অতএব, কোরআনে নূহের প্লাবনকে জোর করে ‘গ্লোবাল প্লাবন’ বানিয়ে দেয়ার মধ্যে কোন যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। কোরআনে সুস্পষ্টভাবে নূহ্ (আঃ) ও তাঁর অনুসারীদের কথা বলা হয়েছে। ফলে কোরআনের বর্ণনা অনুসারে ঘটনাটি শুধু নূহের জনগোষ্ঠির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হওয়ার কথা। একটি নির্দিষ্ট এলাকাতে বড় কোন প্লাবন হওয়াটা অসম্ভব হবে কেন? ‘Carry in it two of all things’ দ্বারা মানুষ ও পশু-পাখির সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। এমনও হতে পারে যে, নূহের পরিবার ও আশেপাশে থেকে হাতের কাছে যা পাওয়া যায় তার মধ্যে থেকেই এক জোড়া করে নেয়া হয়েছে। কোন এলাকাতে আচমকা বন্যার পানি ঢোকা শুরু করলে যা হওয়া স্বাভাবিক সেরকমই কিছু একটা হয়ে থাকতে পারে। এরকম একটি বর্ণনা পড়ে অবৈজ্ঞানিক বা গাঁজাখোরী তো দূরে থাক নিদেনপক্ষে চা-খোরী বলতেও বিবেকে বাধা দেয়ার কথা। অনেকেই দেখা যায় বাইবলের কাহিনী দিয়ে কোরআনের সমালোচনা করে। বাইবলে নূহের মহাপ্লাবনের বর্ণনা যারা পড়েছেন তাদেরকে নিশ্চয় নতুন করে কিছু বলতে হবে না। সেখানে এমন কিছু উপাত্ত ও বর্ণনা আছে যেগুলোর কিছুই কোরআনে নেই। এবার স্বাভাবিকভাবেই যৌক্তিক একটি প্রশ্ন চলে আসে: বাইবলে বর্ণিত ‘বিস্তারিত অথচ অবৈজ্ঞানিক’ কাহিনীকে মুহাম্মদ (সাঃ) কীভাবে ‘কাট্-ছাঁট্’ করে কপি করে স্বাভাবিক ঘটনা বানিয়ে দিলেন!
অভিযোগ-১৮: আয়াত ৮৮:৬ অনুযায়ী দোযখ বাসীদের খাদ্য শুধুই ‘Bitter Dhari’ অথচ আয়াত ৬৯:৩৬ অনুযায়ী শুধুই ‘Washing of wounds.’ তাহলে কোন্‌টি সত্য?
জবাব: প্রথমত, এই আয়াত দুটি একেক জন অনুবাদক একেক ভাবে অনুবাদ করেছেন। দ্বিতীয়ত, এই খাদ্যগুলো আসলে মৃত্যুপরবর্তী জীবনে দোযখ বাসীদের জন্য। ফলে ‘Bitter Dhari’ ও ‘Washing of wounds’ এর মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কিনা সেটা কারো পক্ষেই বলা সম্ভব নয়। তবে বিষয়টিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। ফল বলতে সাধারণ অর্থে যে কোন ফল বুঝায়। কিন্তু তেঁতুল বলতে নির্দিষ্ট একটি ফলকে বুঝায়। অনুরূপভাবে, ‘Bitter Dhari’ ও ‘Washing of wounds’ এর মধ্যে একটি সাধারণ শ্রেণীর খাদ্য এবং অন্যটি নির্দিষ্ট কোন শ্রেণীর খাদ্য হতে পারে। নির্দিষ্ট শ্রেণীর খাদ্য হয়তো একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর দোযখ বাসীদের দেয়া হবে। অতএব, কোন অসঙ্গতি নেই।
অভিযোগ-১৯: কোরআনের অনেক আয়াতে 'সাত আসমান' এর কথা লিখা আছে (৬৫:১২, ২:২৯, ২৩:১৭, ২৩:৮৬, ৪১:১২, ৬৭:৩, ৭১:১৫, ৭৮:১২)। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানে 'সাত আসমান' বলে কিছু নেই!
জবাব: এই আয়াতগুলোর অনুবাদে কোন কোন অনুবাদক Seven heavens, কেউ কেউ Seven firmaments, এবং কেউ বা আবার Seven universes লিখেছেন। বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছেন যে, এই পৃথিবীর উপরিভাগে সত্যি সত্যি সাতটি স্তর আছে (যেমন: Troposphere, Stratosphere, Mesosphere, Thermosphere, Exosphere, Ionosphere, and Magnetosphere.)। অন্যদিকে আবার কিছু বিজ্ঞানী মাল্টিভার্সের সম্ভাবনার কথাও বলছেন। আরবিতে ‘সাত’ সংখ্যার দ্বারা আক্ষরিক অর্থে যেমন ৭ বুঝায় তেমনি আবার অনির্দিষ্টসংখ্যকও বুঝানো হয়। ফলে পৃথিবীর উপরিভাগে একাধিক স্তর হোক অথবা একাধিক মহাবিশ্ব হোক – যে কোন দিক দিয়ে কোরআনের সত্যতাই প্রমাণিত হবে!
অভিযোগ-২০: কোরআনে সাতটি পৃথিবীর কথা বলা হয়েছে (৬৫:১২)। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান তো এখন পর্যন্তও অন্য কোন পৃথিবী আবিষ্কার করতে পারেনি!
জবাব: এই আয়াতের দু’রকম ব্যাখ্যা আছে। প্রথম ব্যাখ্যা দ্বারা এই পৃথিবীর মধ্যভাবে সাতটি স্তরকে বুঝানো হয়। দ্বিতীয় ব্যাখ্যা দ্বারা এই পৃথিবীর অনুরূপ সাতটি আলাদা পৃথিবীকে বুঝানো হয়। বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছেন যে, এই পৃথিবীর মধ্যভাবে সত্যি সত্যি একাধিক স্তর আছে (যেমন: Crust, Mantle, Inner core, Outer core, etc.)। অন্যদিকে আবার কিছু বিজ্ঞানী একাধিক পৃথিবীর সম্ভাবনার কথাও বলছেন। এক্ষেত্রেও যে কোন দিক দিয়ে কোরআনের সত্যতাই প্রমাণিত হবে! কোরআনের মিরাকলের যেন শেষ নেই! নব্য বিজ্ঞানমনষ্ক ও অন্ধ-সমালোচকদের রাতের ঘুম হারাম!
অভিযোগ-২১: যে আল্লাহ সাধারণ ম্যাথ জানেন না, তিনি আবার এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা হন কীভাবে! কোরআনের ইনহেরিটেন্স ল্য’র মধ্যে গাণিতিক ভুল আছে!
জবাব: কোরআনের ইনহেরিটেন্স ল্য এতটাই জটিল যে, সেই ল্য পড়ে গাণিতিক ভুল ধরা তো দূরে থাক যে কারো মাথা ঘোরা শুরু করে দেবে। এমনকি কোন কোন স্কলার কোরআনের ইনহেরিটেন্স ল্য’কে মিরাকিউলাস বলে অভিহিত করেছেন। সত্যিই কিন্তু তাই। অথচ টম-ডিক-হ্যারি’রা নাকি আয়াতগুলো পড়েই গাণিতিক ভুল ধরে ফেলে! প্রাসঙ্গিক আয়াতগুলো পড়ে দেখা যেতে পারে (৪:৭-১২, ৭৬)। আয়াতগুলো পড়ে কোন রকেট সায়েন্টিস্টও সেখানে গাণিতিক ভুল ধরতে পারবেন না – এমনকি ভুল থাকলেও। ভুল ধরার জন্য প্রথমেই যেটা দরকার সেটা হচ্ছে সেরকম মন-মানসিকতা। যাহোক, যেভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, কোরআনের ইনহেরিটেন্স ল্য সেরকম অ্যাবসলিউট কিছু নয়। কারণ ৪:৮ নাম্বার আয়াতে সুস্পষ্ট করেই বলা আছে, “সম্পত্তি বণ্টনের সময় যদি আত্মীয়-স্বজন, এতীম, ও মিসকীন উপস্থিত হয়, তবে তা থেকে তাদের কিছু দেবে এবং তাদের সাথে সদালাপ করবে।” অতএব, এই আয়াত অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজন, এতীম, ও মিসকীনদেরকে সম্পত্তির কিছু অংশ দিয়ে দিলে গাণিতিক ভুল ধরার কোন সুযোগ থাকে না। ৪:৮ নাম্বার আয়াতকে বাদ দিয়ে যেভাবে ‘১’ হিসাব মিলানোর ফন্দি আঁটা হয়েছে, যদিও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে, কোরআনের হিসাব সেরকম সহজ-সরল কিছু নয়।
অভিযোগ-২২: নামাজ-রোযার সময়সূচি অবৈজ্ঞানিক – কারণ মেরু অঞ্চলে বা এরোপ্লেনে নামাজ-রোযা করা সম্ভব নয়!
জবাব: এ পর্যন্ত কাউকেই কোরআনের আলোকে বিষয়টির সমালোচনা করতে দেখা যায়নি। যদিও আরজ আলী মাতুব্বরের অনেক প্রশ্নই যৌক্তিক তথাপি উনি মূলত প্রচলিত বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে প্রশ্নগুলো করেছেন। কোরআনের সাথে সেগুলোর কোন সম্পর্ক নেই বললেই চলে। এখন কেউ যদি উনার সমালোচনাকে সত্য হিসেবে ধরে নিয়ে কোরআনকে অবৈজ্ঞানিক প্রমাণ করার চেষ্টা করে সেক্ষেত্রে সেটা কতটুকু যৌক্তিক হবে! তবে হ্যাঁ, প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী কিছু ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে নামাজ-রোযার সময়সূচিকে সন্দেহযুক্ত বলেই মনে হয়। কিন্তু তাতে তো কোরআন অবৈজ্ঞানিক হয়ে যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় যাওয়ার আগে কোরআনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি আয়াত দেখে নিতে হবে:
22.78: God has imposed No hardship on you in practicing your religion.
33.21: The Messenger of God has set up a good example for those among you who seek God and the Last Day, and constantly think about God.
কোরআনের নামাজ-রোযা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ফলে যেখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের প্রশ্ন নেই – যেখানে সময় পরিবর্তনের প্রশ্ন নেই – সেখানে নামাজ-রোযারও প্রশ্ন নেই। কোন এলাকাতে যদি বছরে একবার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয় সেই এলাকার লোকজন তাদের নামাজ-রোযার সময়সূচি এভাবে সাজাতে পারে: (ক) আয়াত ২২:৭৮ এর ভিত্তিতে বছরে মাত্র পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পারে; তবে রোযা করতে হবে না, কারণ একটানা ছয় মাস রোযা থাকা সম্ভব নয়; অথবা (খ) আয়াত ৩৩:২১ এর ভিত্তিতে মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর সুন্নাহ অনুসরণ করতে পারে। কোরআনে যে রুম রাখা হয়েছে সে অনুযায়ী আয়াত ২২:৭৮ ও ৩৩:২১ এর ভিত্তিতে যে কোন স্থানের লোকজন তাদের নিজেদের মতো করে নামাজ-রোযার সময়সূচি তৈরী করে নিতে পারে। এবার বিষয়টিকে কি অবৈজ্ঞানিক মনে হচ্ছে? তবে একতার স্বার্থে ৩৩:২১ এর ভিত্তিতে মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর সুন্নাহ অনুসরণ করাটাই বেশী যৌক্তিক।
অভিযোগ-২৩: আয়াত ৭:৫৪ অনুযায়ী ৬ দিনে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করা হয়েছে অথচ আয়াত ৪১:৯-১২ অনুযায়ী মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে ৮ দিন লেগেছে। অতএব, আয়াত দুটি সাংঘর্ষিক!
41.9: Say: What! do you indeed disbelieve in Him Who created the earth in two periods.
41.10: And He made in it mountains above its surface, and He blessed therein and made therein its foods, in four periods.
41.12: So He ordained them seven heavens in two periods, and revealed in every heaven its affair.
জবাব: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রের মতো না বুঝে সবগুলো সংখ্যা যোগ করলেই তো আর হলো না! কারণ সংখ্যাগুলো একে অপরের সাথে ওভারল্যাপও তো করতে পারে। যেমন কেউ যদি বলেন: বাড়িটা তৈরী করতে ৫০ দিন লেগেছে এবং রং করতে লেগেছে ৫ দিন। প্রশ্ন হচ্ছে, বাড়িটা তৈরী করতে মোট ৫৫ দিন নাকি ৫০ দিন লেগেছে? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ত ৫৫ দিন বলতে পারে তবে কলেজের ছাত্র কিন্তু ৫০ দিনই বলবে। যাহোক, কোরআনের কোথাও কিন্তু ৮ দিনে মহাবিশ্ব সৃষ্টির কথা লিখা নেই। এটি আসলে সমালোচকদের অজ্ঞতা অথবা নিজস্ব মনগড়া ব্যাখ্যা। কোরআনের বেশ কিছু আয়াতে যেহেতু ৬ দিন উল্লেখ আছে এবং আয়াত ৪১:৯-১২ তে যেহেতু ধাপে-ধাপে কিছু বর্ণনা দেয়া আছে সেহেতু মোট দিনের সংখ্যা ৬ দিন মাথায় রেখেই ওভারল্যাপিং দেখতে হবে। তবে হ্যাঁ, ৯ অথবা ১২ নাম্বার আয়াতে যদি ২ এর অধিক দিন অথবা ১০ নাম্বার আয়াতে যদি ৪ এর অধিক দিন লিখা থাকতো সেক্ষেত্রে কিন্তু কোনভাবেই ওভারল্যাপিং করানো সম্ভব হতো না। কোরআনের মিরাকল দেখলেন তো! অতএব, এখানে ব্যাখ্যার সুস্পষ্ট একটি রুম রয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে ৯ নাম্বার আয়াতের ২ দিন আলাদাভাবে গণনায় আসবে না – এই ২ দিন তার পরের আয়াতের সাথে মিলে যাবে।
অভিযোগ-২৪: কোরআনে পৃথিবীকে 'স্থির' বলা হয়েছে – অতএব অবৈজ্ঞানিক!
জবাব: প্রথমত, কোরআনের কোথাও পৃথিবীকে 'স্থির' তথা নিজ অক্ষের উপর না ঘোরার কথা বলা হয়নি। কোরআনের বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচারের মধ্যে এটিও একটি। দ্বিতীয়ত, কেউ কি কোরআন থেকে অকাট্য যুক্তির সাহায্যে দেখাতে পারবেন যে পৃথিবী সত্যি সত্যি ঘুরছে না? উত্তর হচ্ছে, মোটেও না। তাহলে বছরের পর বছর ধরে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে কেন! নিচের আয়াতগুলো দিয়ে তাদের দাবিকে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়।
15.19: And the earth We have spread out (like a carpet); set thereon mountains firm and immovable; and produced therein all kinds of things in due balance.
27.61: Who has made the earth firm to live in; made rivers in its midst; set thereon mountains immovable; and made a separating bar between the two bodies of flowing water.
আয়াতগুলোতে ‘Immovable’ শব্দটা দেখেই পৃথিবীকে বুঝানো হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়েছে! অথচ এখানে ‘Immovable’ বলতে পর্বতমালাকে বুঝানো হয়েছে, পৃথিবীকে নয়! দ্বিতীয় আয়াতে ইউসুফ আলীর অনুবাদে ‘Who has made the earth firm to live in’ বলতে পৃথিবীর শক্ত (Firm/Solid: Having a solid or compact structure that resists stress or pressure – Merriam-Webster Dictionary) উপরিভাগকে বুঝানো হয়েছে, যার উপর পর্বতমালা ও নদী-নালা তৈরী হয়েছে। পৃথিবীর উপরিভাগ মধ্যভাগের মতো গলিত পদার্থ দ্বারা তৈরী হলে তার উপর কিন্তু পর্বতমালা ও নদী-নালা তৈরী হতো না। পুরো আয়াতটা তো পড়তে হবে। তাছাড়া শাকিরের অনুবাদে কিন্তু ‘Restingplace’ লিখা হয়েছে। পিকথালের অনুবাদে ‘Fixed abode’ দেখে সম্ভবত ‘পৃথিবী ঘুরছে না’ ধরে নেয়া হয়েছে! ‘Fixed abode’ এর ব্যাখ্যা হচ্ছে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর প্রচণ্ড বেগে ঘোরা সত্ত্বেও মানুষ ও অন্যান্য জীবের সুবিধার জন্য পৃথিবীকে আপাতদৃষ্টিতে 'স্থির' অবস্থায় রাখা হয়েছে। অন্যথায় পৃথিবীতে জীবনযাত্রা ব্যহত হতে পারতো। কোরআনে অন্যান্য আয়াতে বলা হয়েছে যে, পৃথিবীর পৃষ্ঠভাগে পর্বতমালা স্থাপন করে ঝাঁকুনিকে প্রতিরোধ করা হয়েছে। নিচের আয়াত দুটি দিয়েও ‘পৃথিবী ঘুরছে না’ প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়।
30.25: And one of His signs is that the heaven and the earth subsist by His command.
35.41: It is God Who sustains the heavens and the earth, lest they cease (to function).
প্রথম আয়াতে ‘Subsist by His command’ বলতে ‘পৃথিবী ঘুরছে না’ ধরে নেওয়া হয়েছে! অথচ ‘Subsist’ শব্দের অর্থ কিন্তু ‘ঘুরছে না’ নয়। তাছাড়া আয়াতটাতে হেভেন ও পৃথিবী উভয়েরই কথা বলা হয়েছে, শুধুই পৃথিবীর কথা বলা হয়নি। দ্বিতীয় আয়াতে ‘Who sustains the heavens and the earth, lest they cease to function’ কথাটার দ্বারা পৃথিবী ও গ্রহ-নক্ষত্রের যথাযথ কার্য-প্রণালীকে বুঝানো হয়েছে, কোনভাবেই ‘পৃথিবী ঘুরছে না’ বুঝানো হয়নি।
কী মনে হয় পাঠক! উপরের আয়াতগুলো থেকে কি বলা যাবে যে পৃথিবী ঘুরছে না? কোরআনে পৃথিবীর ঘূর্ণনের স্বপক্ষে বা বিপক্ষে সরাসরি কোন আয়াত যেমন নেই তেমনি আবার এমন কোন আয়াতও নেই যেখানে থেকে কেউ অকাট্য যুক্তির সাহায্যে পৃথিবীর ঘূর্ণনকে থামিয়ে দিতে পারে। তবে কোরআনে পৃথিবীর ঘূর্ণনের স্বপক্ষেই কিছু ইঙ্গিত আছে (২৭:৮৮, ৫৫:১৭-১৮, ২১:৩৩)।
কোরআনের আলোকে পৃথিবী আসলে ঘূর্ণায়মান। যদিও পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর প্রচণ্ড বেগে ঘুরছে তথাপি আপাতদৃষ্টিতে পৃথিবীকে স্থির তথা অনড় মনে হয়। পৃথিবীর পৃষ্ঠভাগ ফুটবল বা বেলুনের মত মসৃণ হলে পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে হয়তো ঝাঁকুনির সৃষ্টি হতো। কোরআনে বলা হয়েছে যে, পৃথিবীর পৃষ্ঠভাগে পর্বতমালা স্থাপন করে ঝাঁকুনিকে প্রতিরোধ করা হয়েছে। ফলে কোরআনে যদি পৃথিবীকে ‘স্থির’ তথা ‘অনড়’ মনে করা হতো তাহলে পৃথিবীতে পর্বতমালা স্থাপন করে ঝাঁকুনি প্রতিরোধের কথা কোনভাবেই আসতো না। অতএব, কোরআনে সুস্পষ্টভাবে পৃথিবীর ঘূর্ণনের স্বপক্ষেই ইঙ্গিত আছে। অথচ এই আয়াতগুলো নিয়েই বোকার মতো বেশ হাসি-তামাসা ও কৌতুক করা হয় এবং সেই সাথে উল্টোদিকে কোরআনের পৃথিবীর ঘূর্ণনকে জোর করে থামিয়েও দেয়া হয়! কিছু নমুনা দেখুন:
31.10: He created the heavens without any pillars that ye can see; He set on the earth mountains standing firm, lest it (the earth) should shake with you.
16.15: And He has set up on the earth mountains standing firm, lest it (the earth) should shake with you.
21.31: And We have set on the earth mountains standing firm, lest it (the earth) should shake with them (mountains).
অভিযোগ-২৫: কোরআনে যেহেতু পৃথিবীকে বেড ও কার্পেট এর সাথে তুলনা করা হয়েছে সেহেতু পৃথিবীর আকারকে 'ডিস্কের মতো সমতল' মনে করা হয়েছে – অতএব অবৈজ্ঞানিক!
জবাব: প্রথমত, কোরআনের কোথাও পৃথিবীর আকারকে সমতল বলা হয়নি। কোরআনের বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচারের মধ্যে এটিও একটি। দ্বিতীয়ত, কেউ কি অকাট্য যুক্তি-প্রমাণের সাহায্যে কোরআনের পৃথিবীকে সমতল বানাতে পারবেন? উত্তর হচ্ছে, মোটেও না। নিচের আয়াতগুলো দিয়ে কোরআনের পৃথিবীকে সমতল বানানোর চেষ্টা করা হয়।
20.53: YUSUFALI: "He Who has, made for you the earth like a carpet spread out; has enabled you to go about therein by roads (and channels); and has sent down water from the sky." With it have We produced diverse pairs of plants.
PICKTHAL: Who hath appointed the earth as a bed and hath threaded roads for you therein and hath sent down water from the sky and thereby We have brought forth divers kinds of vegetation.
15.19: And the earth We have spread out (like a carpet); set thereon mountains firm and immovable; and produced therein all kinds of things in due balance.
51.48: And We have spread out the (spacious) earth: How excellently We do spread out!
71.19: And God hath made the earth a wide expanse for you.
তাদের যুক্তি হচ্ছে কোরআনে যেহেতু পৃথিবীকে 'বেড' ও 'কার্পেট' এর সাথে তুলনা করা হয়েছে সেহেতু কোরআনে পৃথিবীর আকারকে 'সমতল' মনে করা হয়েছে! কিন্তু এই ধরণের যুক্তিকে কু-যুক্তি ছাড়া অন্য কিছু বলা যেতে পারে না। কারণগুলো নিম্নরূপ:
১। সাদা চোখে পৃথিবীকে যেমন সমতল মনে হয় তেমনি আবার কিন্তু বৃত্তাকারও মনে হয়। বরঞ্চ সমতলের চেয়ে বৃত্তাকারই বেশী মনে হয়। কারণ উঁচু কোন পাহাড়ের উপর থেকে পৃথিবীকে কিছুটা হলেও উত্তল দেখায়। তা-ই যদি হয় তাহলে সাদা চোখের জ্ঞান দিয়ে পৃথিবীর আকারকে কোনভাবেই বেডের সাথে তুলনা করা হতো না। কারণ এই পৃথিবীর কারো বাড়িতে 'বৃত্তাকার বেড' আছে বলে মনে হয় না, যদি না কেউ এই লেখাটি পড়ে তড়িঘড়ি করে একটি বৃত্তাকার বেড বানিয়ে নেয়! সমালোচকরা সারা জীবন ধরে চতুর্ভুজাকৃতির বেডে শুয়ে থেকেও কোরআন পড়তে যেয়ে কোরআনের পৃথিবীকে জোর করে সমতল বানানোর জন্য সেই বেডকেই আবার ‘বৃত্তাকার’ কল্পনা করে! তাছাড়া তারা হয়তো ‘বেড’ বলতে কাঠ অথবা লোহার তৈরী চতুর্ভুজাকৃতির ফ্রেমকে বুঝে থাকে! ওয়েল, তা-ই যদি হয় তাহলে বেড এর চার পা ও স্ট্যান্ড থাকলেও কোরআনের কোথাও কিন্তু পৃথিবীর চার পা ও স্ট্যান্ড এর কথা বলা হয়নি! অধিকন্তু, যাদের বাড়িতে কাঠ অথবা লোহার তৈরী বেড নেই তারা কিন্তু মেঝেতেই শুয়ে থাকে। ফলে তাদের কাছে এই পৃথিবীটাই একটি বেড। যাহোক, বেড বলতে সাধারণত নরম গদিকে বুঝানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ বেড তাকেই বলা হয় যেখানে আরাম ও স্বাচ্ছন্দের সাথে বিশ্রাম নেয়া যায়। বেডে মানুষ যতটা আরাম ও স্বাচ্ছন্দের সাথে বিশ্রাম নিতে পারে, মরুভূমির উত্তপ্ত বালুচরে ততটা আরাম ও স্বাচ্ছন্দের সাথে বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে মরুভূমির উত্তপ্ত বালুচরকে কিন্তু বেড বলা যাবে না। বেড এর সাথে মরুভূমির পার্থক্য ইতোমধ্যে নিশ্চয় পরিস্কার। তাছাড়া বেড সাধারণত প্রটেকটিভ জায়গার মধ্যে রাখা হয় যাতে করে সূর্যের তাপ ও ক্ষতিকর রশ্মি, ঝড়-বৃষ্টি, হিংস্র জন্তু, ও বিষাক্ত কীট-পতঙ্গের হাত থেকে জীবন বাঁচানো যায়। এবার আসা যাক কোরআনের ক্ষেত্রে। কোরআনে পৃথিবীকে বেড বা কার্পেট এর সাথে তুলনা করে পৃথিবীর আকার-আকৃতিকে বুঝানো হয়নি। বরঞ্চ এই তুলনাটা অত্যন্ত যৌক্তিক ও তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা সবাই জানি এ পর্যন্ত যতগুলো গ্রহ-উপগ্রহ আবিষ্কার করা হয়েছে তার মধ্যে পৃথিবী একটি ব্যতিক্রমধর্মী গ্রহ, যেখানে পানি-বাতাস ও জীবের অস্তিত্ব আছে। অর্থাৎ পৃথিবী নামক গ্রহে মানুষ ও অন্যান্য জীব-জন্তু-উদ্ভিদ যত সহজে বসবাস করতে পারে, যত সহজে আরাম ও স্বাচ্ছন্দের সাথে বিশ্রাম নিতে পারে, সর্বোপরি যত সহজে বেঁচে থাকতে পারে, অন্য কোন গ্রহে যেয়ে তত সহজে বসবাস করা কিন্তু অসম্ভব। বেড এর সাথে উত্তপ্ত মরুভূমির যেমন সম্পর্ক – পৃথিবী নামক গ্রহের সাথে অন্যান্য গ্রহেরও অনুরূপ সম্পর্ক। আর এ কারণেই কোরআনে পৃথিবীকে বেড এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ কোরআনে পৃথিবীকে বেড এর সাথে তুলনা করে পৃথিবীকে বসবাস ও জীবন ধারণের উপযোগী বুঝানো হয়েছে, পৃথিবীর আকার-আকৃতিকে বুঝানো হয়নি! আয়াতগুলো পড়লেই বুঝা যায়। বেডকে যেমন প্রটেকটিভ জায়গার মধ্যে রাখা হয় তেমনি পৃথিবীকেও প্রটেকটিভ আবরণের মধ্যে রাখা হয়েছে (২১:৩২)।
২। কোরআনের এই আয়াতগুলোতে ‘Shape’ ও ‘Flat’ শব্দ দুটির কোনটিই ব্যবহার করা হয়নি। সুতরাং আয়াতগুলোতে আসলে কী বুঝাতে চাওয়া হয়েছে সেটাই বিবেচ্য বিষয়। প্রথমত, কিছু অনুবাদক ‘কার্পেট’ ও ‘বেড’ শব্দ দুটি ব্যবহারই করেননি। দ্বিতীয়ত, কার্পেটিং করতে হলে রাস্তা-ঘাট সরল রেখার মতো সমতল হতেই হবে, এমন আজগুবি কথা কে বলেছে! পাহাড়ের উপর দিয়ে যে রাস্তা তৈরী করা হয় সেটি তো বক্রাকার বা অর্ধবৃত্তাকার। সেই অর্ধবৃত্তাকার রাস্তায় কি কার্পেটিং করা হয় না? ফলে গোলাকার বস্তুর উপর কার্পেট বিছানো যাবে না কেন? ফুটবলের উপরের চামড়াকেও তো এক অর্থে কার্পেট বলা যেতে পারে। কেস ডিসমিস। ঘরের মেঝেতে মানুষ কার্পেট বিছায় মূলত কিছু কারণে: মেঝে খসখসে হলে; মেঝে ঠাণ্ডা হলে; মেঝের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য; ইত্তাদি। রাস্তায় যানবাহন চলাচলের সুবিধার জন্য যেমন কার্পেটিং করা হয়, পৃথিবীর পৃষ্ঠভাগকেও মানুষের বসবাস ও ফসল ফলানোর উপযোগী করার জন্য কার্পেটিং করা হয়েছে। পৃথিবীর মধ্যভাগ বসবাস ও ফসল ফলানোর উপযোগী নয়। বেডের উপর মানুষ যেমন বিশ্রাম নিতে পারে তেমনি পৃথিবীর পৃষ্ঠেও বিশ্রাম নিতে পারে। আর এ কারণেই পৃথিবীকে বেডের সাথে তুলনা করা হয়েছে, পৃথিবীর মধ্যভাগ বিশ্রামযোগ্য নয়। অতএব, প্রচলিত বেডের আকার সমতল না হয়ে অন্য কিছু হলেও সেই বেডের সাথেই হয়তো তুলনা করা হতো। তাছাড়া স্ফেরিক্যাল বেডও তো অসম্ভব কিছু নয়। পুরো পৃথিবীকে একটি বিশাল স্ফেরিক্যাল বেড ধরে নেয়াটা অযৌক্তিক হবে কেন? আয়াতগুলোতে কিছু শব্দ যেমন Bed, Carpet, Spread out, Expanse ইত্যাদি দেখেই পৃথিবীর আকারকে 'সমতল' ধরে নেয়া হয়েছে! কিন্তু Bed, Carpet, Spread out, Expanse ইত্যাদি বলতে যে সমতল হতেই হবে তার কোন যৌক্তিকতা নেই। কোরআনের কিছু আয়াত পড়ে অনুমান করা যায় যে, পৃথিবীটা বর্তমান অবস্থায় হুট করে আসেনি। ফলে ‘এক্সপ্যান্ড’ ও ‘স্প্রেড’ শব্দ দুটি কোরআনের জন্য অর্থবহ।
৩। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন আনুবাদক বিভিন্ন রকম শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেমন আয়াত ২০:৫৩ এর বিভিন্ন অনুবাদ লক্ষ্যণীয়:
[Qaribullah]: It is He who has made for you the earth as a cradle.
[Khalifa]: He is the One who made the earth habitable for you.
[YUSUFALI]: He Who has, made for you the earth like a carpet.
[PICKTHAL]: Who hath appointed the earth as a bed.
[SHAKIR]: Who made the earth for you an expanse.
তাহলে দেখা যাচ্ছে পাঁচজন অনুবাদক পাঁচ রকম শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং সবগুলোই আসলে যৌক্তিক যার ব্যাখ্যা ইতোমধ্যে দেয়া হয়েছে। কিন্তু অন্ধ-অজ্ঞ সমালোচকদের ‘বিভ্রান্তি’ এড়ানোর জন্য ক্বারিবুল্লাহ ও রাশাদ খলিফা যথাক্রমে ‘ক্রেডল’ ও ‘হ্যাবিটেবল’ ব্যবহার করেছেন। কেস ডিসমিস। অনুবাদের ক্ষেত্রে যে অনুবাদকে সবচেয়ে বেশী যৌক্তিক মনে হবে সেটা গ্রহণ করাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু বিভিন্ন অনুবাদ থেকে নিজের ইচ্ছেমতো কিছু শব্দ বেছে নিয়ে একটি গ্রন্থকে ভুল বা অবৈজ্ঞানিক প্রমাণ করার চেষ্টা করা অযৌক্তিক। কারণ অনুবাদের ক্ষেত্রে ‘বেনিফিট অব ডাউট’ কোরআন বা যে কোন গ্রন্থকেই দিতে হবে। কোরআনে এমন কোন আয়াত নেই যেখানে থেকে কেউ পৃথিবীর আকারকে অকাট্য যুক্তি দিয়ে সমতল বানাতে পারে।
এবার পজিটিভ অ্যাপ্রোচ নেয়া যাক। কোরআনে সমতল পৃথিবীর পরিবর্তে বরং স্ফেরিক্যাল পৃথিবীরই ইঙ্গিত আছে। যেমন: (ক) আয়াত ৮৪:৩-৪ তে মহাপ্রলয় দিবস সম্পর্কে বলা হয়েছে, “And when the earth is flattened out, and casts forth what is in it and becomes empty.” কোরআনের আলোকে পৃথিবীর আকার যদি সমতল-ই হতো তবে তাকে প্রলয়দিনে আবার সমতল বানানোর প্রশ্ন আসবে কেন, তাই না? সমতল পৃথিবীকে আবার সমতল বানানো এবং সেই সাথে খালি করার প্রশ্ন কিন্তু অবান্তর। পৃথিবীকে সমতল ও খালি করার প্রশ্ন তখনই আসবে যখন পৃথিবীর আকার স্ফেরিক্যাল হবে। (খ) কিছু স্কলারের মতে আয়াত ৭৯:৩০ তে পৃথিবীকে ডিমের মতো বলা হয়েছে। আরো দেখুন:
31.29: Seest thou not that God merges Night into Day and he merges Day into Night.
Note: Merging here means that the night slowly and gradually changes to day and vice versa. This phenomenon can only take place if the earth is spherical. If the earth was flat, there would have been a sudden change from night to day and from day to night.
39.5: He makes the Night overlap the Day, and the Day overlap the Night.
Note: The Arabic word used here is Kawwara meaning 'to overlap' or 'to coil' – the way a turban is wound around the head. The overlapping or coiling of the day and night can only take place if the earth is spherical.
55.17-18: Lord of the two Easts and the two Wests. Then which of the favours of your Lord will ye deny?
[Note: The question of two Easts and the two Wests does only arise if the earth is spherical.]
অতএব দেখা যাচ্ছে কোরআনের আলোকে পৃথিবীর আকার আসলে স্ফেরিক্যাল, কোনভাবেই সমতল নয়। প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর আকারকে বাস্তবে কোন কিছুর সাথেই তুলনা করা যায় না। কেউ কেউ বলেন কমলালেবুর মতো। কেউ কেউ আবার বলেন কুমড়ার মতো। তবে কোনটাই কিন্তু পুরোপুরি সঠিক নয়। ইন্টারনেটে পৃথিবীর অনেক ইমেজ আছে কিন্তু কমলালেবুর মতো ‘দুই সাইড চ্যাপ্টা এবং কিছুটা ভেতর দিকে ঢুকে গেছে’ এরকম কোন ইমেজ দেখা যায় না। আর তা-ই যদি হয় তাহলে পৃথিবীকে ডিমের সাথে তুলনা করাই বেশী যৌক্তিক। কারণগুলো হচ্ছে: (১) কমলালেবুর মতো ডিমও স্ফেরিক্যাল; (২) কমলালেবুর বোঁটা আছে, কিন্তু ডিম ও পৃথিবীর বোঁটা নেই; (৩) কমলালেবুর মধ্যে বিচি আছে, কিন্তু ডিম ও পৃথিবীর মধ্যে বিচি নেই; (৪) কমলালেবুর কেন্দ্রে কিছুটা ফাঁপা, কিন্তু ডিম ও পৃথিবীর কেন্দ্রে ফাঁপা নয়; (৫) কমলালেবুর মধ্যভাগ অনেকগুলো কোয়ার সমষ্টি এবং কোয়াগুলোকে একে অপর থেকে সহজে পৃথকও করা যায়, কিন্তু ডিম ও পৃথিবীর মধ্যেভাগ কমলালেবুর মতো নয়; (৬) ডিমের যেমন কয়েকটি স্তর আছে (শেল, শেলের নিচে পাতলা স্তর, সাদা তরল পদার্থের স্তর, হলুদ তরল পদার্থের স্তর, ইত্যাদি) পৃথিবীরও তেমনি কয়েকটি স্তর আছে (Crust, Mantle, Inner core, Outer core, etc.); (৭) ডিম ও পৃথিবী উভয়েরই পৃষ্ঠভাগ শক্ত পদার্থ এবং মধ্যভাগ নরম ও গলিত পদার্থ দ্বারা গঠিত। নিচের ছবিগুলোতে দেখুন তো পৃথিবীর আকারের সাথে কমলালেবু নাকি ডিমের সাদৃশ্য বেশী।

নোট: কোরআনে পৃথিবীকে সরাসরি স্ফেরিক্যাল ও ঘূর্ণায়মান উল্লেখ না করে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দেয়ার পেছনে যৌক্তিক একটি কারণ যেটা হতে পারে সেটা হচ্ছে, বিষয় দুটি সেই সময়ের মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতো এবং যার ফলে তারা হয়তো কোরআনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতো। এমনকি নিকট অতীতেই গ্যালিলিও ও ব্রুনোর কাহিনী কে না জানে! কারণ একদিকে যেমন সেই সময়ের মানুষের কাছে ‘প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাস’ বলতে পৃথিবীটা 'সমতল' ও 'অনড়' ছিল, অন্যদিকে আবার পৃথিবীটা যে সত্যি সত্যি স্ফেরিক্যাল ও ঘূর্ণায়মান সেটা তাদেরকে পরীক্ষা করে দেখানোও সম্ভব হতো না। ফলে বিষয় দুটি সত্য হলেও তাদের কাছে কোন তথ্যই বহন করতো না। অতএব, কোরআনের মূখ্য উদ্দেশ্য “পার্থিব ও অপার্থিব গাইডেন্স” ব্যর্থ হতে পারতো। কোরআনে তেমন কোন উক্তি নেই যেটা সেই সময়ের মানুষের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাসের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্যও মনে হতে পারে।
কোন ব্যাখ্যাতেই কিন্তু রূপক-টুপকের আশ্রয় নেয়া হয়নি। সুস্পষ্ট ভুল-ভ্রান্তি বা অসঙ্গতি বা অবৈজ্ঞানিক তথ্য বলতে যা বুঝায় সেরকম কিছু কোরআনে নেই। অনুবাদের উপর ভিত্তি করে সংশয় করার মতো যে দু-চারটি বিষয় আছে সেগুলোরও যৌক্তিক ব্যাখ্যা আছে। তবে সেই ব্যাখ্যাগুলো সন্তোষজনক কিনা – সেটা নির্ভর করবে ব্যক্তিবিশেষ ও ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর। সাধারণত প্রবাবিলিস্টিক কোন বিষয়ে বেনিফিট-অব-ডাউট এর ভিত্তিতে পজিটিভটাকেই বেছে নিতে হয়। এই যখন বাস্তবতা তখন ইসলাম-বিরোধী সাইটের উপর ভিত্তি করে কেউ ব্রেনওয়াশড হলে করার কিছু নাই! অজ্ঞ লোকজনকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ইসলাম-বিরোধী সাইটগুলোতে কোরআন, হাদিস, ও প্রচলিত বিশ্বাসকে একত্রে গুলিয়ে ফেলে মনের মাধুরি মিশিয়ে শত শত ভুল-ভ্রান্তি ও অসঙ্গতি লিস্ট করে রাখা হয়েছে যেগুলোর প্রায় আটানব্বই ভাগই গার্বেজ!